admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৩০ আগস্ট, ২০২২ ৮:২৪ পূর্বাহ্ণ
মুক্ত কলম নিউজ ডেক্সঃ লিটারে পাঁচ টাকা কমানোর সুফল ভোক্তা পর্যায়ে কতটুকু আসবে তা সময়ই বলে দেবে। দেশে কেরসিন, ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোলের দাম লিটারে ৫ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আজ রাত থেকেই এই মূল্য কার্যকর হবে। এই বিষয়ে কিছুক্ষণের মাঝেই প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। এর আগে, বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশের বাজারে বৃদ্ধি পেয়েছিলো জ্বালানি তেলের দাম। চলতি মাসের ৫ আগস্ট রাত ১০টার দিকে তেলের দাম বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
নতুন দাম অনুযায়ী- প্রতি লিটার ডিজেল ৮০ টাকা থেকে ৩৪ টাকা বেড়ে ১১৪ টাকা, কেরোসিন ৩৪ টাকা বেড়ে ১১৪ টাকা, অকটেন ৪৬ টাকা বেড়ে ১৩৫ টাকা এবং পেট্রল ৪৪ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা করা হয়েছিলো। গত ৫ আগস্ট রাত থেকে হঠাৎ ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের দাম লিটারে সর্বোচ্চ ৪৬ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে সরকার। দাম বাড়ানোর এ প্রভাবে এরই মধ্যে গণপরিবহন ভাড়াসহ ইতোমধ্যে সবধরনের পণ্যের দাম বেড়ে যায়। জনগণের সমালোচনার মুখে গতকাল জ্বালানি তেলের দাম কমানো হয়েছে। দেখা গেছে, ২৪ দিন আগে গড়ে দাম বাড়ানো হয়েছিল ৪৬.৯৬ শতাংশ, সেখানে কমানো হয়েছে মাত্র গড়ে ৪.০৮ শতাংশ। তবে ভোক্তারা, জ্বালানি তেলের সামান্য দাম কমানোর সুফল তাদের পর্যায়ে আসা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।
গতকাল রাতে এক প্রজ্ঞাপনে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম লিটারে ৫ টাকা কমানো হয়েছে। এর ফলে প্রতি লিটার ডিজেল ও করোসিনের দাম আজ থেকে ১১৪ টাকার পরিবর্তে ১০৯ টাকা, অকটেন ১৩৫ টাকার পরিবর্তে ১৩০ টাকা এবং পেট্রল ১৩০ টাকার পরিবর্তে ১২৫ টাকায় বিক্রি হবে।
ভোক্তাদের মতে, সংসদীয় কমিটি যেখানে বিপিসির অনিয়ম নিয়ে স্তম্ভিত সেখানে বিপিসির অনিয়ম বের না করে ডিজেল, কেরোসিনসহ জ্বালানির তেলের দাম এক লাফে ৫২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। এখন আবার আমদানি শুল্ক কমিয়ে ডিজেলের দাম কিছুটা কমানো হয়েছে। আসলে এতে ভোক্তা স্বার্থ কতটুকু সংরক্ষণ হবে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলো। তাদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম যে পরিমাণ বাড়ানো হয়েছিল ওই পরিমাণ কমানো হোক। একই সাথে বিপিসির অনিয়ম বের করে জ্বালানি তেলের দাম আরো কমানো হলে ভোক্তাদের অধিকার সংরক্ষণ হবে। গত ৫ আগস্ট রাতে হঠাৎ করে জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে সর্বোচ্চ ৫২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছিল সরকার। এর মধ্যে ডিজেল ও কেরোসিন লিটারে ৩৪ টাকা বা সাড়ে ৪২ শতাংশ বাড়িয়ে ৮০ টাকা থেকে ১১৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। অকটেন লিটারে সর্বোচ্চ ৪৬ টাকা বা ৫১.৬৯ শতাংশ বাড়িয়ে ৮৯ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা এবং পেট্রল লিটারে ৪৪ টাকা বা ৫১.১৬ শতাংশ বাড়িয়ে ৮৬ টাকা থেকে ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। গড়ে বাড়ানো হয়েছিল ৪৬.৯৬ শতাংশ।
গতকাল জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ৫ টাকা বা ৪.৩৯ শতাংশ কমিয়ে করা হয় ১১৪ টাকা থেকে ১০৯ টাকা। আর অকটেন লিটারে ৫ টাকা বা ৩.৭০ শতাংশ কমিয়ে ১৩৫ টাকা থেকে ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। পাশাপাশি পেট্রল লিটারে ৩.৮৫ শতাংশ কমিয়ে ১৩০ টাকা থেকে ১২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। ২৪ দিন আগে অর্থাৎ ৫ আগস্ট গড়ে যেখানে বাড়ানো হয়েছিল ৪৬.৯৬ শতাংশ, গতকাল গড়ে তা কমানো হয়েছে ৪.০৮ শতাংশ।
হঠাৎ জ্বালানি তেলের দাম এ ব্যাপক আকারে বৃদ্ধিতে গণসমালোচনার মুখে পড়ে সরকার। এরই মধ্যে গণপরিবহনভাড়াসহ সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। বেড়ে গেছে মানুষের জীবন যাত্রার ব্যয়। বিপিসির এক পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, জ্বালানি তেল আমদানিতে অতিরিক্ত শুল্ক কর ও মূসক ধার্য্য করায় আমদানির প্রায় দ্বিগুণ অর্থ জনগণের পকেট থেকে চলে যাচ্ছে। প্রতি লিটার ডিজেলে যেখানে আমদানিতে ব্যয় হচ্ছে ৬১ টাকা ১৫ পয়সা, সেখানে গ্রাহককে পরিশোধ করতে হচ্ছে ১১৪ টাকা। এভাবে কেরোসিনের আমদানি মূল্য পড়ছে প্রায় ৬২ টাকা, বিক্রি করা হচ্ছে ১১৪ টাকা, বাড়তি ৫২ টাকা। পেট্রলের আমদানি দাম পড়ছে প্রায় ৬৯ টাকা, সেখানে বিক্রি করা হচ্ছে ১৩০ টাকা।
বেশি নেয়া হচ্ছে ৬১ টাকা। তেমনি অকটেনের আমদানি মূল্য পড়ছে প্রায় ৭২ টাকা, সেখানে বিক্রি করা হচ্ছে ১৩৫ টাকা। বেশি বিক্রি নেয়া ৬৩ টাকা। এভাবে দেশের মোট আমদানিকৃত জ্বালানি তেলের মধ্যে শুধু আলোচ্য চার ধরনের জ্বালানি তেলের জন্য জনগণের পকেট থেকে আমদানি মূল্যের চেয়ে বেশি নেয়া হচ্ছে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। এমনি পরিস্থিতিতে ব্যাপক সমালোচনার মুখে গত রোববার ডিজেলের আমদানি শুল্ক সোয়া ১১ শতাংশ কমানো হয়। এনবিআরের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ডিজেল আমদানিতে ৫ শতাংশ অগ্রিম কর কমানো হয়েছে এবং কাস্টমস ডিউটি ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। হ্রাসকৃত আমদানি শুল্ক চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলে এনবিআর বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ হিসেবে ডিজেল আমদানিতে মোট শুল্ক ৩৪ শতাংশ থেকে কমে ২২ দশমিক ৭৫ শতাংশ হবে।
ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. শামসুল আলম গতকাল নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন, সংসদীয় কমিটি যেখানে বিপিসির ২০০৯ থেকে ১০১২ সাল পর্যন্ত দুর্নীতি দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছে সেখানে ২০১২ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বিপিসির দুর্নীতির চিত্র বের না করে বরং জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে বিপিসির দুর্নীতি ঢাকা হয়। অথচ বিপিসির অনিয়ম বের হলেও তা বন্ধ করা হলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে হতো না। সেখানে গ্রাহকের ন্যূনতম স্বার্থ না দেখে, ভোক্তাদের মতামত না নিয়ে রাতের আঁধারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়। এর ফলে ইতোমধ্যে সব কিছুরই দাম বেড়ে গেছে। এখন লিটারে পাঁচ টাকা কমানোর সুফল কতটুকু আসবে তা সময়ই বলে দেবে।