হোম
আন্তর্জাতিক

দিল্লি থেকে শত মাইল হেঁটে বাড়ি ফেরা ভারতীয় শ্রমিক আবার কাজে ফিরতে চান

admin || মুক্ত কলম সংবাদ

প্রকাশিত: ১৪ জুন, ২০২০ ১২:০৪ অপরাহ্ণ

india-korona-mknewsbd

ফাইল ছবি

লকডাউনের সময় দিল্লি থেকে পায়ে হেঁটে নিজেদের বাড়ির দিকে যাচ্ছেন শ্রমিকরা (ছবি: ৯ই মে ২০২০) ভারতে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে হঠাৎ করেই লকডাউন ঘোষণার ফলে অন্য রাজ্যে কাজ করতে যাওয়া লক্ষ লক্ষ শ্রমিকদের দুর্দশা, তাদের অভুক্ত থাকার ছবি, শয়ে শয়ে কিলোমিটার পায়ে হেঁটে গ্রামে ফেরার কাহিনী এখন সারা বিশ্ব জানে। কিন্তু ওই শ্রমিকদের একাংশ সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়েও নিজেদের কাজের জায়গায় ফিরতে চাইছেন। তারা বলছেন গ্রামে কোনও রোজগার নেই, চাষ বা মাটি কাটার কাজও পাওয়া যাচ্ছে না।

পরিবার প্রতিপালনের জন্য তাই মুম্বাই, গুজরাতের মতো করোনা হটস্পটগুলোতেই তাদের ফিরে যেতে হবে। লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকে মুম্বাইয়ের গোরেগাঁওতে একটা ছোট ঘরে আটকে থাকতে বাধ্য হয়েছিলেন বীরভূমের বাসিন্দা হাসি শেখ আর মিছু শেখ। তারা রাজমিস্ত্রীর কাজ করতেন সেখানে। কাজ বন্ধ, রোজগার নেই, এদিকে খাবার শেষ। এদের মতো কয়েক কোটি পরিযায়ী শ্রমিক মুম্বাই, গুজরাত, দিল্লি, ব্যাঙ্গালোর বা তামিলনাডুতে আটকে পড়ে ছিলেন প্রায় দুমাস। এপ্রিলে লকডাউনের শুরুতে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরে যাওয়ার সময় বহু শ্রমিক পথেই মারা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছিল লক্ষ লক্ষ শ্রমিক অবশ্য নিজেরাই বাড়ি ফেরার জন্য পা বাড়িয়েছিলেন রাস্তায় – স্ত্রী, সন্তানদের নিয়েই। পথেই মারা গেছেন বহু মানুষ। মে মাসের গোড়া থেকে শ্রমিকদের ঘরে ফেরানোর জন্য ট্রেনের ব্যবস্থা করেছিল সরকার। সেই সব শ্রমিক স্পেশ্যাল ট্রেনে যারা বাড়ি ফিরেছেন, তারা মাসখানেকের মধ্যেই ভাবতে শুরু করেছেন যে আবার ফিরতে হবে কাজের জায়গায়।

হাসি শেখ আর মিছু শেখ বলছেন গ্রামে ফিরে এসে সংসার চালানোটাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়েও মুম্বাইতে ফিরে যেতে চাইছেন এরা। গ্রামে বসে থাকলে তো না খেয়ে মরতে হবে। তাই ফিরে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই, বলছিলেন হাসি শেখ। যদিও পশ্চিমবঙ্গ সরকার বলছে পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্প, যা ১০০ দিনের কাজ বলে পরিচিত, তার অধীনে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজের ব্যবস্থা রেখেছে। গ্রামে ফিরে আসা শ্রমিকদের রেশনও দেওয়া হচ্ছে। হাসি শেখের কথায়, মাঠে চাষের কাজ এখন শেষ। কাজকর্ম নেই। গ্রামে যদি কাজ পেতাম, তাহলে ফিরে যাওয়ার কথা ভাবতেই হত না। কিন্তু কোনও কাজই তো নেই। এতদিন ধরে বসে আছি। সংসার তো চালাতে হবে! মুম্বাইয়ের যা অবস্থা, তাতে কি আর কেউ নিজের থেকে সেখানে যেতে চায়! কিন্তু কী করব, ঝুঁকি নিয়েই ফিরে যাওয়ার কথা ভাবতে বাধ্য হচ্ছি, জানালেন মিছু শেখ। বীরভূমেরই বাসিন্দা আতাউল শেখও চাইছেন দ্রুত কাজে ফিরতে। চাষের কাজ শেষ, সরকারি ১০০ দিনের কাজও বিশেষ পাওয়া যাচ্ছে না। অতএব ফিরতেই হবে তাকে মুম্বাই। কিন্তু সেখানে করোনা সংক্রমণ যে ব্যাপক হারে ছড়িয়েছে, তাতে দুশ্চিন্তাও হচ্ছে।

নেপাল সীমান্তে আটকে পড়া ভারতীয় শ্রমিক চিন্তা তো হবেই। ওখানকার যা অবস্থা। কিন্তু এদিকে তো শোচনীয় অবস্থা, সংসার চালানোই যাচ্ছে না। ছেলে মেয়েগুলো পড়াশোনা করে, তাদের খরচ আছে! ওখানে যে মালিকের কাছে কাজ করতাম, তার সঙ্গে কথা হয়েছে। বলছে ফিরে যেতে। আর যদি এখন কাজ নাও হয়, তবুও বেতন দেবে তো বলেছে, বললেন আতাউল শেখ। ট্রেন এখনও চলছে না। তাই কোনও কোনও মালিক, বিশেষত নির্মান শিল্পে জড়িত শ্রমিকদের কাজের জায়গায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে দূরের রাজ্যগুলি থেকে বাস পাঠিয়ে দিচ্ছেন। বেশ কিছু শ্রমিক ইতিমধ্যে পাড়িও দিয়েছেন সেভাবেই।

লকডাউন চলার মধ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের সহায়তা দিচ্ছিল যেসব সংগঠন, তাদেরই অন্যতম বাংলা সংস্কৃতি মঞ্চ। সংগঠনটির প্রধান সামিরুল ইসলাম বলছিলেন, লকডাউনের সময়ে আমাদের সঙ্গে প্রায় ৭৫ হাজার বাঙালী শ্রমিক যোগাযোগ করে ছিলেন। আমাদের স্বেচ্ছাসেবকরা বলছেন যে তাদের মধ্যে অনেকেই ফিরে যেতে চাইছেন। কিছু মানুষ ইতিমধ্যেই ফিরেও গেছেন। মুম্বাইতে কয়েকটি শ্রমিকের গ্রুপ ফিরে গেছে বলে জানতে পেরেছি। এদের কথা হচ্ছে, করোনায় মরলে মরব, বাঁচলে বাঁচব। কিন্তু রোজগার তো করতে হবে।

এরা কাজে ফেরার জন্য উদগ্রীব হলেও এখনই সেই ঝুঁকি নিতে নারাজ মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা মনোরঞ্জন মন্ডল। কেরালা থেকে শ্রমিকদের জন্য বিশেষ ট্রেনে করে বাড়ি ফিরেছিলেন তিনি। আমার সঙ্গে মালিকের কোনও যোগাযোগ হয় নি এখনও। কিন্তু আমি ওখানে ফেরার কথা এখনও ভাবি নি। ওষুধ, ভ্যাক্সিন কিছুই এখনও বেরয় নি। এই অবস্থায় কাজে ফেরা যাবে না অন্তত আরও দু তিন মাস অপেক্ষা করি, তারপর ভেবে দেখব, বললেন মনোরঞ্জন মন্ডল। যে সরকারি প্রকল্পের অধীনে গ্রামীণ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়, তাতে কাজ পাওয়ার আবেদনও খুবই কম জমা পড়েছে। যেখানে প্রায় দশ লক্ষ শ্রমিক ভিন রাজ্য থেকে ফিরে এসেছেন, তার মধ্যে মাত্র ৫০ হাজার মানুষ ওই কাজের জন্য আবেদন করেছেন। এর একটা কারণ অবশ্য গ্রামীন কর্মসংস্থান প্রকল্পে দিনে ২০২ টাকা পাওয়া যায়, যেখানে অন্য রাজ্যে শ্রমিকের কাজে রোজগার করা যায় দিনে ৫ থেকে ৭শো টাকা।

ফেসবুক মন্তব্য

মতামত জানান :

সর্বশেষ খবর

হনুমাান এলো হাত কর্তনের বিচার চাইতে।
খুলনা 3 hours আগে

দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনে অত্যাধুনিক ডায়ালাইসিস মেশিনের উদ্বোধন।
রংপুর 6 hours আগে

সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে নবাগত ইউএনও সখিনা আক্তারের সঙ্গে মত বিনিময়।
রংপুর 9 hours আগে

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে কমিটি নিয়ে এন সি পির ক্ষোভ।
রংপুর 9 hours আগে

পঞ্চগড়ে রাষ্ট্রের স্বচ্ছতা ও তথ্য অধিকার আইনের ব্যবহার ও গুরুত্ব
তথ্য ও প্রযুক্তি 18 hours আগে

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে ১১ কোটি টাকা ব্যায়ে ডাম্পিং কম্পোস্টিং ষ্টেশন পৌরসভাকে
রংপুর 18 hours আগে

পঞ্চগড়ের সাব রেজিস্ট্রি অফিসে পুরাতন দলিল ও রেকর্ড পত্র বিনষ্ট
তথ্য ও প্রযুক্তি 19 hours আগে

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে ১০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ মমিন গ্রেপ্তার।
অপরাধ 19 hours আগে

বগুড়ার আদমদীঘিতে ধর্ষণ চেষ্টা মামলার আসামী ওসমান গ্রেপ্তার।
আইন-বিচার 19 hours আগে

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে জেন্ডার ভিত্তিক নাগরিক প্লাটফর্মের সেমিনার।
রংপুর 1 day আগে

পাঠকপ্রিয়

শিরোনাম :

কুড়িগ্রামে ঐতিহাসিক আসনে কঠিন চ্যালেঞ্জে জাপা,মাঠ গরম এনসিপি-বিএনপির। হাদীর ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় দিনাজপুর সীমান্ত ৪২ বিজিবির রেড অ্যালার্ট জারি। রোহিঙ্গা মেয়েরা পাচার ছাড়াও বিদেশীদের দ্বারা যৌন কাজে ব্যবহারের টার্গেট হয়ে উঠছে ঠাকুরগাঁওয়ে নানা কর্মসূচিতে হানাদার মুক্ত দিবস উদযাপিত। ঠাকুরগাঁও জেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ৪র্থ জেলা রোভার মুট-২০২৫। কুড়িগ্রামের রাজারহাটে প্রাণিসম্পদ সপ্তাহের প্রদর্শনী ও সমাপনী অনুষ্ঠিত। পার্বতীপুরে জাতীয় প্রাণি সম্পদ ও ডেইরি প্রকল্পের উদ্বোধন। রাণীশংকৈলে জাতীয় প্রাণীসম্পদ সপ্তাহ ও প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত পলাতক শেখ হাসিনার অগ্রণী ব্যাংকের লকার ভেঙে ৮৩২ ভরি স্বর্ণ জব্দ রাজশাহীতে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১০ জন ৩ ডিসেম্বর রংপুরে বিভাগীয় মহাসমাবেশ সফল করতে দিনাজপুরে ৮ ইসলামী দলের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত। দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে সব বাহিনী প্রস্তুত: সিইসি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৬ হাজার কৃষক পাচ্ছে বিনামূল্যে গম বীজ ও সার। মাত্র চার মাসের শিশু সুমাইয়া বাঁচতে চায়! পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় হেফাজতে ইসলামের নতুন কমিটি গঠন। ভূমিকম্পে সম্ভাব্য ক্ষতি কমাতে এখনই শক্তিশালী ও সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে: সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান রাজধানীতে  আজ থেকে ঘরে বসেই মেট্রোরেলের কার্ড রিচার্জ করবেন? নীলফামারীতে পাটবীজ উৎপাদনকারী চাষীদের প্রশিক্ষণ। আর কোনো পরিস্থিতি নেই যে নির্বাচন ব্যাহত হবে-ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল  ৫-বছরেও শেষ হয়নি ওয়াশব্লকের নির্মাণ কাজ-জনস্বাস্থ্য অফিস বলছেন বাদ দেন চা খাওয়ার জন্য কিছু নেন। পার্বতীপুরে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকারের দাবীতে কর্মী সভা। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় নদী বাঁচাও আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নাগরিক সমাবেশ। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ইউএনও এক গৃহহীন ভারসাম্যহীন নারীর পাশে দাঁড়ালো। ৮ দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর নার্সিং এসোসিয়েশন দিনাজপুর জেলা শাখার স্মারকলিপি ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে ইউনিয়ন সিএসওর লাইভস্টক সংলাপ সভা অনুষ্ঠিত বগুড়ায় প্রেম করে বিয়ে অতপর ভাড়া বাসায় স্ত্রীকে হত্যা করল স্বামী। দিনাজপুরে ৩ দিনব্যাপী উদ্যোক্তা মেলা ও পিঠা উৎসবের সমাপনী। দিনাজপুরের বিরলে শতাধিক নেতা-কর্মীর মামলা থেকে বাঁচতে ফ্যাসিস্ট আ,লীগ থেকে পদত্যাগ! অভিযোগ দিয়ে ও কাজ বন্ধ হচ্ছে না আদমদিঘীতে সরকারি জায়গা দখল করে করা হচ্ছে অবকাঠামো নির্মাণ! বগুড়ার কইপাড়ায় নববধূ শম্পা হত্যার অভিযোগ, যৌতুক দাবির জেরে স্বামী আটক