admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২৯ আগস্ট, ২০২১ ১২:০২ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ উপর ইউরোপের চাপে বৈধ কাগজপত্র না থাকা অভিবাসীদের ফেরত পাঠাতে। বাংলাদেশের ওপর চাপ দিচ্ছে ২৭টি দেশের জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এ ক্ষেত্রে যথাযথ ব্যবস্থা না নেয়ায় ঢাকার প্রতি নাখোশ সংস্থাটি। সেইসঙ্গে বাংলাদেশিদের ভিসায় সাময়িক কড়াকড়ি আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।ডয়চে ভেলে জানায়, বাংলাদেশ, ইরাক ও গাম্বিয়াকে নিয়ে ইউরোপীয় কাউন্সিলের কাছে প্রস্তাবটি পাঠানো হয় গত ১৫ জুলাই। নিজস্ব ওয়েবসাইটে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিষয়টি জানিয়েছে কমিশন।
এতে বলা হয়, বৈধ কাগজ না থাকা অভিবাসীদের ফেরাতে এসব দেশের সহাযোগিতা জোরদার করা প্রয়োজন। এমন অভিবাসীদের নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ২০১৭ সালে চুক্তি করে ইইউর স্ট্যান্ডার্ড অব প্রসিডিউ (এসওপি)। এটির বাস্তবায়নে দ্রুত সহযোগিতা চাওয়া ইইউ বলছে, বিষয়টি নিয়ে ঢাকার তৎপরতা আরো বাড়াতে হবে। এ সংক্রান্ত কাগজপত্র আদান-প্রদান এবং জবাব দেয়ার বিষয়টি প্রলম্বিত করার অভিযোগও করা হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, চুক্তির পর তালিকা ও কাগজপত্র সনাতন পদ্ধতিতে আদান-প্রদান করা হতো। ২০২০ সালের নভেম্বরে সেটি ডিজিটাল হলে এখন পর্যন্ত ১৫০০ বাংলাদেশির তালিকা পাঠানো হয়, যা এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। বৈধ কাগজ না থাকা বাংলাদেশি অভিবাসীর ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে জার্মানি (৮০০), তারপর যথাক্রনে ইতালি, গ্রিস ও মাল্টার অবস্থান। এর মধ্যে জার্মানিতে থাকা ১৫০ জনের সাক্ষাৎকার নিয়ে মাত্র একজনকে ‘বাংলাদেশি’র স্বীকৃতি দেয় ঢাকা।
এটি জার্মানি ভালোভাবে নেয়নি, বলছে মন্ত্রণালায় সূত্র। ২০২০ সালের ফেব্রুয়রিতে বৈধ কাগজপত্র না থাকা অভিবাসীদের জন্য ভিসা নীতিতে পরিবর্তন আনে ইইউ। তাতে এদের ফেরানোর প্রক্রিয়ায় সহায়তা না করা দেশগুলো ভিসা প্রক্রিয়া কড়াকড়ি করার কথা বলা হয়েছে। বিষয়টিকে মানবাধিকারের লংঘন হিসেবে দেখছেন ঢাকার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকেরা। তাদের প্রশ্ন, রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার নিয়ে সোচ্চার ইইউ এসব অভিবাসীদের বেলায় কেন উল্টো সুরে কথা বলছে? মানবাধিকারের প্রবক্তাদের এমন দ্বিচারিতা দুঃখজনক।
ভূমধ্যসাগর থেকে অভিবাসী প্রত্যাশী উদ্ধার, এদিকে, বাংলাদেশ-জার্মানি কৌশলগত সংলাপে অংশ নিতে বার্লিনে রয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন। সেখানে ইস্যু দুইটি নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র। ব্র্যাকের সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, গত ১২ বছরে অবৈধভাবে ৬২ হাজার ৫৮৩ বাংলাদেশি ইউরোপে গেছেন। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে এই সংখ্যাটা ৩ হাজার ৩৩২ জন। এদের মধ্যে ৩৭ হাজার ১৯৮ জন ইউরোপ যাত্রায় ভূমধ্যসাগরের রুট ব্যবহার করেছে।
প্রসঙ্গত, ইইউভুক্ত ২৭টি দেশে বর্তমানে দুই কোটির বেশি অভিবাসীর বসবাস। কিন্তু এসব দেশের শ্রমবাজারে নিযুক্ত মানুষের সংখ্যা ৮৮ লাখের মতো। ২০১৯ সালের প্রথমবার বসবাসের অনুমতি পেয়েছে ৩০ লাখ মানুষ।