হোম
ঢাকা

নাগরিক ভাবনা :একজন শিক্ষকের শ্রেষ্ঠ পুরস্কার, আমার সেই প্রিয় ছাত্র আব্দুর রশীদ।

অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ, ঢাকা || মুক্ত কলম সংবাদ

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৯:০৫ অপরাহ্ণ

ফাইল ছবি

আজ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শুক্রবার। কেন জানি না, সকাল থেকেই মনটা ভার হয়ে আছে। বুকের ভেতর কোথা থেকে যেন একটি পুরোনো দরজা খুলে গেছে। সেই দরজা দিয়ে একে একে বেরিয়ে আসছে আমার শিক্ষকজীবনের অসংখ্য স্মৃতি – আমার প্রিয় স্কুল, প্রিয় ছাত্রছাত্রী, তাদের হাসিমুখ, ক্লাসরুম, ব্ল্যাকবোর্ড, পরীক্ষার খাতা, সহকর্মীদের সঙ্গে নানা টানাপোড়েন – আর সবকিছুকে ছাপিয়ে বারবার চোখের সামনে ভেসে উঠছে একটি মুখ।

আমার সবচেয়ে প্রিয় ছাত্র – আব্দুর রশীদ। অনেকক্ষণ নীরবে বসে থেকে চোখের পানি মুছছিলাম। আমার ছেলে সাগর আব্বু বিষয়টি টের পেয়ে অস্থির হয়ে জিজ্ঞেস করল,আব্বু, তুমি কি আমার কোনো আচরণে কষ্ট পেয়েছ? নাকি তোমার বৌমার কোনো কথায় বা ব্যবহারে মন খারাপ হয়েছে? আমি খুব সন্তর্পণে চোখের পানি মুছে বললাম,না বাবা। তোমরা আমার জন্য যা করছ, তার কোনো তুলনা হয় না। তোমাদের ব্যবহার, আদর-যত্ন, সেবাশুশ্রূষা, এদিক-ওদিক নিয়ে ঘুরে বেড়ানো, কেনাকাটা, তোমার বন্ধুদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া – সবই তো একের পর এক করে চলেছ। তোমাদের মমতা ও ভালোবাসায় আমরা সত্যিই আত্মহারা।

সাগর আবার বলল,তাহলে তোমার চোখ লাল কেন? মুখটা এমন বিষণ্ন কেন? এবার আর নিজেকে সামলাতে পারলাম না। শেষ পর্যন্ত তাকে বলতে হলো সেই মানুষটির কথা – যার কথা মনে পড়লে আজও আমার শিক্ষকসত্তার সবচেয়ে কোমল জায়গাটি কেঁপে ওঠে। সে আমার ছাত্র আব্দুর রশীদ।আমার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয়েছিল ১৯৭৩ সালে।

আমি তখন সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের একজন তরুণ মুক্তিযোদ্ধা ও গ্রাজুয়েট। সেই সময়ে আমি ঢাকার সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট বয়েজ হাই স্কুলে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদানের উদ্যোগ নিচ্ছি। তখনকার শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও যুব মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইস্তেহার পাঠকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউসুফ আলী স্যারের কাছে নিয়োগের বিষয়ে গেলে তিনি আমাকে বললেন,মজিদ, তুমি একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং গ্রাজুয়েট। তুমি স্কুলশিক্ষক না হয়ে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের অধীনে বৈদেশিক, প্রশাসন, কাস্টমস, কর – যে কোনো ক্যাডারে যোগ দিতে পারো। তুমি চাইলে আমি তোমার নিয়োগের ব্যবস্থা করব। আমি তখন এক মুহূর্তও চিন্তা না করে বলে ফেললাম,

স্যার, আমি কোনো সরকারি ক্যাডার পদে চাকরি করব না। আমি শিক্ষকই হব। মন্ত্রী মহোদয় অবাক হয়ে বললেন,
“তুমি গভীরভাবে চিন্তা করে আগামীকাল আবার এসে আমাকে বলো। সে সময়ের বাস্তবতাও এখানে স্মরণ করা প্রয়োজন। বৃহত্তর দিনাজপুর ও রংপুর অঞ্চলের মানুষের সরকারি চাকরিতে প্রতিনিধিত্ব ছিল বললেই চলে। তাই ওই অঞ্চলের শূন্য পদগুলোতে নিয়োগের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ক্যাডার সার্ভিসেও তখন প্রচুর শূন্য পদ ছিল। কোনো মুক্তিযোদ্ধা গ্রাজুয়েট হলে তাকে বিভিন্ন শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়ার সুপারিশ করার বিশেষ ক্ষমতা অধ্যাপক ইউসুফ আলী স্যারকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রদান করেছিলেন।
পরদিন আবার মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে গেলাম।
তিনি জিজ্ঞেস করলেন,মজিদ, কী সিদ্ধান্ত নিয়েছ?
আমি বললাম,স্যার, আমি স্কুলেই শিক্ষকতা করব।
তিনি আবারো বললেন,মজিদ, আমি চাই তুমি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগ দাও। ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে শুরু করলে একদিন তুমি সচিব পর্যন্ত হতে পারবে।

আমি বিনয়ের সঙ্গে বললাম,স্যার, আমি স্কুলের শিক্ষক হয়ে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট তৈরির কারিগর হবো। তিনি কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। তারপর একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে আমার দরখাস্তে লিখে দিলেন -ডিডিপিআই, ঢাকা – নিয়োগ দিন। সেই একটি বাক্যই আমার জীবনের গতিপথ নির্ধারণ করে দিল।
আমি ১৯৭৩ সালের জানুয়ারি মাসে মতিঝিল সরকারি বয়েজ হাই স্কুলে সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকুরিতে যোগদান করলাম।
আমি হয়তো কোনোদিন সচিব হতে পারিনি; কিন্তু আমার সৌভাগ্য – আমার ছাত্রদের কেউ কেউ জীবনে অনেক দূর এগিয়েছিল। তাদের মধ্যে কেউ বিচারক সচিব হয়েছে, কেউ জেলা জজ, কেউ মেজর জেনারেল, কেউ আইনজীবী, কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কেউ রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছে।

তখন বুঝিনি – একজন শিক্ষক আসলে কত শত জীবনের ভবিষ্যৎ নির্মাণ করেন। মতিঝিল সরকারি বয়েজ হাই স্কুলে যোগদানের পর শিক্ষকতাকে আমি কখনো শুধু একটি চাকরি হিসেবে দেখিনি। আমি স্কুলে বিএনসিসি, বয়স্কাউট ও রেডক্রিসেন্ট স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গড়ে তুলেছিলাম। প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও বার্ষিক বনভোজনের ব্যবস্থা চালু করেছিলাম। এসএসসি টেস্ট পরীক্ষার পর দরিদ্র ও দুর্বল ছাত্রদের জন্য বিনা বেতনে কোচিংয়ের ব্যবস্থা করেছিলাম।

শুধু শ্রেণিকক্ষের পাঠদানেই আমি নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখিনি। নেশিরভাগ ছাত্রদের বাড়িতে নিজে গিয়ে তাদের পারিবারিক, সামাজিক ও আর্থিক অবস্থার খোঁজ নিতাম। কারণ আমি বিশ্বাস করতাম – একজন ছাত্রের খাতা দেখে তার জীবনকে পুরোপুরি বোঝা যায় না তার চোখের দিকে তাকাতে হয়, তার পরিবারের দরজায় যেতে হয়। আমার শিক্ষকতার আরেকটি নিজস্ব পদ্ধতি ছিল। আমি কোনোদিন ক্লাসের চেয়ারে বসে পড়াইনি। দাঁড়িয়ে, গল্পের ছলে, হাসি-আনন্দের মধ্য দিয়ে পড়াতাম। কঠিন বিষয়কে সহজ করে বোঝানোর চেষ্টা করতাম।
পাঠ শেষ করার পর ব্ল্যাকবোর্ডে লিখে দিতাম – আজকের বিষয়টি পড়ানোর আগে আমি লাইব্রেরির কোন কোন বই পড়েছি। তারপর ছাত্রদের বলতাম,তোমরাও বইগুলো পড়বে। শুধু পরীক্ষার জন্য নয় – নিজেকে বড় করার জন্য।
আমি চাইতাম, আমার ছাত্ররা শুধু পরীক্ষায় ভালো নম্বর না পাক; তারা বড় মানুষ হোক। আমি তাদের বলতাম – দেশকে ভালোবাসবে। স্বাধীনতার মূল্য বুঝবে। ১৯৫২-এর ভাষা শহীদদের স্মরণ করবে। ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানবে। ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ মনে রাখবে। লক্ষ লক্ষ মা-বোনদের সম্ভ্রমহানির ইতিহাস ভুলবে না। বাংলাদেশের মানচিত্র ও জাতীয় সংগীতকে হৃদয়ে ধারণ করবে। দেশটিকে স্বাধীন করার জন্য ১৯৭১ সালে নিজের জীবনকে শতভাগ বাজি রেখে দুর্ধর্ষ পাকিস্তানি সেনা বাহিনীর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে দেশটিকে স্বাধীন করতে সমরাঙ্গনে সম্মুখভাগের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে যুদ্ধের ঘটনা বর্ণনা করতাম।

আমি তাদের মনে সাহস জাগাতে চাইতাম – যাতে তারা নিজেদের প্রত্যেককে এক একজন ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রনায়ক, দেশসেবক ও জাতির কর্ণধার হিসেবে ভাবতে শেখে।
আমার ছাত্রদের কাছে আমি ধীরে ধীরে একজন প্রিয় শিক্ষক হয়ে উঠেছিলাম। এমনকি তাদের অনেক বাবা-মাও আমাকে না দেখেই চিনতেন। কোনো কোনো ছাত্রের বাবা-মা ছেলের মুখে আমার প্রশংসা শুনে আমাকে ধন্যবাদ জানাতে স্কুলে চলে আসতেন। অবশ্য এর বিপরীত দিকও ছিল। কিছু সহকর্মী আমার জনপ্রিয়তাকে ভালোভাবে নিতেন না। আমার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগও যেত প্রধান শিক্ষকের কাছে। কিন্তু শিক্ষক জীবনে আমি শিখেছিলাম – সত্যিকার ভালোবাসার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো ছাত্রের চোখে তার শিক্ষককে দেখা। আর সেই ভালোবাসার সবচেয়ে উজ্জ্বল প্রমাণ হয়ে আমার জীবনে এসেছিল একজন ছাত্র – তার নাম মো. আব্দুর রশীদ। ১৯৭৩ সালে আব্দুর রশীদ ছিল ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। মতিঝিল সরকারি বয়েজ হাই স্কুলের প্রতিটি ছাত্রই আমার প্রিয় ছিল। কিন্তু রশীদের প্রতি আমার মমতা যেন একটু আলাদা ছিল।
সে শুধু ক্লাসের ফার্স্টবয় ছিল না।

পড়াশোনা, খেলাধুলা, কাজকর্ম, মানবিকতা, পরোপকারিতা – সবকিছুতেই সে ছিল অসাধারণ। তার মতো মেধাবী, ভদ্র, হাসিখুশি ও মানবিক ছাত্র খুব কমই দেখেছি। কিন্তু তখনও আমি জানতাম না – একদিন এই ছাত্রই আমার শিক্ষকজীবনের সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি হয়ে দাঁড়াবে। ১৯৭৫ সালে রশীদ সপ্তম শ্রেণির ছাত্র।

সপ্তম শ্রেণির ষান্মাসিক পরীক্ষায় বাংলা দ্বিতীয় পত্রে রচনার বিষয় দিয়েছিলাম – তোমার প্রিয় শিক্ষক। সব ছাত্রই নিজের মতো করে লিখল। কেউ কোনো শিক্ষককে নিয়ে লিখেছে। কেউ হয়তো নিজের পছন্দের শিক্ষককে নিয়ে কয়েকটি সাধারণ কথা লিখেছে। কিন্তু রশীদের খাতা হাতে নিয়ে আমি থমকে গেলাম। সে লিখেছে আমাকে নিয়ে। আমার চলন, বলন, পড়ানোর ধরন, ছাত্রদের সঙ্গে আমার ব্যবহার, স্কুলের বিভিন্ন কার্যক্রম – সবকিছু এমন সূক্ষ্মভাবে সে তুলে ধরেছিল যে আমি বিস্মিত হয়ে গিয়েছিলাম। শুধু তাই নয়, আমার মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতার কথাও সে এমনভাবে লিখেছিল, যা কোনো বই, সংবাদপত্র বা প্রকাশিত লেখা থেকে মুখস্থ করা সম্ভব ছিল না।
সে আমাকে দেখেছে, আমার কথা শুনেছে, আমার কাজ লক্ষ্য করেছে। তারপর নিজের হৃদয় দিয়ে আমাকে বুঝেছে।
রচনাটির নির্ধারিত নম্বর ছিল ২০। আমি অনেক ভেবে-চিন্তে তাকে ২০-এর মধ্যে ২০ দিলাম। একটি বানান ভুল নেই। দাঁড়ি, কমা, সেমিকোলন – কোনো বিরামচিহ্নের ভুল নেই। ব্যাকরণ ও অন্যান্য প্রশ্নের উত্তরেও সে এমন নিখুঁত উত্তর দিয়েছিল যে আমাকে শেষ পর্যন্ত বাংলা দ্বিতীয় পত্রে তাকে ১০০-এর মধ্যে ১০০ দিতে হলো। আমি জানতাম – এটি সাধারণ কোনো ঘটনা নয়।

স্কুলের নিয়ম অনুযায়ী ষান্মাসিক পরীক্ষার খাতা ছাত্রদের দেখানো হলো। বাংলা দ্বিতীয় পত্রে একজন ছাত্র ১০০-এর মধ্যে ১০০ পেয়েছে – এই খবর ফিসফিস করে এদিক-ওদিক ছড়িয়ে পড়তে লাগল। তারপর বিষয়টি পৌঁছাল প্রধান শিক্ষক মাহমুদুল হক খান স্যারের কাছে। একদিন প্রধান শিক্ষক আমাকে ডেকে বললেন,মজিদ সাহেব, বাংলা দ্বিতীয় পত্রে কেউ কোনোদিন ১০০-এর মধ্যে ১০০ পেয়েছে – এমন কথা আমি জীবনে শুনিনি, দেখিনি। আপনি কি কখনো শুনেছেন বা দেখেছেন?
আমি বললাম,স্যার, আমিও কখনো শুনিনি, দেখিনি। কিন্তু আব্দুর রশীদকে ১০০ দিতে আমি বাধ্য হয়েছি। তিনি খাতা দেখতে চাইলেন। আমি বললাম,স্যার, আপনি নিজেই খাতাটি পুনর্মূল্যায়ন করুন। দেখুন, আমি সঠিক নম্বর দিয়েছি কি না।
প্রধান শিক্ষক দীর্ঘ সময় ধরে খাতাটি দেখলেন।
একবার নয় – বারবার।
কোনো ভুল পাওয়া গেল না।
একটি বানান ভুল নেই।
একটি বাক্যের ত্রুটি নেই।
এমনকি একটি দাঁড়ি বা কমার ভুলও নেই।
এরপর তিনি আমাকে সঙ্গে নিয়ে শিক্ষকদের কমনরুমে গেলেন। সব শিক্ষককে উদ্দেশ করে তিনি বললেন –
আপনাদের অনেকেই বিভিন্ন সময়ে মজিদ সাহেবের বিরুদ্ধে আমার কাছে নানা অভিযোগ করেছেন। সর্বশেষ অভিযোগ – তিনি আব্দুর রশীদকে বাংলা দ্বিতীয় পত্রে ১০০-এর মধ্যে ১০০ দিয়েছেন। আমি খাতাটি কয়েকবার পড়েছি। একটি ভুল তো দূরের কথা, একটি দাঁড়ি-কমার ভুলও ধরতে পারিনি। তারপর তিনি আরও বলেছিলেন – এই রচনার মাধ্যমে আমি প্রথম জানতে পেরেছি যে মজিদ সাহেব একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও গ্রাজুয়েট। তিনি আরো বলেছিলেন,একজন মুক্তিযোদ্ধা গ্রাজুয়েট হয়েও মজিদ সাহেব ক্যাডার সার্ভিসে না গিয়ে শিক্ষকতাকে বেছে নিয়েছেন। তার ত্যাগ, পরিশ্রম ও আদর্শের মাধ্যমে স্কুলের ছাত্রদের মধ্যে যে প্রভাব সৃষ্টি হয়েছে,সেটিও আমি রশীদের লেখার মাধ্যমে নতুন করে উপলব্ধি করলাম।
তারপর তিনি শিক্ষকদের উদ্দেশে বলেছিলেন – আপনারাও তো আব্দুর রশীদের শিক্ষক। আপনারা কি কেউ আগে আবিষ্কার করতে পেরেছিলেন যে এই ছেলেটি এমন প্রতিভাবান?
রশীদের রচনা যেন সেদিন শুধু আমার মূল্যায়ন করেনি – আমাকেও নতুন করে চিনিয়ে দিয়েছিল। একজন ছাত্র তার শিক্ষককে আবিষ্কার করেছিল।

আর একজন শিক্ষক তার ছাত্রের ভেতরের হীরাকে আবিষ্কার করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত প্রধান শিক্ষক রশীদের খাতা সব শিক্ষকের সামনে দিয়ে বললেন – প্রত্যেকে মনোযোগ দিয়ে খাতাটি পড়বেন, নম্বর দেবেন এবং স্বাক্ষর করে খাতা আমার কাছে ফেরত দেবেন। সবাই শেষ পর্যন্ত – ইচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায় হোক – ১০০-এর মধ্যে ১০০ নম্বরই দিয়েছিলেন।
সেদিন আমি বুঝেছিলাম – একজন শিক্ষকের জীবনে ছাত্রের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসার চেয়ে বড় কোনো পুরস্কার নেই।

এসএসসি পর্যন্ত আব্দুর রশীদ আমার ছাত্র ছিল। তাদের বাসা ছিল মগবাজার রেলক্রসিংয়ের পাশে। কোনো পারিবারিক অনুষ্ঠান হলে তার বাবা আমাকে বিশেষভাবে তাদের বাসায় নিয়ে যেতেন। রশীদের বাবা ছিলেন পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি আর সরকারি চাকরিতে যোগ দেননি। পরবর্তীকালে তিনি ক্লিফটন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক অথবা অংশীদার ছিলেন – আমার স্মৃতি অনুযায়ী। তিনিও ছিলেন খুব সুন্দর মনের, হাসিখুশি মানুষ। খুব সম্ভবত রশীদই ছিলেন তার একমাত্র ছেলে। তার একটি বোন ছিল। বাবার মতো ছেলেটিও ছিল শান্ত, ভদ্র, হাসিখুশি ও মেধাবী।

১৯৭৯ সালে আব্দুর রশীদ মতিঝিল সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয় থেকে বোর্ডে প্রথম হয়ে এসএসসি পাস করেছিল।
১৯৮১ সালে অত্যন্ত কৃতিত্বের সঙ্গে এইচএসসি পাস করে ১৯৮২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হয়।
পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে শিক্ষাজীবনের সময়সূচিতে পরিবর্তন এলেও আব্দুর রশীদ শেষ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করে এবং আইন বিভাগের প্রভাষক হিসেবে যোগদান করে। একজন শিক্ষক হিসেবে এর চেয়ে আনন্দের আর কী হতে পারে? যে ছেলেটিকে একদিন ষষ্ঠ শ্রেণির বেঞ্চে বসে পড়াতে দেখেছিলাম, সেই ছেলেই একদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হলো। একজন স্কুলশিক্ষকের ছাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়া – সম্ভবত এটাই একজন শিক্ষকের জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া এবং সেরা উত্তরাধিকার।

জীবন আমাকে নানা পথে ঘুরিয়েছে। দেশ-বিদেশে বিভিন্ন ধরনের কাজ করেছি। ঢাকা জেলার সাভারের হেমায়েতপুরে টেক্সটাইল মিল স্থাপন করাসহ বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের গভীর নলকূপ খনন, গণপূর্ত, সড়ক ও জনপথ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, বরেন্দ্র বহুমুখী প্রকল্পসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রথম শ্রেণির ঠিকাদারি কাজ করেছি।
শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী হিসেবে আইন পেশায় নিয়োজিত হয়েছি।
আর জীবনের আরেকটি বিস্ময়কর সৌভাগ্য হলো – আমার সেই প্রিয় ছাত্র আব্দুর রশীদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহপাঠীদের কয়েকজনের সঙ্গে পরবর্তীকালে আমার একই পেশায় কাজ করার সুযোগ হয়েছে।
তাদের মধ্যে আছেন ড. অ্যাডভোকেট শিব্বির আহমদ, বিচারপতি জাকির হোসেন, অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ ও সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল অ্যাডভোকেট আলী আকবর, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মুন্নি, অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ অ্যাডভোকেট নাজির আহমেদ, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন মোল্লা, অ্যাডভোকেট সদানন্দসহ আরও বেশ কয়েকজন।
তারা সবাই আমার প্রিয় ছাত্র রশীদের ব্যাচমেট।
একসময় যাদের শিক্ষক ছিলেন আমার ছাত্র রশীদ, তাদেরই অনেকে পরবর্তীকালে আমার সহকর্মী হয়েছেন। আর আমাদের সঙ্গে এমন একজন মানুষও রয়েছেন, যিনি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক হিসেবে রশীদ ও তার সহপাঠীদের পড়িয়েছেন – যার নাম অ্যাডভোকেট হরিদাস পাল। তিনি ও আমি – আমরা একই টেবিলেই বসি।
জ্ঞান, প্রজ্ঞা, সততা ও অভিজ্ঞতায় এ্যাডভোকেট হরিদাস পাল আমার কাছে এক অসাধারণ মানুষ। তিনি একজন জীবন্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কিংবদন্তী। জীবন কখনো কখনো কী অদ্ভুতভাবে একটি বৃত্ত সম্পূর্ণ করে দেয়!
একসময় আমি ছিলাম রশীদের স্কুলশিক্ষক।
পরে রশীদ হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।
তার সহপাঠীরা হয়ে গেলেন আমার সহকর্মী। আর তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়ে গেলেন আমার সহকর্মী। শিক্ষকতা, ছাত্রত্ব, সহকর্মিতা – সব যেন একই জীবনের বিভিন্ন অধ্যায়।

১৯৯২ সালের দিকে – ঠিক সালটি আমার স্মৃতিতে পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে শিক্ষকতা করার সময় আব্দুর রশীদ এক ভয়াবহ ঘটনার শিকার হয়। তার নিজের পিতা নিজ পিস্তল দিয়ে তাকে গুলি করে হত্যা করেন। বলা হয়, পরপর কয়েকটি গুলি করা হয়েছিল। কিন্তু কেন?
একজন বাবা কেন তার নিজের সন্তানকে হত্যা করবেন? যে সন্তান ছিল তার পরিবারের গর্ব, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, অসাধারণ মেধাবী, ভদ্র ও সবার প্রিয়। কেন তার জীবন এভাবে শেষ হয়ে গেল?
এই প্রশ্নের উত্তর আজও আমার কাছে নেই।
চিকিৎসকদের বক্তব্য অনুযায়ী, রশীদের বাবা সম্ভবত সিজোফ্রেনিয়া বা অন্য কোনো গুরুতর মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। কিন্তু এই ব্যাখ্যাও আমার বুকের ভেতরের প্রশ্নটিকে পুরোপুরি থামাতে পারে না। কারণ একজন শিক্ষক হিসেবে আমি রশীদকে শুধু একজন মেধাবী ছাত্র হিসেবে দেখিনি। আমি তাকে দেখেছিলাম একটি সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ হিসেবে। আমি ভেবেছিলাম – ছেলেটি একদিন আরও বড় হবে। আরও অনেক ছাত্রকে পড়াবে। দেশের জন্য কাজ করবে। তার জ্ঞান দিয়ে মানুষের উপকার করবে। কিন্তু জীবন তার জন্য অন্য একটি গল্প লিখে রেখেছিল।

আব্দুর রশীদ বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়নি। তার জীবনের যে অংশটি আমি দেখেছি, সেখানে সে ছিল জ্ঞান, শিক্ষা, আদর্শ ও মানবিকতার এক অসাধারণ প্রতিভা। কিন্তু সেই জীবন এত অল্প বয়সে, এত নির্মমভাবে থেমে গেল – এখনও ভাবলে বুকের ভেতরটা হাহাকার করে ওঠে।
একজন শিক্ষক অনেক ছাত্রকে পড়ান।
কেউ ভুলে যায়। কেউ মনে রাখে।
কেউ জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ফিরে এসে বলে – “স্যার, আপনার কথা আজও মনে আছে।”
কিন্তু কোনো কোনো ছাত্র শিক্ষককে এমনভাবে স্পর্শ করে যায় যে, তার মৃত্যুর বহু বছর পরও হঠাৎ কোনো এক সকালে তার কথা মনে পড়ে চোখের পানি চলে আসে। আব্দুর রশীদ আমার কাছে তেমনই একজন।

আজও মাঝে মাঝে মনে হয়, আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান পুরস্কার কোনো পদক নয়।
কোনো সরকারি সম্মান নয়।
কোনো বড় পদ নয়।
কোনো অর্থসম্পদও নয়।
আমার সবচেয়ে বড় পুরস্কার হয়তো সেই পুরোনো পরীক্ষার খাতাটি – যেখানে সপ্তম শ্রেণির একটি ছেলে লিখেছিল তার “প্রিয় শিক্ষক”-এর কথা।
সে রচনার প্রতিটি শব্দ যেন আমার শিক্ষকজীবনের আয়না। আমি সেখানে নিজেকে দেখেছিলাম।
কিন্তু তার চেয়েও বড় কথা – আমি সেখানে একজন ছাত্রের চোখ দিয়ে একজন শিক্ষককে দেখেছিলাম।
একজন শিক্ষক হয়তো প্রতিদিন শত শত শব্দ বলেন।
কিন্তু কখনো কখনো একটি ছাত্রের লেখা কয়েকটি পৃষ্ঠা সেই শিক্ষককে সারাজীবনের জন্য অমর করে দেয়। রশীদের লেখা সেই রচনাটি আমার কাছে তেমনই।

আজ যখন আমি সাগর আব্বুকে রশীদের কথা বলছিলাম, সেও চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি।
সে আমাকে অনেক প্রশ্ন করল।
“আব্বু, তার বাবা কেন তাকে হত্যা করেছিলেন?”
“তখন রশীদের বয়স কত ছিল?”
“সে কি কোনোভাবে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিল?”
“তার বাবার কী হয়েছিল?”
“এমন একজন মেধাবী মানুষকে এভাবে কেন চলে যেতে হলো?”
আমি কোনো উত্তর দিতে পারিনি।
কারণ সত্যিই আমার কাছে কোনো উত্তর নেই।
শুধু জানি – আমার সেই প্রিয় ছাত্রটি আর নেই।
যে ছেলে সপ্তম শ্রেণিতে বসে তার শিক্ষককে নিয়ে এমন একটি রচনা লিখেছিল, যে রচনার প্রতিটি শব্দ আজও আমার হৃদয়ে খোদাই হয়ে আছে – সে আজ পৃথিবীতে নেই।
কিন্তু একজন শিক্ষক হিসেবে আমি বিশ্বাস করি, মানুষ শুধু তার দেহ দিয়ে বেঁচে থাকে না।
মানুষ বেঁচে থাকে তার কর্মে।
তার আদর্শে।
তার সৃষ্টিতে।
তার ছাত্রদের স্মৃতিতে।
আর আব্দুর রশীদ বেঁচে আছে আমার স্মৃতিতে, তার সহপাঠীদের স্মৃতিতে, তার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের স্মৃতিতে এবং সেই পুরোনো পরীক্ষার খাতার প্রতিটি অক্ষরে।

আজ এত বছর পরও যখন রশীদের কথা মনে পড়ে, আমার চোখের সামনে সেই ছোট্ট ছেলেটির মুখ ভেসে ওঠে। ষষ্ঠ শ্রেণির একটি সরল, হাসিখুশি, মেধাবী ছেলে।
তারপর সপ্তম শ্রেণির পরীক্ষার খাতা।
রচনার বিষয় – “তোমার প্রিয় শিক্ষক।”
আর সেই রচনায় সে লিখেছিল তার শিক্ষককে নিয়ে।
আমি তাকে ২০-তে ২০ দিয়েছিলাম। বাংলা দ্বিতীয় পত্রে তাকে আমি ১০০-তে ১০০ দিয়েছিলাম।
কিন্তু সত্যি বলতে কী – রশীদই আমাকে তার জীবনের সবচেয়ে বড় ১০০ নম্বরটি দিয়ে গিয়েছিল।
সেই নম্বর ছিল ভালোবাসার।
সেই নম্বর ছিল বিশ্বাসের।
সেই নম্বর ছিল একজন ছাত্রের চোখে তার শিক্ষকের মর্যাদার।
আজও মনে হয়, আমি সেদিন তাকে ১০০ নম্বর দিইনি – সে-ই আমাকে ১০০ নম্বর দিয়ে গিয়েছিল।
আর হয়তো এটাই একজন শিক্ষকের জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
একজন শিক্ষক কতজন ছাত্রকে পড়িয়েছেন – সেটি তার জীবনের হিসাব নয়।
তার ছাত্রদের মধ্যে কতজন মানুষ হয়ে উঠেছে, কতজন তাকে হৃদয়ে ধারণ করেছে – সেটিই তার আসল পরিচয়।
আব্দুর রশীদ আমার সেই পরিচয়ের একটি উজ্জ্বল নাম।

আজ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ হঠাৎ তার কথা মনে পড়ে আমার চোখে পানি এসেছে। আমি জানি না, এই কান্না দুঃখের, না ভালোবাসার। সম্ভবত দুটোরই। কারণ কিছু মানুষ পৃথিবী ছেড়ে চলে যায় – কিন্তু একজন শিক্ষকের হৃদয় থেকে সে কোনোদিন চলে যেতে পারে না। আব্দুর রশীদও তেমনই একজন। আমার প্রিয় ছাত্র। আমার শিক্ষকতাজীবনের এক অমলিন স্মৃতি।
আমার হৃদয়ের চিরন্তন ১০০-তে ১০০।

লেখক: বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট, জাতীয় সাংবাদিক সোসাইটি এবং ওয়ার্ল্ড পীছ অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস সোসাইটির চেয়ারম্যান।

ফেসবুক মন্তব্য

মতামত জানান :

সর্বশেষ খবর

নাগরিক ভাবনা :একজন শিক্ষকের শ্রেষ্ঠ পুরস্কার, আমার সেই প্রিয় ছাত্র
ঢাকা 2 hours আগে

১৮৮ শিক্ষার্থীর মাদ্রাসায় ফাঁকা শ্রেণিকক্ষ,উপস্থিত মাত্র একজন।
রংপুর 11 hours আগে

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে চতুর্মুখী রেলগেটে যানজট ভোগান্তিতে শহরবাসী।
জনদুর্ভোগ 1 day আগে

ঠাকুরগাঁও বালিয়াডাঙ্গীতে গাঁজাসহ যুবক গ্রেপ্তার।
অপরাধ 1 day আগে

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর থানার ওসি বদলিতে তাকে বিদায় জানাতে ভিন্ন পন্থায়
ঢাকা 1 day আগে

কুড়িগ্রামের বসতভিটা ভরাট বন্ধ, অনিশ্চয়তায় তিস্তার ভাঙনে নিঃস্ব ৫ পরিবার।
রংপুর 1 day আগে

যে কোন মূল্যে আমরা সেতাবগঞ্জ চিনিকল চালু করব-এমপি পিনাক চৌধুরী।
জাতীয় 1 day আগে

বিরামপুরে ওসির সাথে সাংবাদিকদের মতবিনিময় ও মাদক আইনশৃঙ্খলা নিয়ে আলোচনা।
রংপুর 1 day আগে

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে ৫ কেজি গাঁজাসহ আটক-১।
অপরাধ 2 days আগে

এসআরবির যৌথ অভিযানে দিনাজপুরে অপহৃত স্কুলছাত্রীকে ময়মনসিংহে উদ্ধার।
অপরাধ 2 days আগে

পাঠকপ্রিয়

শিরোনাম :

কুড়িগ্রামে ঐতিহাসিক আসনে কঠিন চ্যালেঞ্জে জাপা,মাঠ গরম এনসিপি-বিএনপির। হাদীর ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় দিনাজপুর সীমান্ত ৪২ বিজিবির রেড অ্যালার্ট জারি। রোহিঙ্গা মেয়েরা পাচার ছাড়াও বিদেশীদের দ্বারা যৌন কাজে ব্যবহারের টার্গেট হয়ে উঠছে ঠাকুরগাঁওয়ে নানা কর্মসূচিতে হানাদার মুক্ত দিবস উদযাপিত। ঠাকুরগাঁও জেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ৪র্থ জেলা রোভার মুট-২০২৫। কুড়িগ্রামের রাজারহাটে প্রাণিসম্পদ সপ্তাহের প্রদর্শনী ও সমাপনী অনুষ্ঠিত। পার্বতীপুরে জাতীয় প্রাণি সম্পদ ও ডেইরি প্রকল্পের উদ্বোধন। রাণীশংকৈলে জাতীয় প্রাণীসম্পদ সপ্তাহ ও প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত পলাতক শেখ হাসিনার অগ্রণী ব্যাংকের লকার ভেঙে ৮৩২ ভরি স্বর্ণ জব্দ রাজশাহীতে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১০ জন ৩ ডিসেম্বর রংপুরে বিভাগীয় মহাসমাবেশ সফল করতে দিনাজপুরে ৮ ইসলামী দলের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত। দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে সব বাহিনী প্রস্তুত: সিইসি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৬ হাজার কৃষক পাচ্ছে বিনামূল্যে গম বীজ ও সার। মাত্র চার মাসের শিশু সুমাইয়া বাঁচতে চায়! পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় হেফাজতে ইসলামের নতুন কমিটি গঠন। ভূমিকম্পে সম্ভাব্য ক্ষতি কমাতে এখনই শক্তিশালী ও সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে: সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান রাজধানীতে  আজ থেকে ঘরে বসেই মেট্রোরেলের কার্ড রিচার্জ করবেন? নীলফামারীতে পাটবীজ উৎপাদনকারী চাষীদের প্রশিক্ষণ। আর কোনো পরিস্থিতি নেই যে নির্বাচন ব্যাহত হবে-ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল  ৫-বছরেও শেষ হয়নি ওয়াশব্লকের নির্মাণ কাজ-জনস্বাস্থ্য অফিস বলছেন বাদ দেন চা খাওয়ার জন্য কিছু নেন। পার্বতীপুরে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকারের দাবীতে কর্মী সভা। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় নদী বাঁচাও আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নাগরিক সমাবেশ। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ইউএনও এক গৃহহীন ভারসাম্যহীন নারীর পাশে দাঁড়ালো। ৮ দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর নার্সিং এসোসিয়েশন দিনাজপুর জেলা শাখার স্মারকলিপি ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে ইউনিয়ন সিএসওর লাইভস্টক সংলাপ সভা অনুষ্ঠিত বগুড়ায় প্রেম করে বিয়ে অতপর ভাড়া বাসায় স্ত্রীকে হত্যা করল স্বামী। দিনাজপুরে ৩ দিনব্যাপী উদ্যোক্তা মেলা ও পিঠা উৎসবের সমাপনী। দিনাজপুরের বিরলে শতাধিক নেতা-কর্মীর মামলা থেকে বাঁচতে ফ্যাসিস্ট আ,লীগ থেকে পদত্যাগ! অভিযোগ দিয়ে ও কাজ বন্ধ হচ্ছে না আদমদিঘীতে সরকারি জায়গা দখল করে করা হচ্ছে অবকাঠামো নির্মাণ! বগুড়ার কইপাড়ায় নববধূ শম্পা হত্যার অভিযোগ, যৌতুক দাবির জেরে স্বামী আটক