admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২৬ মে, ২০২০ ৮:০০ অপরাহ্ণ
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। সোমবার (২৫ মে) গণমাধ্যমকে বিষয়টি তিনি নিজেই নিশ্চিত করেছেন। রবিবার গণস্বাস্থ্যের ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় তার করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে। জাফরুল্লাহ বলেন, আমি বাসায় আইসোলেশনে আছি। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।সোমবার রাতে তিনি বলেন, করোনা আক্রান্ত হওয়ায় আজকে ঈদে আমি কারো সাথে দেখা সাক্ষাত করিনি। সবাইকে ঈদ মোবারক জানাচ্ছি। গণস্বাস্থ্যের করোনা কিট প্রকল্প সমন্বয়কারী ডা. মুহিব উল্লাহ খোন্দকার জানান, কিডনিজনিত সমস্যায় সপ্তাহে তিনবার করে ডায়ালিসিস করা লাগলেও করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ায় ডা. জাফরউল্লাহর আজকে ডায়ালিসিস করা হয়নি।
যুক্তরাজ্যের রয়্যাল কলেজ অব সার্জনস-এ এফআরসিএস পড়াকালীন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী চূড়ান্ত পর্ব শেষ না-করে লন্ডন থেকে ভারতে ফিরে এসে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে তিনি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে তিনি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি।করোনায় আক্রান্ত জাফরুল্লাহ চৌধুরী কারোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। সোমবার (২৫ মে) রাতে সময় সংবাদকে তিনি নিজেই এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রোববার গণস্বাস্থ্যের ল্যাবে পরীক্ষায় তার কোভিড-১৯ পজিটিভ আসে। তিনি জানান, গতকাল আমার থুথু পজিটিভ হয়েছে। তিনদিন হলে এন্টিবডি পজিটিভ হয়। আগামীকাল মঙ্গলবার এন্টিবডি পজিটিভ হবে। বর্তমানে আলাদা ঘরে আইসোলেশনে আছেন বলে জানান তিনি। খ্যাতিমান চিকিৎসক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং মুক্তিযোদ্ধা জাফরুল্লাহ চৌধুরী গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র নামক স্বাস্থ্য বিষয়ক এনজিওর প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৮২ সালে প্রবর্তিত বাংলাদেশের ‘জাতীয় ঔষধ নীতি’ ঘোষণার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
১৯৪১ সালের ২৭ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম জেলার রাউজানে জন্ম নেয়া জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বাবার শিক্ষক ছিলেন বিপ্লবী মাস্টারদা সূর্যসেন। দশ ভাইবোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। ঢাকার বকশীবাজারের নবকুমার স্কুল থেকে মেট্রিকুলেশন এবং ঢাকা কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট উত্তীর্ণের পর তিনি ১৯৬৪ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করেন। এরপর ১৯৬৭ সালে ব্রিটেনের রয়্যাল কলেজ অব সার্জনস থেকে এফআরসিএস প্রাইমারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
এরপর মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে এফআরসিএসের চূড়ান্ত পর্ব শেষ না করে লন্ডন থেকে ভারতে ফিরে এসে যুদ্ধে অংশ নেন। আগরতলার মেলাঘরে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে গেরিলা প্রশিক্ষণ নেন এবং এরপরে ডা. এম এ মবিনের সাথে মিলে সেখানেই ৪৮০ শয্যাবিশিষ্ট বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করেন। তিনি স্বল্প সময়ের মধ্যে অনেক নারীকে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ দিতেন এবং তাদের দিয়ে রোগীদের সেবা করতেন। তার এই অভূতপূর্ব সেবাপদ্ধতি পরে বিশ্ববিখ্যাত জার্নাল পেপার ‘ল্যানসেট’-এ প্রকাশিত হয়।
জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৭৭ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী। এছাড়াও ফিলিপাইন থেকে রেমন ম্যাগসাইসাই (১৯৮৫) এবং সুইডেন থেকে বিকল্প নোবেল হিসাবে পরিচিত রাইট লাভলিহুড (১৯৯২), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বার্কলি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ইন্টারন্যাশনাল হেলথ হিরো’ (২০০২) এবং মানবতার সেবার জন্য কানাডা থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছেন।