হোম
নির্বাচিত কলাম

ঈদে লক্ষ লক্ষ মানুষের বাড়ি ফেরায় ও পশু ক্রয় নিয়ম না মানার কারণে সংক্রমণ বৃদ্ধির ঝুঁকিতে দেশ

admin || মুক্ত কলম সংবাদ

প্রকাশিত: ১ আগস্ট, ২০২০ ৭:৩৬ অপরাহ্ণ

BD-Korona-mknewsbd

ফাইল ছবি

ঈদে লক্ষ লক্ষ মানুষের বাড়ি ফেরায় ও পশু ক্রয় নিয়ম না মানার কারণে সংক্রমণ বৃদ্ধির ঝুঁকিতে দেশঃ ফেরিগুলোতে গাদাগাদি করে মানুষ ওঠে। বাংলাদেশে করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে ঈদে লক্ষ লক্ষ মানুষের বাড়ি ফেরার প্রেক্ষাপটে সারাদেশ আবারও সংক্রমণ বৃদ্ধির ঝুঁকিতে পড়েছে বলে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলেছেন।কর্তৃ পক্ষের বক্তব্য হচ্ছে, ঈদকে কেন্দ্র করে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় মানুষের যাতায়াত ঠেকাতে তারা নিরুপায়। ফলে এখন সংক্রমণ বাড়ার ঝুঁকি মাথায় রেখে ঈদের পর পরই নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে বলে কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন।

সংক্রমণের ঝুঁকি উপেক্ষা করেই সড়ক এবং নৌপথে ঘরমুখো মানুষের ঢল নামে। ঈদের আগের দিনে মানুষের স্রোত দেখা যায় বাসটার্মিনাল, লঞ্চ এবং ফেরীঘাটগুলোতে। ঢাকার সাথে উত্তরের জেলাগুলোর যোগাযোগের সহাসড়কে টাঙ্গাইল জেলায় কয়েক কিলোলোমিটার জুড়ে যানজটে মানুষকে ভোগান্তিও পোহাতে হয়। দক্ষিণাঞ্চলমুখী সব লঞ্চে মানুষের উপচে পড়া ভিড়ের খবর পাওয়া যায়। স্বাভাবিক সময়ে ঈদে বাড়ি ফেরার যে দৃশ্য থাকে, এখন মহামারির মধ্যেও পথে পথে অনেকটা একই চেহারা নেয়।

একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঈদ করতে গ্রামের বাড়ি জয়পুরহাট গেছেন। তিনি বলছিলেন, রাস্তায় মানুষের মাঝে স্বাস্থ্য বিধি মানার কোন বালাই নেই। আমি আজকে গ্রামের বাড়ি পর্যন্ত এসেছি। রাস্তাঘাটে দেখলাম, ৫০ শতাংশ মাস্ক পরেছে, আর বাকিটা পরেনি। ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গের দিকে যে গাড়িগুলো আসছে, সেগুলোতে যে স্বাস্থ্যবিধির কথা আমরা বলি, সেটি মানা হচ্ছে না। মানুষ মনে করছে, এটা তেমন কিছু এখন হবে না। ভাল হয়ে গেছে।

নৌপথে ছিল মানুষের উপচেপড়া ভিড় ছিলো ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ এবং চট্টগ্রাম-এই চারটি নগরীতে সংক্রমণের হার অনেক বেশি ছিল। সেজন্য এই শহরগুলো থেকে ঈদে অন্য এলাকায় না যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছিল সরকার। কিন্তু নির্দেশনা বাস্তবায়নে কোন পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক গত বৃহস্পতিবার ঈদে মানুষের বাড়ি ফেরা এবং সারাদেশে কোরবানির পশুর হাটের কারণে সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল বাসার মো: খুরশিদ আলম বলেছেন, ঘরমুখো মানুষের স্রোত ঠেকানো কঠিন। শুধুমাত্র মাস্কটাও যদি আমরা ঠিকমত ব্যবহার করতে পারি, সেটাও আমাদের অনেকখানি কাজ দেবে। যেহেতু মানুষ যাওয়া এবং মানুষের স্রোত আমরা ঠেকাতে পারছি না। মানুষতো যাচ্ছে। জোর করেতো মানুষকে আটকে রাখা যাচ্ছে না।

ঈদে কোরবানীর পশুর হাটগুলোতেও স্বাস্থ্যবিধি মানা হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের অনেকে বলেছেন, গত ঈদে লকডাউনের মধ্যে সরকারের নানা ধরণের নিষেধাজ্ঞার পরও মানুষের গ্রামে যাওয়া ঠেকানো যায়নি। এবার সরকার মানুষের ওপরই দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছে বলে তারা মনে করেন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা: মাহফুজা রিফাত বলছিলেন, হটস্পট থেকে গ্রামে গিয়ে অন্যকে ঝুঁকিতে ফেলার ব্যাপারে মানুষের নিজেরও দায়িত্ব অনেক বেশি রয়েছে।

হয়তো যাতায়াতটা আমরা বন্ধ করতে পারতাম। সেটা কার্যকরভাবে করা হয়নি। আর দ্বিতীয়ত মানুষেরও সচেতনতার দিকে যথেষ্ট করার আছে। সেখানেও দায়িত্ব হলো আমরা তাদের কতটা সচেতন করতে পেরেছি। আর মানুষের নিজের দায়িত্ব নিজেকেই নিতে হবে। কারণ সে হয়তো নিজে ভাল হয়ে যাবে। কিন্তু সে তার কাছের মানুষটাকে আক্রান্ত করতে পারে এবং মৃত্যুও হতে পারে। ঢাকা থেকে বরিশালে গ্রামের বাড়িতে গেছেন তানজিলা হক। এখনকার মহামারির মধ্যে তিনি নিজের দায়িত্বের বিষয়টা স্বীকার করেন। একইসাথে তার বক্তব্য হচ্ছে, এবার ঈদে বাধ্য হয়ে তিনি গ্রামের বাড়ি গেছেন। এটা আসলে যার যার জায়গায় থাকাটাই নিরাপদ ছিল। কিন্তু প্রত্যেকেই প্রয়োজনেইতো মুভ করছে, সেটা হয়তো পরিবারের প্রয়োজনে অথবা আশে পাশের নানা জনের প্রতি কর্তব্য বা দায়িত্বের প্রয়োজনে।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, গত ঈদে নানা বিধিনিষেধের পরও মানুষের যাতায়াত যে ঠেকানো যায় নি, তার প্রভাব ছিল জুলাই মাস জুড়ে। এই পুরো মাসেই সংক্রমণ উর্ধ্বমুখী ছিল। তারা উল্লেখ করেছেন, গত ঈদে মানুষের যাতায়াতের প্রভাবে দেশের গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল বাসার মো: খুরশিদ আলম বলেছেন, ঈদের পর সংক্রমণ কোন দিকে মোড় নেয়, সেটা বোঝার জন্য বিশেষজ্ঞদের দিয়ে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হবে। এছাড়া পরীক্ষার সংখ্যাও বাড়ানো হবে।

এখন দেশে ৮২টি ল্যাবে আরটিপিসিআর মেশিনের মাধ্যমে নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। ঈদের পর আরটিপিসিআর মেশিনের সংখ্যা বাড়িয়ে সব জেলা শহর থেকে নমুনা পরীক্ষার পদক্ষেপ তারা নিয়েছেন। মহাপরিচালক অধ্যাপক আলম আরও বলেছেন, পরীক্ষা করানোর ব্যাপারে মানুষকে আগ্রহী করার জন্যও তারা কর্মসূচি নেবেন। একইসাথে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেছেন, এখন সংক্রমণের হার ডিকলাইন বলবো না, বলবো একটা স্থির পর্যায়ে আছে। হয়তো সামনে দিকে ডিকলাইন করবে। কিন্তু কিছুদিন ধরে নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা যে অনেক কমে গেছে, সে ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেছেন, ঈদের পরে আবারও ২০ হাজারের বেশি নমুনা পরীক্ষার টার্গেট তারা নিয়েছেন।

 

মতামত জানান :

Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930  

সর্বশেষ খবর

ঠাকুরগাঁওয়ে পীরগঞ্জে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ইটভাটায় ২০ লাখ টাকা জরিমানা।
আইন-বিচার 2 hours আগে

ভারতে বিধানসভা নির্বাচন উপলক্ষে চতুদের্শীয় বাংলাবান্ধা স্থল বন্দরে তিন দিন
আন্তর্জাতিক 5 hours আগে

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে অবৈধভাবে পেট্রোল বিক্রির দায়ে দুইজনের অর্থদন্ড
রংপুর 5 hours আগে

নকল মুক্ত পরিক্ষায় কঠোর প্রশাসন-রাণীশংকৈলে সিসি ক্যামেরার আত্ততায় সব কেন্দ্র।
রংপুর 5 hours আগে

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিন অনুপস্থিত ১১৭৮ জন,একজন
রংপুর 6 hours আগে

নওগাঁয় চার খুনের নেপথ্যে সম্পত্তির বিরোধ নাকি অন্য কিছু?
দুর্ঘটনা 7 hours আগে

দিনাজপুরের বিরামপুরে বোরো ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা।
অর্থনীতি 14 hours আগে

ঠাকুরগাঁও হরিপুরে সাংবাদিকদের সাথে জনসংগঠন ভূমিহীন সমন্বয় পরিষদের মতবিনিময় সভা
রংপুর 1 day আগে

দিনাজপুরে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করলেন জেলা প্রশাসক।
রংপুর 1 day আগে

বগুড়া সিটি করপোরেশন ঘোষণা: নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুললো উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার।
বগুড়া 1 day আগে

পাঠকপ্রিয়

শিরোনাম :

কুড়িগ্রামে ঐতিহাসিক আসনে কঠিন চ্যালেঞ্জে জাপা,মাঠ গরম এনসিপি-বিএনপির। হাদীর ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় দিনাজপুর সীমান্ত ৪২ বিজিবির রেড অ্যালার্ট জারি। রোহিঙ্গা মেয়েরা পাচার ছাড়াও বিদেশীদের দ্বারা যৌন কাজে ব্যবহারের টার্গেট হয়ে উঠছে ঠাকুরগাঁওয়ে নানা কর্মসূচিতে হানাদার মুক্ত দিবস উদযাপিত। ঠাকুরগাঁও জেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ৪র্থ জেলা রোভার মুট-২০২৫। কুড়িগ্রামের রাজারহাটে প্রাণিসম্পদ সপ্তাহের প্রদর্শনী ও সমাপনী অনুষ্ঠিত। পার্বতীপুরে জাতীয় প্রাণি সম্পদ ও ডেইরি প্রকল্পের উদ্বোধন। রাণীশংকৈলে জাতীয় প্রাণীসম্পদ সপ্তাহ ও প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত পলাতক শেখ হাসিনার অগ্রণী ব্যাংকের লকার ভেঙে ৮৩২ ভরি স্বর্ণ জব্দ রাজশাহীতে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১০ জন ৩ ডিসেম্বর রংপুরে বিভাগীয় মহাসমাবেশ সফল করতে দিনাজপুরে ৮ ইসলামী দলের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত। দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে সব বাহিনী প্রস্তুত: সিইসি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৬ হাজার কৃষক পাচ্ছে বিনামূল্যে গম বীজ ও সার। মাত্র চার মাসের শিশু সুমাইয়া বাঁচতে চায়! পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় হেফাজতে ইসলামের নতুন কমিটি গঠন। ভূমিকম্পে সম্ভাব্য ক্ষতি কমাতে এখনই শক্তিশালী ও সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে: সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান রাজধানীতে  আজ থেকে ঘরে বসেই মেট্রোরেলের কার্ড রিচার্জ করবেন? নীলফামারীতে পাটবীজ উৎপাদনকারী চাষীদের প্রশিক্ষণ। আর কোনো পরিস্থিতি নেই যে নির্বাচন ব্যাহত হবে-ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল  ৫-বছরেও শেষ হয়নি ওয়াশব্লকের নির্মাণ কাজ-জনস্বাস্থ্য অফিস বলছেন বাদ দেন চা খাওয়ার জন্য কিছু নেন। পার্বতীপুরে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকারের দাবীতে কর্মী সভা। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় নদী বাঁচাও আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নাগরিক সমাবেশ। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ইউএনও এক গৃহহীন ভারসাম্যহীন নারীর পাশে দাঁড়ালো। ৮ দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর নার্সিং এসোসিয়েশন দিনাজপুর জেলা শাখার স্মারকলিপি ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে ইউনিয়ন সিএসওর লাইভস্টক সংলাপ সভা অনুষ্ঠিত বগুড়ায় প্রেম করে বিয়ে অতপর ভাড়া বাসায় স্ত্রীকে হত্যা করল স্বামী। দিনাজপুরে ৩ দিনব্যাপী উদ্যোক্তা মেলা ও পিঠা উৎসবের সমাপনী। দিনাজপুরের বিরলে শতাধিক নেতা-কর্মীর মামলা থেকে বাঁচতে ফ্যাসিস্ট আ,লীগ থেকে পদত্যাগ! অভিযোগ দিয়ে ও কাজ বন্ধ হচ্ছে না আদমদিঘীতে সরকারি জায়গা দখল করে করা হচ্ছে অবকাঠামো নির্মাণ! বগুড়ার কইপাড়ায় নববধূ শম্পা হত্যার অভিযোগ, যৌতুক দাবির জেরে স্বামী আটক