হোম
আন্তর্জাতিক

আমার পরিবারের একটি অপ্রকাশিত সত্য বাবা কেন আমার মাকে খুন করেছিলেন?

admin || মুক্ত কলম সংবাদ

প্রকাশিত: ১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ১:৫২ অপরাহ্ণ

tasnim-mknewsbd

ফাইল ছবি

তাসনিম লোওয়ির মা’কে তার বাবা যৌন নিপীড়নের পর হত্যা করেছিলেন। আমার বড় হয়ে ওঠা অনেক কঠিন ছিল। আমি আমার নানার সাথে থাকতাম এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময় মানুষজন জিজ্ঞাসা করত। তুমি কেন তোমার নানার সাথে থাকো? তোমার পরিবার কোথায়? তাদের কি হয়েছে? আমি কী বলব জানতাম না। এখন আমি তো কাউকে বলতে পারবো না যে, “হাই, আমি তাস, আমার বাবা একজন খুনি। আমার বন্ধু হতে চাও?। আমার বাবা আজহার আলী মেহমুদ যখন আমার মাকে খুন করেছিলেন তখন আমার বয়স ছিল ১৬ মাস। তবে বাবা আমাকে কিছু করেননি। তিনি আমাকে কম্বলে জড়িয়ে বাড়ির বাইরে বের করে, বাগানে একটি আপেল গাছের নীচে রেখে দিয়েছিলেন। আমাদের বাড়িতে তখন আগুন জ্বলছিল, সেই আগুনে পুড়ে মরেছিলেন আমার মা লুসি, তার গর্ভে থাকা শিশু এবং আমার নানু লিন্ডা লোওই এবং আমার খালা সারাহ।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত সেই বাড়ি।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত সেই বাড়ি।

বাবা আমাকে সেই আগুন থেকে দূরে রেখেছিলেন। মনে হচ্ছিল তিনি আমার দেখাশোনা করতে চান- তবে তিনি আমার মা’কে মরতে দেয়ার পর থেকে কখনোই আমার দেখভাল করেননি।

আমাদের বাড়িটি ছিল ইংল্যান্ডের শ্রোপশায়ার অঞ্চলে টেলফোর্ড শহরে। আমাদের ওই বাড়িটিতে ২০০০ সালের আগস্টে বাবা আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলেন। পরের বছর তিনি তিনজনকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন। বড় হওয়ার সাথে সাথে আমি বাবা-মা বলতে কোন মানুষকে বুঝতাম না – তারা আমার কাছে তারা ছিলেন কেবল একটি গল্প। ২০১৮ সালে আমি যখন আমার জীবনের এই পটভূমি নিয়ে বিবিসি থ্রি-এর সঙ্গে একটি ডকুমেন্টারি বা প্রামাণ্যচিত্র তৈরির সুযোগ পাই, তখন আমি সেই সুযোগটা গ্রহণ করি। ওই অগ্নিকাণ্ড কিভাবে ঘটেছিল আমি সেটা গভীরভাবে জানতে চেয়েছিলাম। জানতে চেয়েছিলাম আমার মায়ের সাথে সাথে নিজের সম্পর্কেও।

আগুনে তিন জন নিহত হয়েছিলেন।

আগুনে তিন জন নিহত হয়েছিলেন।

আমার মনে হয়েছে, আমি দেখতে লুসির বাদামী সংস্করণের মতো,কিন্তু আমি যখন তার ব্যাপারে চিন্তা করি,তখন আমার একটা কিশোরীর কথা মনে হয়। আমি তাকে সত্যিই মায়ের মতো করে দেখতে পাই না,তাই আমি তাকে মা বলতে চাই না। আমার জন্মের সময় তার বয়স মাত্র ১৫ বছর ছিল, এবং আমার বাবা ছিলেন ২৫ বছর বয়সী, কিন্তু আমি যখন খুব ছোট তখন লুসি এবং আমার বাবার সম্পর্ক ভাল ছিল না। আমি যদি স্কুলের লোকজনের সাথে আমার মা-বাবার এতো বয়সের ব্যবধানের ব্যাপারে কথা বলতাম তাহলে তারা সবসময় আমার দিকে মজা করে তাকিয়ে থাকত এবং বলতো যে, “এটা কিছুটা অদ্ভুত, তাই না?

আমি বলতাম,না, ঠিকই আছে,কারণ তাদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল! আমাকে ঠিক এমন করে ভাবতেই প্রোগ্রাম করা হয়েছিল, এটা আমি আমার পরিবারের থেকে শিখেছি। আমি প্রথমে বুঝতে পারিনি, যে মানুষ কেন এই বিষয়টা নিয়ে এ ধরণের কথা বলছে। আমি এবং আমার নানা জর্জ সত্যিই অনেক আপন, কিন্তু এটাও এতো সহজ ছিল না। আগুনে তিনি তার স্ত্রী লিন্ডা ও দুই মেয়েকে হারিয়েছেন। পরে তিনিই আমাকে লালন পালন করে বড় করেছেন – আমার বাবার বিচার হওয়ার পরে তিনি আমাকে দেখাশোনা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে আমার মা-বাবার সম্পর্কের বিষয়ে আমাদের দুজনের দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন মতামত এবং মানসিকতা রয়েছে। সে যুগে নানা এবং অন্যান্যদের মধ্যে বয়সের ব্যবধান সম্পর্কে ভিন্ন ধারণা ছিল।
আমি যখন লুসির গর্ভে আসি তখন সে-ও একটা শিশু ছিল। এই বিষয়টা তখনকার মানুষ কেন স্বাভাবিকভাবে দেখত আমার কাছে এটা বোঝা খুব কঠিন ছিল। তবে ডকুমেন্টারি তৈরির প্রক্রিয়াটির মাধ্যমে নানা এই পুরো পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও জানতে পেরেছিলেন। এখন তিনি আমার কাছে জানতে চান যে, কোন বিষয়গুলো সঠিক এবং কোনগুলো ভুল। এটা চ্যালেঞ্জিং ছিল, তবে আমি মনে করি আমরা শেষ পর্যন্ত কিছু বিষয়ে একমত হয়েছি।

ডকুমেন্টারি তৈরি করার সময় আমি লুসি’র কয়েকজন বন্ধুর সাথে দেখা করেছি। লুসির সঙ্গে যখন আমার বাবার দেখা হয়েছিল তখন সে শিশু ছিল এবং তার বন্ধুদের বয়সও ছিল কাছাকাছি। মানুষ এখন বুঝতে পারবে যে সম্পর্কটি ভুল ছিল। লুসির এক বন্ধু আমাকে বলেছিলেন যে ওই সময়ে এ ধরণের সম্পর্ককে ভালো দৃষ্টিতেই দেখা হতো, বয়সে বড় পুরুষদের সঙ্গে মেলামেশাকে বরং আকর্ষণীয় ভাবা হতো। লুসি বা তার বন্ধুদের কেউ ধারণাও করতে পারেনি যে কী ঘটতে যাচ্ছে।

পত্রিকার যে প্রতিবেদন তাসনিমকে বিভ্রান্ত করে ফেলে।
সেদিন ছিল রোববার, ২০১৮ সালের ১১ই মার্চ- মা দিবস – এদিন এমন কিছু ঘটেছিল যা আমার বাবা-মায়ের সম্পর্কে আমাকে এতদিন যা বলা হয়েছিল তার সবকিছুকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে। সানডে মিররের প্রথম পৃষ্ঠায় লুসি-র একটি ছবি ছাপানো হয়। প্রথমে, আমি এবং আমার পরিবার খবরটা এটা দেখে একদম বিভ্রান্ত হয়ে পড়ি – যখন আমি নিবন্ধটি পড়ে দেখলাম, আমি ধরে নিয়েছিলাম এটি কোনও কারণে পুনরায় প্রকাশ করা আগুনের একটি পুরানো গল্প। আমার মনে আছে যে আমি মনে মনে ভাবছিলাম,এখানে কোন নতুন তথ্য নাও থাকতে পারে। আমরা তখন বুঝতে পারি নি যে গল্পটিতে আরও অনেক কিছুই ছিল। এতদিন পর পেছনে ফিরে তাকানো উদ্ভট মনে হলেও একটি পরিবার হিসাবে – এবং যুক্তরাজ্যের একটি সমাজের সদস্য হিসাবে -সেটা জরুরি ছিল। সানডে মিররের তদন্তে জানা গিয়েছে যে ১৯৮০-এর দশক থেকে টেলফোর্ডে এক হাজারের মতো শিশুকে যৌন নিপীড়ন করা হয়েছিল।

বিচারের মুখোমুখি তাসনিমের বাবা।
এতে বর্ণনা করা হয়েছে যে কীভাবে আমার বাবা, লুসিকে ১৪ বছর বয়স থেকেই নিপীড়ন করেছিলেন এবং অন্য মেয়েদেরও নির্যাতনের সময় লুসির মতো শেষ করে দেয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল – অর্থাৎ মেরে ফেলার হুমকি – যদি তারা কাউকে কিছু বলে দেয়। আমি প্রথমে অনেক বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিলাম। যখন আপনাকে একটি গল্প শেখানো হয়, আপনি সেই গল্পটি জানেন, আপনি সেই গল্পটি বোঝেন এবং মনে করেন যে সম্ভবত এটাই সত্যি। নিবন্ধটি দেখার আগ পর্যন্ত আমি আমার বাবা মা সম্পর্কে এমনটাই জানতাম – আমার কাছে সবই ঠিক ছিল, কারণ আমি ভাবতাম তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কাগজে একটি আলাদা গল্প দেখে প্রথমে আমি ভাবলাম, “না, এমনটা হয়নি। তারা এটা ভুলভাবে লিখেছে। জীবনের এমন একটি ব্যক্তিগত বিষয়ে রাতারাতি সম্পূর্ণ নতুন দৃষ্টিকোণ গ্রহণ করা আমার জন্য সত্যিই অনেক কঠিন ছিল। এর সাথে মানিয়ে নিতেও আমার কিছুটা সময় লেগেছে।

আদালতের নথি থেকে তথ্য উদ্ধারের চেষ্টা করেন তাসনিম।
আমি আমার অতীত সম্পর্কে এতদিন যা কিছু জানতাম এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদন সমস্ত বিষয়কে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এ কারণে আমার আরও কিছু জানার চেষ্টা করতে হয়েছিল। আমি আমার বাবার বিচারের আদালতের প্রতিলিপিগুলি দেখার সিদ্ধান্ত নেই, যদি সেখান থেকে কোন ধারণা পাওয়া যায়। শুনানির রেকর্ডগুলি পড়ে খুব বিভ্রান্ত হয়ে যাই। লুসি এবং আমার বাবার বয়সের ব্যবধান উল্লেখ করা হয়েছিল, কিন্তু কেউ এটি স্বীকার করেছে বলে মনে হয়নি। তাদের এই ব্যবধান কেবল দুই বা তিন বছরের নয় – এই ব্যবধান প্রায় দশ বছরের। আমার মায়ের বন্ধুদের মতে আমার বাবা তাকে পরীক্ষা করতেন, তার শরীর পরীক্ষা করতেন, এটা দেখার জন্য যে তিনি অন্য পুরুষদের সাথে ছিলেন কিনা।

তাসনিমের হাতে তার মায়ের লেখা ডায়রি।
বাবা তাকে ফোন করে বলতেন যে তিনি তার ওপর নজর রাখার জন্য একজনকে দিয়ে অনুসরণ করাচ্ছেন। বাবা প্রতিনিয়ত সন্দেহ করতেন যে লুসি হয়তো অন্য পুরুষদের সাথে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত ছিলেন। আমরা জানি না এটি কোন দলের কাজ ছিল কিনা, লুসি শোষণের শিকার হয়েছিল কিনা, কারণ এর কোনটিই তদন্ত করা হয়নি। আমি এবং আমার নানা কয়েকবার এ ব্যাপারে কথা বলেছি। আমি সবসময় তাকে চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলাম – কেন তিনি কিছু করেননি? কেন তিনি আমার মা বাবার সম্পর্ক ঠিকঠাক মনে করেছিলেন? নানা আমাকে বলেছিলেন যে তিনি আমার বাবা সম্পর্কে “বেশি আগ্রহী ছিলেন না – তবে লুসি এবং আমার বাবা অনেক ঝগড়া করতেন। আমি জিজ্ঞাস করতাম যে এটার কারণ কী আমার বাবা লুসির কাছে কেবল যৌনতার দাবি করতো বলে? সে অনেক বেশি ওপরের তলায় যেতো। আমার বাবাকে নিয়ে নানা এই কথাটি বলেন। একবার আমি শুনতে পাই কেউ একজন চিৎকার করছে, ধর্ষণ ধর্ষণ! আমি ছুটে গেলাম, আমি দরজাটি লাথি মারলাম, এবং সে সিঁড়ি দিয়ে বাইরে দৌড়ে গেল। প্রতিবেশীর প্রেমিক তার পিছনে ছুটল।

অগ্নিকাণ্ডে নিহত মা, খালা ও নানুর কবরের পাশে দাঁড়িয়ে তাসনিম। আমি জানতে চাইলাম কেউ তখন পুলিশকে কেন কিছু বলেনি। আমি জানি না। সে কি সাহায্যের জন্য চিৎকার করে কাঁদছিল কিনা? সে যদি আমাদের কাছে আসতে তবে আমরা কিছু করতাম তবে আপনি এবং লিন্ডা তার চিৎকার শুনেছিলেন’ ধর্ষণ’ বলে সে চিৎকার করছিল তারপরও আপনারা কিছুই করেননি,আমি বললাম। ওটা নির্যাতন ছিল যা আমার মন খারাপ করে তোলে। সব দোষ,সব প্রশ্নের মাধ্যমে জানতে চেয়েছি আসলে দোষটা কার। আমাকে এই প্রশ্নগুলি জিজ্ঞাসা করতে হয়েছিল, কারণ আমি বুঝতে চেয়েছিলাম। আমি মনে করি আমার নানা অনেক অনুশোচনা বোধ করছেন, প্রচুর আহত হয়েছেন যে তিনি এবং আমার নানু লিন্ডা চাইলে হয়তো এমন অনেক ঘটনার বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে পারতেন। কিন্তু ওই যুগের সমাজে সবাই একরকমভাবেই ভাবতো। কারও এই বিষয়ে কোন শিক্ষা ছিল না।

মাত্র ১৬ মাস বয়সে মাকে হারিয়েছিলেন তাসনিম।
এমনকি আমার নানা-নানুও যদি প্রতিবাদ করতেন তবে কর্তৃপক্ষও কি তাদের কথা শুনতেন?
আমি জানতে চেয়েছিলাম আমার বাবা কেমন বোধ করেছেন? তিনি কী তার কাজে দুঃখিত ছিলেন? সেই অগ্নিসংযোগের সম্পর্কে তিনি এখন কী ভাবেন? আমার বয়স যখন ১৬ বছর, তখন আমি তাকে কারাগারে দেখতে গিয়েছিলাম। এটা কোনও কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল না। আমি চাইলে আরও আগেও যেতে পারতাম, তবে আদালতের একটি আদেশের কারণে পারিনি। আদালত আমাকে ১৬ বছর বছর বয়সের আগে বাবার সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেয়নি।
প্রথমদিকে, আমি কেবল তার সাথে দেখা করতে চেয়েছিলাম, এবং পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেছিলাম। আমি তার সাথে দেখা করতে এবং তার পছন্দ- অপছন্দগুলো জানতে, তাকে একজন ব্যক্তি হিসাবে বুঝতে এবং আমি কোথা থেকে এসেছি সে সম্পর্কে আরও কিছু জানতে চেয়েছিলাম।

নিজের মা বাবা এবং নিজের সম্পর্কে জানতে অসংখ্য প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তাসনিম।
শুধুমাত্র কী ঘটেছে তা নয়, একজন ব্যক্তি হিসাবে আমার বাবার ব্যাপারে আমি নিজস্ব মতামত তৈরি করতে চেয়েছিলাম। তাঁর সম্পর্কে আমি যেভাবে ভাবি, তাকে যেভাবে আমি অনুভব করি তা বিভ্রান্তিকর। এটি কালো এবং সাদা নয়। তিনি আমাকে যে উত্তরগুলি দিয়েছিলেন – সেগুলো এমন ছিল যে আমি পুরো জবাব পাচ্ছিলাম না, তিনি যা বলছিলেন, আমাকে সেটা রেকর্ড করতে হয়েছিল এবং কয়েকবার এটি শুনতে হয়েছিল। যেন কথার ভেতরে থাকা অন্য কোন কথা বের করা যায়। তিনি কয়েকটি বিষয় খোলাসা করেছেন এবং অন্য অনেক বিষয়ে তিনি কিছু বলেন নি।- এটি নির্ভর করেছে আমি তাকে কী জিজ্ঞাসা করেছিলাম সেটার ওপর। তবে আমি আনন্দিত যে আমি গিয়েছিলাম। আমার এটা করা দরকার ছিল আমার মনে হয় এমন আরও কিছু ছিল যা আমি তার থেকে আরও জানতে চেয়েছিলাম যেটা তিনি এড়িয়ে যেতে পারবেন না। আমি মনে করি এটি বিচার ব্যবস্থার ব্যর্থতা যে আমার মা’র খুনের পাশাপাশি যৌন নিপীড়নের জন্য আমার বাবার বিচার করা হয়নি।

লুসি লোওই যখন মা হয়েছিলেন, তখন তিনি নিজেই একজন শিশু ছিলেন। আমি মনে করি প্রতিটি অপরাধের জন্য অপরাধীর সাজা হওয়া উচিত। আমরা এটি খতিয়ে দেখলাম, এবং আমি পুলিশকে জিজ্ঞাসা করেছি কেন সে সময় এর বিচার হয়নি। তবে এখন যে পুলিশ কর্মকর্তারা কাজ করছেন তারা সেই সময় এই মামলা নিয়ে কাজ করেননি। তাই অনেক কিছুই তারা আমাকে বলতে পারেননি। আমাকে সৎ থাকতে হয়েছে। সে সময়ে কী ঘটেছিল পুলিশের কাছে এ ব্যাপারে যখন আমি বিস্তারিত জানতে চাইলাম তখন তাদেরকে আমার তেমন সহায়ক মনে হয়নি। তবে আমার মনে হয়েছে আমাকে এসব বললে হয়তো তাদের বিরুদ্ধে গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠতে পারে।

নানার সঙ্গে তাসনিম।
লুসি’র কিছু জিনিস আমরা সংগ্রহ করতে পেরেছিলাম এজন্য আমি সত্যিই অনেক কৃতজ্ঞ। আমি তার ডায়েরি পেয়েছি – সেগুলি লেখার মুহূর্তে কেউ তা দেখতে পেত না, কেউ সেটা দেখত না। এই ডায়রি লুসিকে একজন ব্যক্তি হিসাবে আমার কাছে আরও ঘনিষ্ঠ করে তোলে এবং আমার বাবা যে বিষয়গুলোর সাথে জড়িত ছিল সে সম্পর্কে অবশ্যই আমাকে আরও সচেতন করেছে। আমার বাবা এখন প্যারোল পাওয়ার যোগ্য। শেষ পর্যন্ত কাউকে কারাগারে রাখার জন্য আপনি তার বিরুদ্ধে অন্য কোন অপরাধ যুক্ত করতে পারবেন না। আমি বুঝে গিয়েছি। আমি মনে করি এটা সে সময়কার সিস্টেম এবং সমাজের ব্যর্থতা, যে আমার মাকে নির্যাতনের জন্য বাবা কখনও ন্যায়বিচারের মুখোমুখি হন নি। এটি কখনও অনেক কষ্টের আবার কখনও অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। তবে এই ডকুমেন্টারিটি তৈরি করতে গিয়ে অনেকগুলো ইতিবাচক বিষয় প্রকাশিত হয়েছে। আমি লুসির আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছি এবং আমার পটভূমি এবং পরিচয় সম্পর্কে আরও বুঝতে পেরেছি।

মায়ের সঙ্গে নিজের ছবি হাতে তাসনিম।
আমি আমার নানার আরও কাছে এসেছি। এটি আমাকে শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়ন (সিএসই) সম্পর্কে আরও ভালভাবে বোঝার সুযোগ করে দিয়েছে এবং আমি মানুষকে আরও সচেতন করতে পেরে আনন্দিত। আপাতত, আমি কেবল একটি বিরতি পেতে চাই এবং নিজের এবং নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে চাই। তবে ভবিষ্যতে আমি সিএসই ঘিরে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য অন্যান্য কাজে সম্পৃক্ত হতে চাই। আমি নিতান্ত ভাগ্যবান যে আমাকে ব্যক্তিগতভাবে এ ধরণের পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়নি। তবে আমার মায়ের সাথে যা ঘটেছিল তা আমাকে একটি উপলব্ধি দিয়েছে। সেটা হল, আমি এখন লুসির হয়ে আওয়াজ তুলতে পারি, যে সমর্থন তার কখনও ছিল না।

ফেসবুক মন্তব্য

মতামত জানান :

সর্বশেষ খবর

তেঁতুলিয়ায় এক প্রতিষ্ঠান থেকে ১ জনসহ পঞ্চগড়ে ৩ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসএসসিতে
রংপুর 16 hours আগে

আন্তঃজেলা সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের গডফাদার ও শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফকতার।
রংপুর 17 hours আগে

পঞ্চগড়ে আইনজীবী জামাতার অত্যাচারে অতিষ্ঠ শ্বশুর, প্রতিবাদে মানববন্ধন।
অপরাধ 22 hours আগে

বগুড়ার চেলোপাড়া রেল সেতুতে বড় পরিবর্তন, হচ্ছে নতুন ওয়াকওয়ে ও
জনদুর্ভোগ 22 hours আগে

প্রধানমন্ত্রীর ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সাপাহারে চারা বিতরণ।
রাজশাহী 22 hours আগে

ঠাকুরগাঁওয়ে বিদ্যালয়ের দোকান ঘর দখলের অভিযোগ, প্রতিবাদে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন।
রংপুর 23 hours আগে

মাতার বাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
চট্টগ্রাম 23 hours আগে

বগুড়ায় দাড়িয়ে থাকা ট্রাকের পিছনে ধাক্কায় নিহত-৩,আহত-২
দুর্ঘটনা 23 hours আগে

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে মিথ্যাচার ও অপ সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী।
আইন-বিচার 23 hours আগে

সীমান্তে বাংলাদেশি বৃদ্ধকে আটকের জবাবে ভারতীয় যুবককে ধরে আনল এলাকাবাসী।
রংপুর 2 days আগে

পাঠকপ্রিয়

শিরোনাম :

কুড়িগ্রামে ঐতিহাসিক আসনে কঠিন চ্যালেঞ্জে জাপা,মাঠ গরম এনসিপি-বিএনপির। হাদীর ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় দিনাজপুর সীমান্ত ৪২ বিজিবির রেড অ্যালার্ট জারি। রোহিঙ্গা মেয়েরা পাচার ছাড়াও বিদেশীদের দ্বারা যৌন কাজে ব্যবহারের টার্গেট হয়ে উঠছে ঠাকুরগাঁওয়ে নানা কর্মসূচিতে হানাদার মুক্ত দিবস উদযাপিত। ঠাকুরগাঁও জেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ৪র্থ জেলা রোভার মুট-২০২৫। কুড়িগ্রামের রাজারহাটে প্রাণিসম্পদ সপ্তাহের প্রদর্শনী ও সমাপনী অনুষ্ঠিত। পার্বতীপুরে জাতীয় প্রাণি সম্পদ ও ডেইরি প্রকল্পের উদ্বোধন। রাণীশংকৈলে জাতীয় প্রাণীসম্পদ সপ্তাহ ও প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত পলাতক শেখ হাসিনার অগ্রণী ব্যাংকের লকার ভেঙে ৮৩২ ভরি স্বর্ণ জব্দ রাজশাহীতে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১০ জন ৩ ডিসেম্বর রংপুরে বিভাগীয় মহাসমাবেশ সফল করতে দিনাজপুরে ৮ ইসলামী দলের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত। দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে সব বাহিনী প্রস্তুত: সিইসি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৬ হাজার কৃষক পাচ্ছে বিনামূল্যে গম বীজ ও সার। মাত্র চার মাসের শিশু সুমাইয়া বাঁচতে চায়! পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় হেফাজতে ইসলামের নতুন কমিটি গঠন। ভূমিকম্পে সম্ভাব্য ক্ষতি কমাতে এখনই শক্তিশালী ও সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে: সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান রাজধানীতে  আজ থেকে ঘরে বসেই মেট্রোরেলের কার্ড রিচার্জ করবেন? নীলফামারীতে পাটবীজ উৎপাদনকারী চাষীদের প্রশিক্ষণ। আর কোনো পরিস্থিতি নেই যে নির্বাচন ব্যাহত হবে-ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল  ৫-বছরেও শেষ হয়নি ওয়াশব্লকের নির্মাণ কাজ-জনস্বাস্থ্য অফিস বলছেন বাদ দেন চা খাওয়ার জন্য কিছু নেন। পার্বতীপুরে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকারের দাবীতে কর্মী সভা। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় নদী বাঁচাও আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নাগরিক সমাবেশ। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ইউএনও এক গৃহহীন ভারসাম্যহীন নারীর পাশে দাঁড়ালো। ৮ দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর নার্সিং এসোসিয়েশন দিনাজপুর জেলা শাখার স্মারকলিপি ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে ইউনিয়ন সিএসওর লাইভস্টক সংলাপ সভা অনুষ্ঠিত বগুড়ায় প্রেম করে বিয়ে অতপর ভাড়া বাসায় স্ত্রীকে হত্যা করল স্বামী। দিনাজপুরে ৩ দিনব্যাপী উদ্যোক্তা মেলা ও পিঠা উৎসবের সমাপনী। দিনাজপুরের বিরলে শতাধিক নেতা-কর্মীর মামলা থেকে বাঁচতে ফ্যাসিস্ট আ,লীগ থেকে পদত্যাগ! অভিযোগ দিয়ে ও কাজ বন্ধ হচ্ছে না আদমদিঘীতে সরকারি জায়গা দখল করে করা হচ্ছে অবকাঠামো নির্মাণ! বগুড়ার কইপাড়ায় নববধূ শম্পা হত্যার অভিযোগ, যৌতুক দাবির জেরে স্বামী আটক