admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৩ নভেম্বর, ২০২১ ৮:৩১ অপরাহ্ণ
ইউরোপে বেহাল দশা, বিধিনিষেধে ফিরছে আবার! শীতের শুরুতেই নতুন করে করোনার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এই অঞ্চলের দেশগুলোতে করোনার সংক্রমণ বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, এবার শীতে করোনায় ভুগতে হবে গোটা ইউরোপকেই। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে ইউরোপে পাঁচ লাখ মৃত্যু হতে পারে। সংক্রমণ রুখতে ফের লকডাউন ও বিধিনিষেধে ফিরে যাচ্ছে দেশগুলো। জার্মানিতে হাসপাতালগুলোতে করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ব্যাপক সংক্রমণ প্রভাব ফেলছে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ ক্রিসমাসের ওপরও। অস্ট্রিয়ায় যাদের টিকা দেওয়া হয়নি তাদের ক্যাফে-রেস্তোরাঁয় যেতে নিষেধ করা হচ্ছে।
আংশিক লকডাউনের দিকে এগোচ্ছে নেদারল্যান্ডসও। করোনার ধাক্কা সামলাতে এখনও বিপর্যস্ত বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলো। বিশ্বজুড়ে টিকার কার্যক্রম চললেও সংক্রমণ ও মৃত্যু থামছেই না। প্রায় সব দেশেই কমবেশি মৃত্যু হচ্ছে। গ্রীষ্মজুড়ে ইউরোপের করোনা পরিস্থিতি সন্তোষজনকই ছিল। তবে শীত শুরু হতে না হতেই সংক্রমণ মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে।
গত সপ্তাহে পুরো বিশ্বের মোট সংক্রমণের অর্ধেকের বেশি ঘটেছে ইউরোপে। ব্রিটেন, রাশিয়া, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, অস্ট্রিয়া ও রোমানিয়ায় নতুন করে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। রাশিয়ায় করোনায় এক মাসেই ৪৪ হাজার জনের মৃত্যু হয়েছে। জার্মানিরও বেহাল দশা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ইউরোপে করোনায় মৃত্যু গত সপ্তাহে ১০ শতাংশ বেড়েছে। সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি ঘটছে নেদারল্যান্ডসে। অথচ এ দেশে ৮৫ শতাংশ টিকাকরণ হয়ে গেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত ১০ দেশের করোনা পরিস্থিতি অনেক বেশি উদ্বেগজনক। শুক্রবার ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এই সতর্কবার্তা দিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, মহামারির সামগ্রিক পরিস্থিতি উচ্চ ও দ্রুত ক্রমবর্ধমান সংক্রমণ হার এবং ধীর ও ক্রমবর্ধমান মৃত্যুর হার চিহ্নিত হয়েছে। সংক্রমণ হার, মৃত্যুর হার এবং হাসপাতাল ও আইসিইউ ভর্তি সবই আগামী দুই সপ্তাহে বাড়বে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
সাপ্তাহিক ঝুঁকি পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, সবচেয়ে উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে বেলজিয়াম, বুলগেরিয়া, ক্রোয়েশিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, ইস্তোনিয়া, গ্রিস, হাঙ্গেরি, নেদারল্যান্ডস, পোল্যান্ড ও স্লোভেনিয়া। আগামী কয়েক সপ্তাহে এসব দেশে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার ৫০ শতাংশ বাড়তে পারে। সংস্থাটি বলেছে, যেসব দেশে টিকা গ্রহণের হার কম সেসব দেশে সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি।
ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ডাটা অনুযায়ী, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, আইসল্যান্ড, লিচেনস্টেইন এবং নরওয়েসহ ইউরোপিয়ান ইকোনমিক এরিয়ার (ইইএ) শতকরা প্রায় ৬৫ ভাগ মানুষকে দুই ডোজ টিকা দেয়া হয়েছে। কিন্তু কয়েক মাসে এর গতি স্লথ হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় ইউরোপের দেশগুলোতে এই হার শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ। কিন্তু দ্বিধাদ্বন্দ্বের কারণে মধ্য ও পূর্ব ইউরোপ এবং রাশিয়ায় টিকা দেওয়ার ধারা ব্যাহত হচ্ছে।সংক্রমণ বাড়ছে জার্মানি, ফ্রান্স এবং নেদারল্যান্ডসে।
তবে এখন পর্যন্ত এক বছর আগের তুলনায় হাসপাতালে ভর্তি এবং মৃত্যুর হার অনেক কম। অনেক দেশে টিকা নেওয়ার হার অনেক বেশি। পাশাপাশি বুস্টার ডোজ ব্যবহার করা হয়েছে। সঙ্গে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখছে মানুষ। ফলে এই পরিস্থিতিতে পুরো অঞ্চলকে বিচার করা ঠিক নয়। তবে চিত্র ভিন্ন ওইসব দেশে, যেখানে টিকা নেওয়ার হার কম। মানুষ মুখে মাস্ক পরে না।