admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ৬:৫৪ অপরাহ্ণ
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ অব্যবস্থাপনা আর অনিয়মের মধ্যে চলছে ঠাকুরগাঁওয়ের পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম। জেলা কার্যালয়সহ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র গুলোর কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ভ‚ক্তভোগীদের অভিযোগ প্রতিনিয়তই নিম্নমুখী হচ্ছে সেবার মান। কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন মা, শিশুসহ স্থানীয়রা।জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় সূত্রে জানা যায় সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র গুলো সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত খোলা রেখে রোগীদের সেবা দিয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে এর চিত্র সম্পূন্ন ভিন্ন। জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায় ৩ টার পরিবর্তে অফিস বন্ধ হয়েছে দুপুর ১২টায়।
আবার কোথাও ৯টায় অফিস না খুলে খুলছেন ১০-১১টায়। আবার কোথাও দেখে মনে হয়েছে স্বাস্থ্য কেন্দ্র নয় যেন মটরসাইকেল গ্যারেজ। পরিবার পরিকল্পনা কর্মীদের মাঠে থাকার কথা থাকলেও বেশীর ভাগ কর্মীকেই মাঠে পাওয়া যায়নি। একই চিত্র শুধু ইউনিয়ন পর্যায় নয় জেলা পর্যায়েও। জেলা কার্যালয়ে কয়েদিন গিয়েও পাওয়া যায়নি হিসাব বিভাগের কোন কর্মকর্তাকে। জেলা কার্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী বলেন জেলা অফিসে জনবল সংখ্যা ১৯ জন। উপস্থিত থাকেন মাত্র ৭-৮ জন। আবার হিসাব বিভাগের লোকজন মন চাইলে আসেন, না চাইলে আসেন না। তারা বছরের প্রায় সময় যখন বেতন ভাতা নিতে হয় তখন আসেন।
নারগুন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের নূরে আক্তার বানু দুপুর ১২টায় বন্ধ করে বাড়িতে চলে যাচ্ছিলেন এমন সময় তার কাছে এখন কয়টা বাজে জানতে চাইলে বলেন দুপুর ১২টা। এখনই কেন বন্ধ করেছেন? অফিসে কেউ নাই। রোগীও আসে না, এই জায়গায় একাই থাকতে ভয় লাগে। নারগুন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক শামীমের হাজিরা খাতাতেও স্বাক্ষর পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে (০১৭২১৭৮৮৪৭২) একাধিকবার যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি। এফডাবিউএ সুলতানা বেগমের সাথেও মুঠোফোনে (০১৭১৮৪৮৪২৭৭) যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি।
শিবগঞ্জ (জামালপুর) উপ-স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের নৈশপ্রহরীর কাছে অফিস দেরিতে খোলার বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন আমি তো রাতেও ডিউটি করি, সে জন্য খোলতে দেরী হলো। পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক হারুন অর রশীদদের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন আমি প্রশিক্ষণে আছি। এফডাবিøউএ শাহেদা আক্তারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে বলেন আমি শহরে এসেছি। আপনি কি ছুটি নিয়ে গেছেন ? না । আমার ব্যক্তিগত কাজে এসেছি।
সালন্দর ইউনিয়নের পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক জীবন দেবনাথের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন আমি প্রশিক্ষণে আছি। নারগুন গ্রামের রোজিনা বেগম বলেন আগে পরিবার পরিকল্পনা থেকে মহিলা কর্মী আসতো। এখন কেউই আসেন না। ফলে অনেক মা বিভিন্ন রকম সমস্যায় ভ‚গছেন এবং স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে মায়েরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। একই কথা বলেন হাসিনা, রহিমাসহ অনেকে।
জামালপুর ইউনিয়নের পারপুগী গ্রামের রাহেলা বেগম বলেন পরিবার পরিকল্পনা কর্মীদের দেখাই মিলে না। ভগতগাজী গ্রামের রেনুবালা বলেন মায়েদের সমস্যা গুলো আগে পরিবার পরিকল্পনা কর্মীদের কাছে বলতে পারতাম এখনতো আসেই না। যার কারনে বিভিন্ন জনে বিভিন্ন সমস্যায় ভ‚গছেন। চরঙ্গী এলাকার আনোয়ার ক্ষোভ করে বলেন সরকারি হাসপাতালে আর আসবো না, ডাক্তার নাই, ডাক্তার পাওয়া যায় না, ঔষধ পাওয়া যায় না। শীবগঞ্জ বাজার এলাকার আক্তার আলী বলেন এদের কোন টাইম টেবিল নাই, কখনও ১০টা, কখনও ১১টায় আবার কখনও ঠিক নাই। সময়মতো খোলে না। রোগীও আর আগের মতো আসে না। সেবাও পায় না।
ঠাকুরগাঁও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক দেওয়ান মোর্শেদ কামাল কামাল বলেন পরিবার পরিকল্পনার জন্ম হয়েছে জনসংখ্যা সীমিত রাখার জন্য। মানুষের চাহিদার সাথে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে পরিবর্তন আনা হয়েছে। সময়ের আগে বন্ধের বিষয়টি কমন নয়। ছুটি না নিয়ে যাওয়াটা ব্যক্তিগত ব্যাপার এর দায় তাকেই নিতে হবে। কর্মী সংকট প্রকট। কর্মী সংকট থাকার কারনেও কার্যাক্রম কিছুটা ব্যাঘাত ঘটছে।