মোক্তারুজ্জামান মোক্তার,পার্বতীপুর,দিনাজপুর প্রতিনিধি || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৩ জুন, ২০২৬ ৬:৩৪ অপরাহ্ণ
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে ভয়ংকর প্রতারকের খপ্পরে পড়ে দিশেহারা হয়ে বিভিন্ন মহলে সহায়তা চেয়ে সর্বশান্ত হওয়ার অভিযোগ তুলেছে মধ্য আটরাই গ্রামের মাইনুল ইসলামের স্ত্রী মর্জিনা খাতুন। সে বলছে, ছেলের সেনাবাহিনীর চাকরির নামে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চৌকিদার রফিকুল ইসলাম (৫৮)ও সহযোগীরা ।
তার বাড়ী হলদিবাড়ী রেল গেটের পশ্চিমে পাকা রাস্তার উত্তর দিকে অবস্থিত। জানা গেছে, উপজেলার মধ্য আটরাই গ্রামের মর্জিনা খাতুনের ছেলে মাহাবুব ইসলাম মুজাহিদ (২১) কে সেনাবাহিনীতে চাকুরি দেওয়ার প্রলোভন দেখায় একই ইউনিয়নের চৌকিদার রফিকুল ইসলাম ।এরেই প্রেক্ষিতে মর্জিনা খাতুন গত ২৭ মে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার কেন্দ্রীয় পরিচালকের দ্বিতীয় তালায় রুমে বিকেল ৬ টা ২০ মিনিটের দিকে পার্বতীপুর ও দিনাজপুর প্রিন্ট মেডিয়ার সাংবাদিকের উপস্হিতে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তার লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, রফিকুল ইসলাম আমাদের বাড়ীতে এসে আমার ছেলে মো. মাহাবুব ইসলাম মুজাহিদ (২১) কে বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর সৈনিক পদে চাকুরী নিয়া দেওয়ার কথা বলেন।
এতে আমরা স্বামী-স্ত্রী উভয়ে রফিকুল ইসলামের প্রস্তাবে একপর্যায়ে রাজি হই। এরপর ছেলের চাকুরীতে যোগদান করা পর্যন্ত চার লক্ষ টাকা কন্ট্রাক করে চৌকিদার রফিকুল ইসলাম । আমি তার কথা মতো টাকা সংগ্রহ করতে পার্বতীপুর উপজেলার জাগরনী সংস্থা থেকে দুই লক্ষ টাকা লোন করি এবং বাকি আমার ছেলের জমাকৃত টাকা গরু,ছাগল, হাঁস, মুরগী বিক্রি করে চৌকিদার রফিকুল ইসলামকে গত ০৬/০৪/২০২৫ইং তারিখে সর্ব মোট- ৩,৫০,০০০/- (তিন লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা প্রদান করি এবং অবশিষ্ট ৫০,০০০/- (পঞ্চাশ হাজার) টাকার জন্য রফিকুল ইসলাম আমাদেরকে ভুল-ভাল বুঝিয়ে প্রতারণা মূলকভাবে অসৎ উদ্দেশ্য চাঁদাবাজি করার লক্ষে আমার ও আমার ছেলের স্ব-ইচ্ছার বিরুদ্ধে চৌকিদার রফিকুল ইসলাম ২টি ব্লাংন্ক/ফাঁকা চেকে আমার ছেলের নিকট হইতে নন জুডিসিয়াল ৩০০/-টাকার মোট ৩টি স্ট্যাম্প ও আমার নিজ নামীয় আরাফাত ইসলামী ব্যাংক, বদরগঞ্জ শাখা, রংপুর এর ২টি চেকের পাতা, যাহার পাতা নং- ৩৪০৫২৮২ ও ৩৪০৫২৮৩’তে কৌশলে স্বাক্ষর করে নেয়।
এরপর তিনি বলেন , নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই ছেলেকে সেনাবাহিনীর চাকুরিতে যোগদান করাবেন। এছাড়াও তিনি বলেছিলেন সময় মতো চাকুরি না দিতে পারলে স্বাক্ষরীত চেক, স্ট্যাম ও সমুদয় টাকা ফেরত দিবার কথা জানান। আমি ও আমার ছেলে অতি সহজ-সরল মনে তার কথায় বিশ্বাস করে , চেক ও ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করি হলদীবাড়ী রেলগেট সংলগ্ন হোটেলের ভেতরে। এরপর দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও চাকুরির কোন ব্যবস্থা নেই, চেক, ষ্ট্যাম ও টাকা ফেরত দেবার কথাও নেই বরং নানা অজুহাত দেখিয়ে দিব-দিচ্ছি বলে প্রতারণা মূলক ভাবে চাঁদাবাজি ও অসৎ উদ্দেশ্যে টাল বাহানা করে আসছে। এরেই মাঝে বিভিন্ন প্রকার প্রতারণা মূলক কথাবার্তা ভয়ভীতি ও হুমকী প্রদান করছে। চেক, ষ্ট্যাম ও টাকা ফেরত চাইলে মা ও ছেলের নামে হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা মোকাদ্দমায় জড়ানোর ভয়ভীতিও প্রদর্শন করছে। তিনি আর ও উল্লেখ করেন, রফিকুল ইসলাম একজন ভয়ঙ্কর প্রতারক ও চাঁদাবাজ ব্যক্তি।
মানুষকে ভুল-ভাল বুঝিয়ে প্রতারণা মূলক কতাবার্ত বলে মানুষের নিকট হতে চাঁদাবাজি করাই তার মূল উদ্দেশ্যের কথা জানান। এ বিষয়ে রফিকুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। এ ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার কেন্দ্রীয় পরিচালক এম এ মজিদ সরকারের দৃষ্টিগোচর হলে, তিনি দোষী ব্যক্তি প্রতি ক্ষোভ, নিন্দা ও অন্যায়ের প্রতিবাদ জানিয়ে রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রশাসনের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুদৃষ্টি কামনা করেন ।