admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৩০ জুলাই, ২০২০ ৫:০৯ পূর্বাহ্ণ
অনলাইনে জিহাদি তৎপরতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা সাইট ইন্টেলিজেন্স বলছে, ইসলামিক স্টেট বুধবার ঢাকার একটি থানায় হামলার দায়দায়িত্ব স্বীকার করেছে। সাইটের পরিচালকে রিটা কাতজ্ একটি টুইট বার্তায় লিখেছেন, ঈদুল আজহার আগে তাদের নতুন দফা হামলা প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে ঢাকায় এই হামলা চালানো হয়েছে বলে আইসিসি দাবি করছে। মিস কাতজ্ বলছেন, ২০১৯ সালের অগাস্টের পর বাংলাদেশের রাজধানীতে আইসিসের এই প্রথম হামলা। তবে বুধবার ভোরে ঢাকার পল্লবী থানার ভেতর বিস্ফোরণ সম্পর্কে বাংলাদেশের পুলিশ বলেছে, এটি কোনো সন্ত্রাসী হামলা নয়, বরঞ্চ অপরাধীদের কাছ থেকে আগে উদ্ধার করা একটি বোমা বিস্ফোরিত হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, পল্লবী থানায় কোন আইইডি’র বিস্ফোরণ ঘটেনি, তবে সেখানে অপরাধীদের কাছ থেকে উদ্ধার করা যে বিস্ফোরক ছিল, তার বিস্ফোরণ ঘটায় পুলিশ সদস্যদের আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে।
ভোর পাঁচটা নাগাদ পল্লবী থানার ভেতরে ঐ বিস্ফোরণে পুলিশের চারজন সদস্যসহ মোট পাঁচজন আহত হন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয় যে একটি আইইডি-র (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) বিস্ফোরণ ঘটার ফলে সেখানে পুলিশ সদস্যদের আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। তিনি আরও বলেন, এটি কোন জঙ্গি তৎপরতা নয় বলেই তারা মনে করছেন। এর আগে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার ওয়ালিদ হোসেন সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, গোপন সূত্রের খবরে গতকাল তিনজন ভাড়াটে খুনিকে গ্রেপ্তার করেছিল পল্লবী থানার পুলিশ। তাদের কাছ থেকে দুইটি পিস্তল আর জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়, তার মধ্যে ওয়েইং মেশিনের (ওজন পরিমাপ করার যন্ত্র) মতো দেখতে একটি বস্তু ছিল।
২৯ জুলাই সকাল সাতটার দিকে সেই ওয়েইং মেশিনের মতো বস্তুটির বিস্ফোরণ ঘটলে চার জন পুলিশ সদস্য ও একজন সাধারণ নাগরিক আহত হয়। তাদের মধ্যে ওসি তদন্ত, একজন এসআই ও দুইজন পিএসআই রয়েছেন।
বিস্ফোরণের পরে একটি বোমার চিত্রঃ তবে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় সংবাদ মাধ্যমকে জানান, থানার মধ্যে একটি ছোট বোমার বিস্ফোরণ ঘটেছে। পল্লবী থানায় কোন আইইডি’র বিস্ফোরণ ঘটেনি, তবে সেখানে অপরাধীদের কাছ থেকে উদ্ধার করা যে বিস্ফোরক ছিল, তার বিস্ফোরণ ঘটায় পুলিশ সদস্যদের আহত হওয়া ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন এই ঘটনার পর পুলিশের বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তারা পল্লবী থানায় এসে তদন্ত শুরু করেছেন। আটককৃত ব্যক্তিদের এই ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই ওজন মাপা যন্ত্রের ভেতর বোমা স্থাপন করে রাখা হয়েছিল।
ঘটনাস্থল থেকে একজন সাংবাদিক বলছেন, সকাল ১১টার দিকে থানার ভেতরের একটি কক্ষে আরও দুইটি বোমার নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এমন সময়ে এ ঘটনা ঘটলো যখন সম্প্রতি দেশ জুড়ে জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। সেখানে পুলিশকে টার্গেট করে বা পুলিশ স্থাপনায় হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। শনিবার পল্টন এলাকা থেকে একটি বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়। তার আগের দিন শুক্রবার পল্টনে একটি বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে।