admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১০ জানুয়ারি, ২০২৩ ৯:৩৭ অপরাহ্ণ
এম.মাসুম আজাদ,ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে গত ০৪/১০/২০২২ইং তারিখে শহরের চাকলাপাড়ার দাস পাড়ায় শারদীয় দূর্গাৎসব চালাকালীন সময়ে সুবির দাসকে নিজ বাড়ির সামনে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এলোপাথাড়ি ভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সে সময় সুবির দাসের পিতা, সত্য পদ দাস, মাতা শিখা রানী দাস, বড় ভাই (বাদী) রনি দাস, কাকা খোকন দাস, সুমন দাস সকলেই গুরুত্বর রক্তাক্ত যখম হয়।
স্থানীয়ভাবে খোজ নিয়ে যানা যায়,ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকায় মিঠুন দাস সর্ব প্রথম সিসি ক্যামেরা অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিয়ে তার গোষ্টির লোকজন ও তার গ্যাং এর অন্যতম সদস্য সুরেশ দাস, শিপন আহমেদ ও অভি দাসদের সাথে নিয়ে সেভেন গিয়ার ছুরি, কাঁঠের তৈরী মুগুর, বাঁশের লাঠি দিয়ে আক্রমণ করে। স্থানীয় জনগণ ও টহলরত পুলিশের কারণে আহত সকলে প্রাণে বেঁচে যায়। তাৎক্ষনিকভাবে টহল পুলিশ ও স্থানীয় জনগণ এগিয়ে না আসলে আসামীরা পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সকলকেই হত্যা করতো বলে জানা যায়।
সুবির একজন ধর্মপরায়ণ ছেলে তাঁর বাড়ীতে তার নিজের প্রতিষ্ঠিত কালী মন্দির আছে। সে ঐ মন্দিরের পুরোহিত ছিলেন। সুবির দাস প্রত্যোক কালীপূজার সময় নিজস্ব অর্থায়নে পূজায় আগত দর্শণার্থীদের জন্য পাঁঠার মাংস, খিচুড়ি ও পূজার প্রসাদ বিতরণ করত। এমনকি সুবির দাস খুন হয়ে যাওয়ার দিনেও সে প্রায় তাঁর কালী মন্দিরের পূজার প্রসাদ (২০০ প্যাকেট) বিতরণে ব্যস্ত ছিল এবং তাঁর পরনে গেরুয়া বসন ছিল।
জমিজমা সংক্রান্ত এই বিষয়ে পূর্বেও সুবির দাসের স্বপরিবারে হত্যার উদ্দেশ্যে প্রায় সময়ে আক্রমণ করত বলে তার পরিবার জানান । গত ২৫/০৭/২০২০ ইং তারিখে সুবির দাসের বড় ভাই (বাদী) রনি দাসকে রাস্তায় ফেলে মারধর করে। ঐ দিনেই সুবির দাসের পিতা সত্য পদ দাসকে রাস্তায় ফেলে বিবস্ত্র করে পেটায়, কাকা সুমন দাসের মাথা ফাটিয়ে দেয়। ০২/০৮/২০২২ ইং তারিখে রাতে সুবির দাসের স্বপরিবারে হত্যার উদ্দেশ্যে গাছি দা নিয়ে মিঠুন দাস ও তার গ্যাং এর অন্যতম সদস্য শিপন আহমেদ মৃত সুবির দাসের বাড়ীর সামনে মহড়া দিয়েছিল বলে স্থানীয় অনেকেই জানান। স্থানীয় ও পরিবারের লোকজন জানান, সুবির হত্যার মূল হোতা মিঠুন দাস হত্যাকান্ডের ০১ বছর আগে থেকে প্রকাশ্যেই বলে বেড়াতো আমি সুবিরদের স্বপরিবারে হত্যা করে ভারতে চলে যাবো।
এদিকে গত ০৯/০১/২০২৩ ইং তারিখে র্যাব-৬ এর হাতে গ্রেফতার হওয়ায় এলাকার জনগণের মনে স্বস্তি ফিরেছ। এলাকার জনগণ সুবির দাসের হত্যাকারীদের যথাযথ শাস্তির আওতায় আনা হবে বলেই আসা করছেন।