admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২৫ অক্টোবর, ২০২২ ১১:৩৪ পূর্বাহ্ণ
মুক্ত কলম বক্স অফিস সিঙ্গাপুরঃ সিঙ্গাপুরে গৃহকর্তী ঘুষি মেরে তাঁর কাজের মেয়েকে অন্ধ করার কথা স্বীকার করেছেন। জানাজায় মারার পর তাঁকে কান ধরে রাখেন উম্মি কলসুম আলীকে, অন্ধ হয়ে যাওয়া পর্যন্ত ৫১ বছর বয়সী গৃহকর্মীকে বারবার মারধর করেন। ভুক্তভুগীকে তার নিজের বাড়ি ফেরার জন্য বিমানবন্দরে হুইল চেয়ারে করে নেওয়া হয়েছে। জানাজায় তাঁর গৃহকর্মীকে বারবার ঘুষি মেরে এক চোখে অন্ধ করার পর, একজন মহিলা তাকে চিকিৎসা করার জন্য নিতে চাইলে তিনি দিতে অস্বীকার জানান। তিনি গ্রীহকর্মীকে মারতে থাকেন যতক্ষণ না ভুক্তভুগীর এক চোখ অন্ধ হয়ে যাওয়ার শেষ পর্যন্ত অন্য চোখেও তার দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলে।
উভয় চোখে দৃষ্টি হারানো সত্ত্বেও, কাজের মেয়েটি ধীরে ধীরে ঘরের চারপাশে হাতরিয়ে আন্দাজের ওপর বাসার কাজ করার সময়। সে চোখে ঠিক মত দেখতে না পাওয়ায় ভুলবশত তার নিয়োগকর্তার জামাকাপড় পুড়িয়ে দিলে, তার নিয়োগকর্তা তার গায়ে একটি গরম লোহা চাপা দিয়ে ছেকা দেন। ৫১-বছর-বয়সী গৃহকর্মীও অপব্যবহারের ফলে একটি কানের ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং তার নিজের বাড়ির ফিরে যাওয়ার জন্য হুইল চেয়ারে বিমানবন্দরে দেখা যায় আজ মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) উম্মি কলসুম আলী (৪৩) ছয়টি অভিযোগে তিনি জানান স্বেচ্ছায় একজন গৃহকর্মীকে গুরুতর আঘাত করা, একজন গৃহকর্মীকে চিকিৎসা দিতে অবহেলা করে তার সাথে খারাপ ব্যবহার করা এবং সময়মতো তার বেতন দিতে ব্যর্থ হওয়া। আরও বেশ কিছু অভিযোগ সাজা দেওয়ার সময় বিবেচনা করা হবে বলে মনে করছেন সিঙ্গাপুর আইন সংস্থা।
সিঙ্গাপুর আদালত শুনেছে যে ভুক্তভোগী একজন ৫১ বছর বয়সী ইন্দোনেশিয়ান নাগরিক, ৫ আগস্ট, ২০১৯ সালে উম্মির কাজ শুরু করে ছিলেন। তাকে তার মাসিক বেতন হিসাবে S$৬৭০ বেতন নির্ধারিত করা হয়। ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে প্রায় পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে, উম্মি গৃহকর্মীর সাথে দুর্ব্যবহার শুরু করে। সিঙ্গাপুরিয়ান এর আগে তার হ্যান্ডফোন নিয়ে নিয়েছিল এবং ভিকটিমকে পর্যবেক্ষণ করতে রান্নাঘরে ক্লোজ সার্কিট টেলিভিশন ক্যামেরা স্থাপন করেছিল।
২০২০ সালের এপ্রিলে উম্মি ভুক্তভোগীর প্রতি অসন্তুষ্ট ছিল, আদালত বিস্তারিত শুনেন সে গৃহকর্মীর মুখে ও কানে বারবার চড় মারতে থাকে এবং কানে ঘুষি মারতে থাকে। তিনি গৃহকর্মীর চোখেও ঘুষি মেরেছিলেন এবং যখন তাঁকে বারবার আঘাত এর কারণে তার চোখকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছিল, তখন উম্মি তার ঘুষি মারার আগে তার একটি হাত টেনে ধরে ছিলো। একটি ঘুষির আঘাতে গৃহকর্মীর তার ডান চোখে অন্ধ হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। কিন্তু উম্মি তার চোখে আঘাত করার আগে তার পনিটেল দিয়ে তাকে টেনে তোলার চেষ্টা করেছিল।
উম্মিও ভিকটিমকে হ্যান্ডফোন দিয়ে আঘাত করে এবং হ্যাঙ্গার দিয়ে তার চোখে আঘাত করে। জোরে আঘাতের কারণে হ্যাঙ্গারটি ভেঙে যায় এবং উম্মি অবশেষে তার আক্রমণ বন্ধ করে দেয়। ফলস্বরূপ গৃহকর্মীর বাম কান ফুলে যায় এবং শক্ত হয়ে যায় এবং ক্ষত হয়ে যায়। উম্মি দেখলেন জখম হয়ে ফুলে গেছে কিন্তু ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাননি। এর কয়েকদিন পর গৃহকর্মী উম্মিকে বলেন যে তিনি এক চোখে দেখতে পাচ্ছেন না এবং ডাক্তারের কাছে যেতে চেয়েছেন কিন্তু উম্মি তার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন। সে গৃহকর্মীকে ধমক দিয়ে বলেছেন বাড়ি থেকে বের হলে সে আর ফিরতে পারবে না।
নির্যাতিতা জিজ্ঞাসা করেছিল যে উম্মি তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে পারে কি না, কিন্তু উম্মি তা প্রত্যাখ্যান করে। প্রায় গৃহকর্তী এভাবে প্রহার করতেন। এপ্রিল ২০১৯ থেকে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে, উম্মি নির্যাতিতকে নির্যাতন করতে থাকে। যদিও তিনি জানতেন যে গৃহকর্মীর এক চোখে অন্ধ হয়ে গেছে, তবুও সে পুরোপুরি অন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তারকে
মারধর করা বন্ধ করেনি। ভিকটিমকে বাড়ির মেঝে এবং দেয়াল হাতরিয়ে চলাচল করতে হয়েছিল যখন সে গৃহস্থালির কাজ করতে হতো ঠিক মত চোখে দেখতে না পাওয়ার কারণে।
একটি ঘটনায় তিনি ভুলবশত উম্মির জামাকাপড় পুড়িয়ে ফেলেন কারণ তিনি দেখতে পাননি। ক্ষিপ্ত হয়ে উম্মি গৃহকর্মীর গায়ে গরম লোহা চাপা দিয়েছিল, কিন্তু গৃহকর্মী চিৎকার করতে পারেন নি গৃহকর্তীর হুমকির কারণে। গৃহপরিচারিকাকে পর্যবেক্ষণের জন্য স্থাপিত ক্লোজ সার্কিট টেলিভিশন ক্যামেরার ফুটেজ আদালতে দেখানো হয়। ভুক্তভোগীকে সার্বোক্ষনিক নজরদারীর জন্য সিসি টিভি ক্যামেরায় পর্যবেক্ষণ করা হত। আদালতে দেখানো বেশ কয়েকটি ক্লিপে অভিযুক্তকে তার স্বামী রান্না করার সময় বসে থাকতে দেখা গেছে এবং ভিকটিম মেঝেতে বসে আছে, পরিষ্কার করছে। অভিযুক্তের স্বামীকে ভুক্তভোগীর দিকে জোরে চিৎকার করতেও দেখানো গেছে ভিডিও ফুটেজে যখন ঘটনাক্রমে তাকে জোর করে শ্লিলতাহানী করে ছিলো। কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই বলে শুনানি করেন আদালত।
জানুয়ারী ২০২০ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২০ সালের মধ্যে, উম্মি গৃহকর্মীকে তার বেতন সময়মতো পরিশোধ করেননি এমন অভিযোগ গৃহকর্মী করেছেন। ২৩ অক্টোবর, ২০২০ এ, উম্মি ভিকটিমকে বিমানবন্দরে হুইলচেয়ারে বিমানবন্দরের কর্মীদের সাথে রেখে যান। তিনি নির্যাতিতাকে সিঙ্গাপুর ডলার এবং ইন্দোনেশিয়ান রুপিয়ায় প্রায় ৬,৭৫০ সিঙ্গাপুরিয়ান ডলার দিয়েছেন। নির্যাতিতাকে তার নিজের বাড়ির ফেরার জন্য তাঁকে বিমান বন্ধরে রেখে আসা হয় বলে জানা গেছে। তিনি যখন তার নিজ শহরে ফিরে আসেন তখন তাঁর সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা জানাজানি হয় এবং তদন্তে সহায়তা করার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে ফিরিয়ে আনা হয়।
জুলাই ২০১৯ সালে তার প্রাক-কর্মসংস্থানের মেডিকেল চেক-আপে, গৃহকর্মীর ওজন ছিল ৭৬ কেজি। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে, তার ওজন ছিল মাত্র ৫২.৮ কেজি। তাকে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তার অন্ধত্ব অপরিবর্তনীয় আদালত বিস্তারিত শুনেন। মামলাটি একজন ডেপুটি পাবলিক প্রসিকিউটর এবং সিঙ্গাপুর জনশক্তি মন্ত্রণালয়ের একজন প্রসিকিউটর দ্বারা পরিচালিত করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। ডেপুটি পাবলিক প্রসিকিউটর মোট ১০ বছরের জেল চেয়েছেন, যখন সিঙ্গাপুর মিনিস্ট্রি অব ম্যান পাওয়ার (এমওএম) প্রসিকিউটর মামলাটিকে “নিষ্ঠুর”বিচার হবে বলে অভিহিত করেছেন।
হ্যারি ইলিয়াস পার্টনারশিপ থেকে উম্মির আইনজীবী মিঃ সুই ই সিওং বলেছেন, আরও কিছু ভিডিও রয়েছে যা দেখায় যে ভিকটিম সম্পূর্ণ অন্ধ নাও হতে পারে। বিচারক তাকে বলেছেন যে ভুক্তভোগী “অপরিবর্তনীয়ভাবে অন্ধ” কারণ তার ক্লায়েন্ট স্বীকার করেছেন এবং জিজ্ঞাসা করেছেন যে তার মক্কেল বলছেন যে গৃহকর্মীর”অভিনয়”করছে কিনা। মিঃ সুই বলেন, ভিকটিম নিজে অভিনয় করছেন না কিন্তু পরবর্তীতে একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে যে ভিকটিম তার ক্লায়েন্টকে এড়িয়ে যাচ্ছে। তিনি যুক্তি দিয়েছেন যে তিনি সম্পূর্ণ অন্ধ নাও হতে পারেন। তবে পরিপূর্ণ তদন্ত করে যথাযথ রায় দেওয়া হবে।