admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৩১ ডিসেম্বর, ২০২২ ৯:৩০ পূর্বাহ্ণ
আমির হোসেন,সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার বালিয়াঘাট সীমান্তের লাকমা এলাকা, চারাগাঁও সীমান্ত এলাকা ও টেকেরঘাট সীমান্ত এলাকা দিয়ে সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে স্থানীয় বেশ কয়েকটি কয়লা চোরাকারবারী সিন্ডিকেট চক্র দাপটের সাথে প্রতিদিন ও রাতের আঁধারে অবৈধ ভাবে ভারত থেকে হাজার বস্তা কয়লা নিয়ে আসছে বাংলাদেশে আসছে।
এ দিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাহিরপুর উপজেলার বীরেন্দ্র নগর সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে ভারত থেকে চোরাই পথে কয়লা পাচার করার সময় স্থানীয় বৈধ কয়লা ব্যবসায়ীরা বাঁধা দিতে গেলে চোরাকারবারি সিন্ডিকেট চক্রের সদস্যদে তাঁদের উপর হামলা করে। পরে দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় ২/৩ ঘন্টা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সংঘর্ষে দুই পক্ষের প্রায় ১০/১২ আহত হয়েছে বলেও জানাগেছে । এ নিয়ে চোরাকারবারি ও স্থানীয় বৈধ কয়লা ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনায় ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সরেজমিনে ঘুরে এলাকাবাসী সূত্রে নিয়ে জানা গেছে- জেলার তাহিরপুর উপজেলার গত প্রায় ৭/৬ মাস ধরে বড়ছড়া শুল্কস্টেশন সংলগ্ন টেকেরঘাট ও বালিয়ঘাট সীমান্তের লালঘাট, লাকমা, চুনাপাথর খনিপ্রকল্প, বরুঙ্গাছড়া ও রজনীলাইন এলাকা দিয়ে প্রতিদিন ও রাতের আঁধারে ভারত থেকে প্লাষ্টিকের বস্তা ভর্তি করে শতশত মেঃটন কয়লা পাচাঁর করে প্রথমে বসতবাড়ির ভিতরে মজুত করে রাখে চোরাকারবারীরা। পরে রাত গভীর হলে পাচাঁরকৃত সেই অবৈধ কয়লা ঠেলাগাড়ি বোঝাই করে বড়ছড়া শুল্কস্টেশনের বিভিন্ন ডিপুতে নিয়ে বিক্রি করা হয়।
এ ছাড়াও টেকের ঘাট বিজিবি ক্যাম্পের পিছনে অবস্থিত নদী দিয়ে অবৈধ কয়লা ইঞ্জিনের নৌকা বোঝাই করে এবং বালিয়াঘাট ক্যাম্পের সামনে দিয়ে পাটলাই নদী পথে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। তারপর নদী পথে শ্রীপুর-সোলেমান নগর এলাকা হয়ে নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা ও কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরবসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়। তবে সাংবাদিকদের তর্থ্যের ভিত্তিতে তাহিরপুর থানা পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা মাঝেমধ্যে চোরাই কয়লার বস্তা আটক করলেও নেয়া হয়নি এর সাথে জড়িত চোরা-কারবারি বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ। যার ফলে ভারত থেকে চোরাই কয়লা পাচার হয়ে আসার কারণে পাচারকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ওই সব কয়লা পাচারকারী সিন্ডিকেট সদস্যরা। সিন্ডিকেট চক্রটি এখন কয়লা পাচারের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করছে তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তের বেশ কয়েকটি পয়েন্ট।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানাযায় পাচারকৃত ওই সব চোরাই কয়লার প্রতিবস্তা (৫০ কেজি) অবৈধ কয়লা থেকে সাংবাদিক, পুলিশ ও বিজিবির নাম ভাঙ্গিয়ে ১৭০ টাকা করে চাঁদা উত্তোলন করে বালিয়াঘাট বিজিবি ক্যাম্পের সোর্স পরিচয়ধানকারী ৮টি মামলার আসামী ইয়াবা কালাম মিয়া, জিয়াউর রহমান জিয়া, ইদ্রিস আলী ও টেকেরঘাট ক্যাম্পের সোর্স পরিচয়ধারী ইসাক মিয়া গং। এসব সোর্স পরিচয়ধারীদের নেতৃত্বে সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে প্রতিদিন অবৈধ ভাবে ভারত থেকে শত শত মেঃটন চোরাই কয়লা পাঁচার করে দাপটের সাথে প্রশাসনকে বৃৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে বিক্রি করা হলেও এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়না বলে জানা গেছে।
খোঁজ নিয়ে আরো জানা যায়- তাহিরপুর থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ তরফদার থাকাকালীন সময় পাটলাই নদী, লাকম, টেকেরঘাট ও দুধেরআউটা গ্রামে একাধিক অভিযান চালিয়ে সোর্স ইয়াবা কালাম, জিয়াউর রহমান জিয়া, চোরাকারবারী রতন মহলদার, মানিক মহলদার সহ তাদের সিন্ডিকেট বিপুল পরিমান মাদকদ্রব্য, কয়লা ও নৌকা আটক করাসহ থানায় একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এ ছাড়াও সুনামগঞ্জ থেকে র্যাব এসে অভিযান চালিয়ে সীমান্ত এলাকা থেকে অস্ত্র, মদ, গাঁজা ও ইয়াবাসহ অনেক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে। পরে সোর্স ও চোরাকারবারীরা আদালত থেকে জামিন নিয়ে আবার তাদের অবৈধ কাজ পুরো দমে শুরু করে। তাই তাহিরপুর সীমান্ত চোরাচালান ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধ করার জন্য র্যাব ও পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরী প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বৈধ কয়লা ব্যবসায়ী ও সচেতন এলাকাবাসী।
এ ব্যাপারে তাহিরপুর সাংবাদিক মোজ্জামেল আলম ভূইয়া বলেন- চোরাচালানের বিরুদ্ধে আমরা (সাংবাদিকরা) চোরাচালান বন্ধে বিভিন্ন সময় টেকেরঘাট ও বালিয়াঘাট ক্যাম্পের দায়িত্বে থাকা বিজিবি কমান্ডারদের বারবার তথ্য দিয়ে আসলেও বিজিবির পক্ষ থেকে নেয়া হয়নি কোন উল্লেখ যোগ্য পদক্ষেপ। দেশের স্বার্থে চোরাচালানিদের বিরুদ্ধে তথ্য দিয়ে বিজিবিকে সহযোগিতা করলেও উল্টো মিথ্যা মামলা হয় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে।
এ ব্যাপারে তাহিরপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক আবু জাহান বলেন গত এক মাস পূর্বে দুই স্টিল বডি নৌকা বোঝাই করে পাঠলাই নদী দিয়ে যাচ্ছে এমন সংবাদ পেয়ে আমার কয়েকজন সাংবাদিক তাহিরপুর থানা পুলিশকে জানানোর পর ওই দুই নৌকা আটক করে থানা পুলিশ। দুঃখের বিষয় হলো দেশের স্বার্থে পুলিশ তথ্য দিয়ে চোরাই কয়লার নৌকা আটক করানোর অপরাধে আমিসহ ৩ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয় ওই চোরাই কয়লার মালিক তার সহযোগীদের স্বাক্ষী করে। আদালতে একটি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে সোর্সদের কয়লা পাচারের ব্যাপারে সুনামগঞ্জ ২৮ ব্যাটালিয়নের বিজিবি অধিনায়ক মাহবুবুর রহমান বলেন- সীমান্ত চোরাচালান প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।