admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২২ মে, ২০২০ ৪:৫১ পূর্বাহ্ণ
কলকাতা বিমানবন্দর মাত্র ছয় ঘণ্টার ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে । বিমান ওঠানামা করার রানওয়ে সম্পূর্ণভাবে তলিয়ে গেছে বৃষ্টির পানিতে। অনেক স্থাপনায় রয়ে গছে ঝড়ের তীব্রতার চিহ্ন। পশ্চিমবঙ্গ দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার গতিবেগের ঝড়ে এবং ভারি বৃষ্টিপাতে প্রাণ হারিয়েছে কমপক্ষে ১২ জন। বিমানবন্দরের ভিতরের একটি ভিডিওতে দেখা গেছে রানওয়ে পানিতে তলিয়ে গেছে এবং হ্যাঙ্গারের ছাদ ফুটো হয়ে আছে। বন্দরটির সব ধরণের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। গত ২৫ মার্চ থেকে যাত্রীবাহী বিমান চলাচল বন্ধ থাকলেও পণ্যবাহী কার্গো বিমান চলাচল করছিল। ঝড়ের সময় নিজের অফিসে অবস্থান করা রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলছিলেন, সর্বনাশ হয়ে গেছে।
আমফানের তাণ্ডবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা তিনি বলেন, রাজ্যে আমফানের তাণ্ডবে বহু ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ে এবং বহু মানুষ হতাহত হয় ফলে করোনা ভাইরাসের পরিস্থিতি মাথায় রেখে মানুষকে নিরাপদ জায়গায় পৌঁছে দিতে গিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয় প্রশাসনকে। এসময় সাইক্লোন আমফানে মৃতদের পরিবারকে ২.৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। এদিকে মমতার আহ্বানে সারা দিয়ে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, পুরো দেশ বাংলার সঙ্গে রয়েছে, এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যে কোনও কার্পণ্য করা হবে না।
এছাড়াও সব রকম সহযোগিতার বার্তা দিয়েছেন দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তিনি টুইট করে বলেন, “আমরা আমফানের বিষয়টি ভাল ভাবে নজর রাখছি। ঝড়ের তাণ্ডবে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা নিয়ে ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর কথা বলেছি। প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছি। উল্লেখ্য, বুধবার (২০ মে) আমফানের প্রভাবে কলকাতায় ১২৫ কিলোমিটার বেগে ঝড় বইতে থাকে, গাড়ি পর্যন্ত উল্টে যায়, গাছ, বিদ্যুৎ এর খুঁটি পড়়ে রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। কলকাতায় ভেঙে পড়ে বহু ঘরবাড়ি। বন্ধ থাকা কলকাতা বিমানবন্দরের একাংশ ভেঙে পড়ে এবং প্লাবিত হয়।
উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় আছড়ে পড়ে সাইক্লোন আমফান, ফলে সেখানে ব্যাপক ঝড় ও বৃষ্টি হয়। সেখানেও বহু ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ে এবং রাস্তায় গাছ, বিদ্যুৎ এর খুঁটি উপড়ে পড়ে। প্লাবিত হয় নিম্নবর্তী এলাকাগুলি। বুধবার ঝড়ের সময় নবান্নের কন্ট্রোলরুমে থেকে করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সর্বনাশ হয়ে গেল যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বন্দ্যোপাধ্যায়। উল্লেখ্য, এর আগে ১৯৯৯ সালের সুপার সাইক্লোন ওদিশাতে প্রদেশটিতে প্রায় ১০ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল।