admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৪ মে, ২০২৪ ৮:৫৫ অপরাহ্ণ
মিরু হাসান,স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়ার আদমদীঘিতে নেই কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, খুজে পাওয়া যায়নি দোকানের অস্বিত্ব, তবু টেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এর ডিলার নিয়োগ দেয়া হয়েছে মের্সাস রাজু টের্ডাস,মের্সাস শাফি টের্ডাস ও মের্সাস শফিক টের্ডাস নামের তিন প্রতিষ্ঠানকে। গত ৫ মে/২০২৪ ইং উপ-সচিব (অতিরিক্ত, সিএমএসওবিওসি) মো. গোলাম খোরশেদ স্বাক্ষরিত এক ডিলার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।
এমন ঘটনা জানার পর স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র ক্ষোভ। এছাড়ার প্রকৃত মুদি ব্যবসায়ীর মধ্যে যারা আবেদন করেছে তাদের কাউকে ডিলার নিয়োগ না দেওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে নানা সমালোচনা। টিসিবি ভবন-১, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫। www.tcb.bd.com ওয়েব সাইডে ২৬.০৫.০০০০.০২৩.১১.১২৮.২৪-১৬৭ নম্বর স্মারকে দেখা যায় বগুড়া জেলার বগুড়া সদর, শিবগঞ্জ উপজেলা, সোনাতলা উপজেলা, শেরপুর উপজেলা, গাবতলী উপজেলা, ধুনট উপজেলা, শাজাহানপুর উপজেলা ও আদমদীঘি উপজেলা মিলে মোট ২৩টি ডিলার নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
ওয়েব সাইডে প্রকাশিত ওই তালিকায় ১৩ নং সিরিয়ালে আদমদীঘি উপজেলা সদরের গোড়গ্রাম রোড গ্রামীণ ব্যাংক সংলগ্ন “মের্সাস রাজু টের্ডাস” ১৪ নং সিরিয়ালে উপজেলার নৎরতপুর ইউনিয়নের মুরইল বাজারে “মের্সাস শফিক টের্ডাস” এবং আদমদীঘি উপজেলা সদরের হাটখোলা নামক স্থানে “মের্সাস শাফি টের্ডাস” প্রতিষ্ঠান নামে টিসিবি ডিলার নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
খোজ নিয়ে দেখা গেছে, ওই ঠিকানাগুলোতে তাদের কোন দোকান কিংবা প্রতিষ্ঠান নেই। এদিকে কোন দোকান কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান না থাকা সত্ত্বেও অস্বিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে টিসিবি ডিলার নিয়োগ দেওয়ায় স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ীদের মাঝে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
সোমবার (১৩ মে) সকালে গণমাধ্যমকর্মীরা সরেজমিন নিয়োগকৃত ডিলারদের দেয়া ঠিকানা অনুয়ায়ী উপজেলা সদরের গোড়গ্রাম গ্রামীণ ব্যাংক সংলগ্ন মের্সাস রাজু টের্ডাস এর দেয়া তথ্য অনুয়ায়ী রাজু আহম্মেদ নামক ব্যক্তিকে ০১৭১৩-৩৭৭২৮০ নম্বর সাংবাদিকরা মুঠোফোন ফোন দিলে তিনি জানান আমার বাসা বগুড়াতে। আমি পরে আপনাদের সাথে কথা বলবো বলে ফোন কেটে দেন। অপরদিকে উপজেলা সদরের হাটখোলা নামক ঠিকানায় মেসার্স শাফি টের্ডাস এর দেয়া তথ্য অনুয়ায়ী শাফি পারভেজ নামক ব্যক্তিকে ০১৭১৩-৩৭৭৩৩৭ নম্বরে ফোন দিয়ে তিনি বলেন, তার বাসা বগুড়ার মাটিডালিতে। তার কোন দোকান আদমদীঘিতে নেই বলে তিনি স্বীকার করেন। তবে টিসিবি’র ডিলার এর জন্য আবেদন করেছিলাম বলে তিনি এ প্রতিনিধিকে জানান।
এরপর তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে চায়ের ব্যবস্থা করবেন বলে ফোন কেটে দেন। একই ঘটনা ঘটে উপজেলার মুরইল বাজারের মের্সাস শফিক টের্ডাসে ক্ষেত্রে। মুরইল বাজারেও শফিক টের্ডাস নামে কোন দোকানের অস্তিস্ত খুজে পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রোমানা আফরোজ সাথে কথা বলা হলে তিনি জানান, যখন টিসিবি ডিলার নিয়োগের তদন্ত হয়েছে সেই সময় আমি এখানে কর্মরত ছিলাম না। তবে এ বিষয়টি খতিয়ে দেখবো।
বিষয়টি নিয়ে টেডিং কর্পোরেশন (টিসিবি) বগুড়া ক্যাম্পের যুগ্ম পরিচালক (অফিস প্রধান) প্রতাপ কুমার সাথে মুঠোফোনে এ প্রতিনিধির কথা হলে তিনি বলেন, টিসিবি ডিলার নিয়োগ ব্যপারে আমার অফিসের তেমন কাজ নেই। আবেদনকারীদের দোকান কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে কিনা সেটা দেখার দায়িত্ব স্থানীয় প্রশাসনের। যেহেতু সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জানলাম এটি নিয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলবো বলে তিনি এ প্রতিনিধিকে জানান।