admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১১:৩০ অপরাহ্ণ
লাখ টাকায় জাতীয় পরিচয়পত্র, চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার। একটি চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে সেটা আসল নয়, জাল পরিচয়পত্র। শুধু জাল জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরিই নয়, বরং সেই জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ঋণের ব্যবস্থাও করে দিতো ওই চক্র। বিনিময়ে পেয়ে যেত প্রাপ্ত ঋণের অন্তত ১০ শতাংশ।
ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার। শনিবার দিবাগত রাতে মিরপুরের চিড়িয়াখানা রোডের ডি-ব্লক এলাকায় অভিযান চালায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) লালবাগ বিভাগ। এ সময় জাল পরিচয়পত্র তৈরি চক্রের ওই সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়। এর পরই তাদের কাছ থেকে থেকে বেরিয়ে আসে এসব তথ্য। ডিবি সূত্রে জানা যায়, ওই চক্রের গ্রেপ্তার সদস্যরা হলেন- মো. মজিদ (৪২), সিদ্দার্থ শংকর সূত্রধর (৩২), সুমন পারভেজ (৪০), মো. আনোয়ারুল ইসলাম (২৬) এবং মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন (৪১)।
গ্রেপ্তারের সময় চক্রটির সদস্যদের কাছ থেকে দ্বৈত, জাল ও ডুপ্লিকেট ১২টি জাতীয় পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়।গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা প্রথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য দিয়েছে জানিয়ে পুলিশ বলছে, ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে কেউ ঋণখেলাপি হলে তার সিআইবি খারাপ হয়। এতে ওই ব্যক্তি পুনরায় ঋণের জন্য ব্যাংকে আবেদন করতে পারেন না। এ ধরনের ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে গ্রেপ্তার সুমন ও মজিদ ঋণ পাশ করিয়ে দেওয়ার কথা বলেন। আর সেটা করার জন্য প্রথমেই জাল জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি বাবদ প্রত্যেকের কাছ থেকে ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করতেন।
অন্যদিকে, ঋণ পাশ হলে সেই টাকার ১০ শতাংশ হারে নেওয়ার চুক্তি করতেন তারা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি চুক্তিতে রাজি হলে ওই জাল জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ঋণ পাশ করে দিতেন। এর পর চুক্তি অনুযায়ী প্রাপ্ত ঋণের টাকা থেকে ১০ শতাংশ হারে নিয়ে নিতেন তারা। অন্যদিকে, এ চক্রটির সহযোগী গ্রেপ্তার সিদ্দার্থ শংকর সূত্রধর এবং মো. আনোয়ারুল ইসলামও প্রত্যেকটি জাল জাতীয় পরিচয় পত্র তৈরি বাবদ ৩৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা করে নিতেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, ই-জোন কোম্পানির মাধ্যমে আউট সোর্সিংয়ে নিয়োগ করা নির্বাচন কমিশনের অধীনে খিলগাঁও ও গুলশান অফিসে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর হিসেবে কাজ করেন সিদ্দার্থ শংকর সূত্রধর ও আনোয়ারুল ইসলাম। ফলে তারা সহজেই নির্বাচন কমিশন অফিসের সফটওয়্যার ব্যবহার করে জাল জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করতে সক্ষম হতেন। জানা যায়, গ্রেপ্তার পাঁচ জন ব্যক্তি এভাবে অনেককে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে সহযোগিতা করেছেন। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে মিরপুর মডের থানায় মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।