admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন যুক্তরাষ্ট্র আর কোনো দেশের হয়ে যুদ্ধে জড়াবে না। আফগানিস্তানে দুই দশক ধরে চলা মার্কিন আধিপত্যের অবসান হয়েছে। তালেবানের বেঁধে দেওয়া সময়, ৩১ আগস্টের মধ্যেই মার্কিন সেনারা সেখান থেকে চলে গেছেন। এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অনেক বড় শিক্ষা। সেটা স্বীকার করেছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও। তিনি বলেছেন, আর কোনো দেশের হয়ে যুদ্ধে জড়াবে না যুক্তরাষ্ট্র। সর্বশেষ মার্কিন সেনা দলটি কাবুল ত্যাগ করার একদিন পর গতকাল জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
সেনা প্রত্যাহারের সময় কাবুল বিমানবন্দরে যে রক্তপাত হয়েছে তার দায় মাথা পেতে নিয়েছেন বাইডেন। একইসঙ্গে তিনি বলেছেন, এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে আমূল পরিবর্তন আসবে। সূচনা হবে নতুন যুগের। অত্যন্ত স্পষ্ট করে বাইডেন বলেছেন, বিদেশে আমেরিকার ভূমিকার পরিবর্তন ঘটবে। সামরিক শক্তির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনা হবে। অন্য কোনো দেশকে সংশোধন কিংবা পুনর্গঠন করতে যুদ্ধে জড়াবে না যুক্তরাষ্ট্র।
আফগানিস্তান থেকে চলে আসার মধ্য দিয়ে বৃহৎ পরিসরে সামরিক অভিযান চালানোর যুগের সমাপ্তি ঘটাতে চাই আমরা। সন্ত্রাসবাদ দমনের অজুহাতে ২০০১ সালে আফগানিস্তান এবং ২০০৩ সালে ইরাকে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর তারা সেখানে গণতান্ত্রিক ধারার সরকার গঠনের কথা বলে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের প্রচেষ্টার ইতি ঘটার পরে দেখা গেছে, এসব দেশে উন্নয়নমূলক কোনো কাজই হয়নি। পুরো প্রচেষ্টাই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, আফগানিস্তান পুনর্গঠনে তারা কোটি কোটি ডলার ব্যয় করেছে। গত মার্চে প্রকাশিত মার্কিন সরকারের আফগানিস্তান পুনর্গঠন বিষয়ক তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল অংকের অর্থ মূলত গচ্ছা গেছে।প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মার্কিন অব্যবস্থাপনার পাশাপাশি আফগানিস্তানে ব্যাপক দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলার কারণে মার্কিন সরকারের ওই বিপুল বিনিয়োগ মূলত কোনো কাজে আসেনি।