মোক্তারুজ্জামান মোক্তার,পার্বতীপুর,দিনাজপুর প্রতিনিধি || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৩ অক্টোবর, ২০২৬ ৭:৩৯ পূর্বাহ্ণ
দীর্ঘ আন্দোলনের পর অবশেষে সুফল পেতে শুরু করেছেন বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দারা। ক্ষতিগ্রস্তদের ৭ দফা দাবির মধ্যে ৩ নম্বর দাবি পূরণ হতে চলেছে। বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির অর্থায়নে এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর কারিগরি সহায়তায় হামিদপুর ইউনিয়নের বৈদ্যনাথপুর থেকে বৈগ্রাম পর্যন্ত বহুল প্রতীক্ষিত পাকা সড়কের নির্মাণ কাজ এখন শেষ পর্যায়ে।
এ বিষয়ে ভূমি ও বসতভিটা রক্ষা কমিটির সভাপতি মো. মতিয়ার রহমান জানান, “ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীদের ৭ দফা দাবি নিয়ে আমরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছি। আনন্দের বিষয়, খনি কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে আমাদের ৩ নম্বর দাবিটি পূরণ করেছে। এর আওতায় হামিদপুর ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব করে বৈদ্যনাথপুর থেকে বৈগ্রাম পর্যন্ত সড়কটি পাকা করা হচ্ছে। আগে রাস্তাটি অত্যন্ত ভাঙাচোরা থাকায় এলাকার মানুষকে ৪-৫ কিলোমিটার পথ ঘুরে চলাচল করতে হতো। বর্তমানে চলমান এই সড়ক উন্নয়ন কাজের গুণগত মান অত্যন্ত চমৎকার। তিনি আরও জানান, এই প্রকল্পের কাজ আগামী এক মাসের মধ্যেই সম্পন্ন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
৯ নম্বর হামিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রেজওয়ানুল হক জানান, কয়লাখনির জন্য অধিগ্রহণকৃত এলাকা থেকে খয়েরপুকুর-ফুলবাড়ী সংযোগ সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশের বিকল্প সড়ক হিসেবেই এই উন্নয়ন প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকৌশলীদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে নির্মিত এই সড়কটি আগের চেয়ে অনেক প্রশস্ত হওয়ায় স্থানীয়দের যাতায়াতে দারুণ সুবিধা হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরে বৈদ্যনাথপুর থেকে বৈগ্রাম পর্যন্ত ১৮০০ মিটার দীর্ঘ এই সড়কের সিংহভাগ কাজ শেষ হয়েছে। এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, এই সড়কটি এখন এই এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রধান মাধ্যম এবং একটি দর্শনীয় আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। শুধু এই একটি রাস্তাই নয়, পুরো পার্বতীপুর উপজেলা জুড়েই এখন উন্নয়নের জোয়ার বইছে। পার্বতীপুর এলজিইডি অফিসের তথ্য মতে, গত ৩ মাসে বৃহত্তর রংপুর ও দিনাজপুর জেলা গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২০ কিলোমিটার গুরুত্বপূর্ণ পাকা রাস্তার কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
এছাড়া ‘প্রায়োরিটি বেসড রুরাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’ (জিওবি)-এর অধীনে আরও ১২ কিলোমিটার রাস্তার উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে, যা আগামী দুই মাসের মধ্যে শেষ হবে। অন্যদিকে, উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে ৮টিতে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নির্মাণকাজ চলছে, যা আগামী তিন মাসে শেষ হবে। ইতিমধ্যে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে এবং বছিরবানিয়া, গাছুয়াপাড়া থেকে খয়েরপুকুর মতিনের মোড় ও যশাই ব্রিজের কাজ বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এডিবির অর্থায়নে গ্রামীণ সড়ক টেকসইকরণের লক্ষ্যে সোলিং, সিসি ঢালাই, হেরিং বোন বন্ড (এইচবিবি) রাস্তা, পানি নিষ্কাশন ড্রেন এবং পুকুরের গাইড ওয়াল নির্মাণের কাজও সম্পন্ন হয়েছে। পার্বতীপুর হামিদপুরের গাছুয়াপাড়া থেকে খয়েরপুকুর মতিনের মোড় পর্যন্ত সংযোগ ব্রিজটি ইতিমধ্যে যাতায়াতের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। ৬ নম্বর মোমিনপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের কারণে গ্রামীণ অর্থনীতি এখন অনেক শক্তিশালী ও গতিশীল হয়েছে।
কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য সহজেই বাজারজাত করতে পারছেন। ২ নম্বর মন্মথপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আ. ওয়াদুদ শাহ বলেন, ছেলে-মেয়েরা এখন সহজেই শহরের স্কুল-কলেজে আসা-যাওয়া করতে পারছে, যা আগে কল্পনাও করা যেত না। এ বিষয়ে এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, মাঠ পর্যায়ে দক্ষ প্রকৌশলী ও কার্যসহকারীদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে নির্ধারিত সময় ও গুণগত মান বজায় রেখে কাজগুলো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ফলে গ্রামীণ উন্নয়নের সুফল এখন সরাসরি পৌঁছে যাচ্ছে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায়।