admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২৩ জুলাই, ২০২০ ৫:৫০ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশে আগামী ১ আগস্ট দেশব্যাপী পালিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা। সেই উপলক্ষে ইতোমধ্যে রাজধানী ছাড়া শুরু করেছেন মানুষ। তবে কয়েকদিন পর আরো বেশি মানুষ ঢাকা ছেড়ে গ্রামে যাবেন। তাছাড়া ঈদের সময় ধর্মীয়, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমও বেড়ে যাবে। এর ফলে ঈদের পর দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের হার বেড়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে যেতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে সংক্রমণের হার ২২ থেকে ২৫ শতাংশের মধ্যে উঠা-নামা করছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ সংক্রমণের হার শতকরা ২৫ ভাগ। কিন্তু ঈদের পর এই হার বেড়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে যেতে পারে। কারণ ঈদে ধর্মীয়, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম বেড়ে যায়। মানুষ শহর ছেড়ে গ্রামে ফিরবে। যানবাহন ও পশুর হাটে লোকসমাগম বাড়বে। সব মিলিয়ে ভাইরাসটিকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, করোনার সংক্রমনের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও গার্মেন্টস কারখানা খুলে দেয়া, গণপরিবহন চালু, লঞ্চ-ফেরিতে ঠাসাঠাসি করে যাতায়াত করা এবং রোজার ঈদ উপলক্ষে দোকানপাট খুলে দেয়ার কারণে ভাইরাসের সর্বোচ্চ সংক্রমণ শতকরা ২৫ ভাগে গিয়ে ঠেকে। ঠিক একইভাবে আসন্ন কোরবানির ঈদের পর কোভিড-১৯ এর বর্তমান চিত্র পুরোপুরি পাল্টে যেতে পারে। ঈদের ১৫ দিন পরই দেশে করোনাভাইরাসের সর্বোচ্চ সংক্রমণ হবে বলে মনে হচ্ছে। এরপরই ভাইরাসটি প্রতিরোধে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করতে হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে করোনা মোকাবেলায় সামাজিকভাবে কারোরই তেমন অংশগ্রহণ নেই। সে জন্যই ভাইরাসটি প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না। এটি প্রতিরোধ করতে হলে সমাজের প্রতিটা স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। পাড়া-মহল্লার ক্লাব, ওয়ার্ড কমিশনার, ছাত্র, যুবক, স্বেচ্ছাসেবক, স্থানীয় মুরব্বি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে করোনা প্রতিরোধ কমিটি গঠন করে কাজ করতে হবে। নিজেরা উদ্যোগী না হলে আইন প্রয়োগ করেও খুব বেশি সফলতা আসবে না উল্লেখ করে এই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত সামাজিকভাবে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেইনি। যদি সমাজের সবাইকে সম্পৃক্ত করে সম্মিলিতভাবে প্রচার-প্রচারণা এবং যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করা যায়, তাহলে করোনা প্রতিরোধ করা সম্ভব বলে মনে করি।