admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২১ জানুয়ারি, ২০২২ ৩:০৮ অপরাহ্ণ
রফিকুল ইসলাম জিলু, স্টাফ রিপোর্টারঃ সাভার উপজেলা ও পৌরসভার আসে পাশের এলাকাগুলোতে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে বাসাবাড়িতে। আর এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাভার উপজেলা ও পৌর এলাকাবাসী। সাভারের পৌরসভাসহ উপজেলার এলাকার অনেক স্থানে দিনের বেশির ভাগ সময় গ্যাস একদমই পাওয়া যায় না। রাতে বেলায় কিছুটা পাওয়া গেলেও তার পরিমাণ খুবই সামান্য যা মোমবাতির আগুনের মত মিটিমিটি করে জলে । সাভারের এলাকা গুলোতে এমন গ্যাস সংকট দেখা দেওয়ায় বাসাবাড়িতে রান্না করতে চরম দূর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। এতে সমস্যা দারাচ্ছে গার্মেন্টস কর্মী চাকরিজীবী বিভিন্ন পেশার মানুষ সময়মতো রান্না করে খেতে পারছেনা।
এ বিষয়ে উপজেলা ও পৌরবাসী একাধিকবার তিতাসসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষে জানালেও এ সমস্যার সমাধান আসেনি। সাভারের গ্রামে পাড়া-মহল্লায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত দুই বছর ধরে সাভারের বিভিন্ন এলাকার গ্যাস-সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে রান্না করতে গিয়ে বিপাকে পড়ছে হাজারো মানুষ। নিরুপায় হয়ে অনেকেই এলপি গ্যাস, বৈদ্যুতিক চুলা ও মাটির তৈরি চুলা দিয়ে রান্নার কাজ সেরে নিচ্ছেন।মাস গেলে পোহাতে হচ্ছে গ্যাস বিল। দুই তিন মাস গ্যাস বিল রোকেয়া হলেই কেটে দেওয়া হচ্ছে গ্যাস লাইন। সাভারে তালবাগ মহল্লার বাসিন্দা আয়শা আক্তার জানান, বাসা-বাড়িতে সারা দিনে আধাঘন্টা ঠিকমতো গ্যাস পাওয়া যায় না।বাচ্চার খাবার তো ঠিকমত খাইতে পারিনা ঘরেবাজার থাকতো নিজেরও খাইতে পারিনা। আর গ্যাসের চাপ এতটাই কম থাকে যে সামান্য পানিও গরম করা যায় না। অথচ আমাদের নিয়মিত গ্যাসের বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে তিতাসের যারা দায়িত্বে আছেন তাদের এ ব্যাপারে মাথাব্যাথা নেই বললেই চলে। সাভারের বিভিন্ন শিল্প কলকারখানায় ও বিভিন্ন বাসাবাড়িতে অবৈধভাবে গ্যাসের সংযোগ প্রদান করা হয়েছে। তাই বাসাবাড়ি ও অসংখ্য এলাকায় এমন তীব্র গ্যাসের সংকট সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। গ্যাসের এ সংকট নিরসনে অনতি বিলম্বে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষসহ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
হেমায়েতপুর এলাকার হরিণধরা গ্রামের বাসিন্দা সবুর মিয়া জানান, সাভার উপজেলায় বৈধভাবে গ্যাস সংযোগ প্রদান বন্ধ থাকলেও টাকা দিলেই মিলছে অবৈধ সংযোগ। সরিষার মধ্যে ভূত থাকলে তা রোধ করা কঠিন। তিতাসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজসে কতিপয় ঠিকাদার প্রকাশ্যেই অবৈধ সংযোগ প্রদান করছেন। এসব অবৈধ গ্যাস সংযোগে ঠিকাদার ও স্থানীয় দালালরা প্রতিটি বাড়ির মালিকের নিকট থেকে ৮০ হাজার হতে ১লক্ষ্য টাকা নিয়েছে। তবে অবৈধভাবে এ সব গ্যাস সংযোগে স্থানীয় সরকারি দলের কিছু নেতাকর্মী ও জড়িত রয়েছেন বলে সাভার তিতাস গ্যাস সূত্রে জানা গেছে।
সাভারস্থ তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্টিবিউশন কোম্পানির প্রকৌশলী আবু সাদাৎ মোহাম্মদ সায়েম জানান, গ্যাস সরবরাহ কম হওয়ায় আবাসিক এলাকাগুলোতে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস বিতরণ করা যাচ্ছে না। আমরা চেষ্টা করছি পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে। গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে যে পার্থক্য এর জন্যই সমস্যাটা বেশি হচ্ছে। আমরা যে পরিমাণ গ্যাস পাই তা মোটামুটি সমানভাবে সরবরাহের চেষ্টা করি। তবে গ্যাসের এই তীব্র সংকট আমরা অতি তাড়াতাড়ি সমাধানে আসবো।