admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ৯:১৮ পূর্বাহ্ণ
ইউএনও ওয়াহিদা খানমের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত ইউএনও ওয়াহিদা খানমের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। তবে তিনি এখনো শঙ্কামুক্ত নন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের উপ-পরিচালক অধ্যাপক ডা. বদরুল আলম গণমাধ্যমকে এসব বিষয় জানিয়েছেন। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় আনা হয় ইউএনওকে। তিনি আরো বলেন, অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেটা সাকসেস হয়েছে কি না- সেটা এই মুহূর্তে বলা যাবে না। আমরা নিবিড়ভাবে তার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছি। কিছু সময় না যাওয়া পর্যন্ত তার ব্যাপারে বলা যাবে না। তবে আশার কথা হলো- ইউ এন ও ওয়াহিদার অপারেশন পূর্ববর্তী ও বর্তমান সব প্যারামিটার ভালো। এটা আশাব্যঞ্জক বলেন ডা. বদরুল আলম। ইউএনওকে দেখতে হাসপাতালে যান জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন
এর আগে চিকিৎসকরা জানান, হামলায় ইউএনও ওয়াহিদার মাথার বাম দিকটা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাথার কিছু অংশ ভেঙে গেছে এবং তা মস্তিষ্কের ভেতরে ঢুকে প্রেসার তৈরি করেছে। অপারেশনের মাধ্যমে সেটি অপসারণ করা গেলে অবস্থার উন্নতি হবে- এমন প্রত্যাশা থেকেই তার অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন তারা। বৃহস্পতিবার ভোর রাতে তার সরকারি বাসভবনের ভেন্টিলেটর ভেঙে ভেতরে ঢোকে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। এ সময় দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার এই নির্বাহী কর্মকর্তাকে এলোপাথারি কুপিয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় রেখে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। এ সময় তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখকেও কোপানো হয়।
পরে তাদের উদ্ধার করে প্রথমে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ওয়াহিদা খানমকে রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়। তবে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয় এবং রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অন্যদিকে, তার বাবা ওমর আলীকে রমেক হাসপাতালেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তার জ্ঞান ফিরেছে এবং এর পর ঘটনার খানিকটা বর্ণনাও দিয়েছেন তিনি। যদিও বাবা ও মেয়ের কেউই হামলাকারীদের চিনতে পারেননি বলে জানিয়েছেন। প্রসঙ্গত, অস্ত্রোপচারের আগে বিকেলে ইউএনওকে দেখতে হাসপাতালে যান জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। এ সময় ওয়াহিদা খানম তার সঙ্গে কথা বলেন এবং হামলাকারীকে চিনতে পারেননি বলে জানান। পরে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী।