admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২৪ জুলাই, ২০২২ ৫:১৮ অপরাহ্ণ
মোঃ মজিবর রহমান শেখ, জেলা প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁয়ে সিডিউল না মেনে চলছে লোডশেডিং, মাস শেষে গুনতে হচ্ছে ভুতুরে বিল। জানাযায় প্রতিদিন ১০/ ১২ বার লোডশেডিং দেওয়া হয় যা প্রতিবার লোডসেডিংএ এক ঘন্টা ব্যাপী চলে। সারা দেশের মত ঠাকুরগাঁও জেলায় চলছে লোডশেডিং। দিনে ও রাতে ঘন্টায় ঘন্টায় দেওয়া হচ্ছে লোডশেডিং। তহলে দিনে যদি ১০/১২ ঘন্টা লোডসেডিং দেওয়া হয় মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল কম আসার কথা অথচ মাস শেষ হলে দেখা যায় আগে যেমন সাভাবিক সারা দিন বিদ্যুৎ ব্যবহার করে যা বিল আসতো এখন তাঁর চেয়ে তিনগুন বেশি বিদ্যুৎ বিল আসছে।
এই অপরিকল্পিত বিদ্যুৎ লোড শেডিং এর কারণে বৃদ্ধ ও শিশুরা পরেছে সমস্যায়। প্রচন্ড গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পরেছে মানুষজন। জ্বালানী সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন হ্রাস পাওয়ায় লোডশেডিং করার কথা জ্বালানী মন্ত্রণালয়ের থেকে আগেই প্রচার করা হয়েছে। লোডশেডিং নিয়ে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। অপরদিকে বিদ্যুৎ অফিস চাহিদার তুলনায় অর্ধেক বিদ্যুৎ পাচ্ছেন বলে নিজেদের অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন।
ঠাকুরগাঁও গ্রিড পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন নিয়ন্ত্রণ করে দেয়া তথ্য মতে ঠাকুরগাঁও জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা মোট প্রায় ৮০ মেগাওয়াট। এর মধ্যে পল্লী বিদ্যুৎ এর চাহিদা প্রায় ৬০ মেগাওয়াট এবং পিডিবির আওতাভুক্ত (নেসকো লিঃ) এলাকায় ২০ মেগাওয়াট। লোডশেডিং এর পূর্ব নির্ধারিত সিডিউল থাকার পরেও কেন সেটা অনুসরণ করা হচ্ছে না এমন এক প্রশ্নের জবাবে গ্রিড নিয়ন্ত্রণ করে একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, সিডিউল বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আমরা চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ পাচ্ছি অর্ধেকের সামান্য বেশি, তাহলে সিডিউল কীভাবে মেনে চলা যাবে? আমরা এলডিসির পরামর্শ মতেই লোড বরাদ্ধ করি।
ঠাকুরগাঁও নেসকো লিঃ এর দুটি নিয়ন্ত্রণ এর একটি রোড এলাকায় ডিপিএস ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্র। এখান থেকে তিনটি ফিডারে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। এই তিনটি ফিডার হল রোড বাজার, মথুরাপুর, কলেজপাড়া। অপরদিকে গোয়ালপাড়া ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রের মাধ্যমে ৫টি ফিডারে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। নেসকো লিঃ এর দুটি উপকেন্দ্রের মোট বিদ্যুৎ চাহিদা ১৯ মে.ও.। লোড শেডিং শুরু হওয়ার পর থেকেই লক্ষ্য করা গেছে যে নেসকো লিঃ এর ওয়েব সাইটে প্রকাশিত লোডশেডিং শিডিউল নিয়ন্ত্রণ গুলো মানছেনা। কোন কোন ফিডার চব্বিশ ঘন্টায় ৮/৯ বার পর্যন্ত লোডশেড করা হয়েছে। এক ঘণ্টা নয়, কোন কোন দিন ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা লোডশেডিং করা হচ্ছে।
কেন লোডশেডিং সিডিউল মানা হচ্ছেনা এমন প্রশ্নের জবাবে নেসকো লিঃ ঠাকুরগাঁও এর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুনুর রশিদ জানান, আমাদের ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চাহিদার বিপরীতে পাচ্ছি ৫০-৬০ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক। এই অর্ধেক বিদ্যুৎ পেয়ে আমরা কী করে সবাইকে একই সাথে বিদ্যুৎ দেব? তাহলে এমন মনগড়া সিডিউলের দরকার আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, বাস্তবতার সাথে ঐ সিডিউলের কোন মিল নেই, একারণেই সেটা মানা সম্ভব হচ্ছেনা। সংকটকালীন সময়ে লোডশেড মেনে নিতে গ্রাহকদের কোন আপত্তি নেই।
কিন্তু লোক দেখানো সিডিউল তৈরি করে ইচ্ছেমত কোন কোন ফিডারে অস্বাভাবিক লোডশেডিং চাপিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত কোন মতেই মেনে নিতে পারছেন না গ্রাহকরা। তারা অবিলম্বে নেসকো লিঃ এর লোডশেডিং সিডিউল যথাযথ অনুসরণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। এবং ভুতুরে বিল প্রদান বন্ধের জোর দাবি জানিয়েছে জেলাবাসি।