admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২৭ নভেম্বর, ২০২১ ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ
উত্তর কোরিয়ায় বিদেশি কূটনীতিকদের দমবন্ধ অবস্থা! উত্তর কোরিয়ায় পশ্চিমা কূটনীতিকদের অত্যন্ত সীমিত প্রবেশাধিকার রয়েছে। এমনকি বিদেশি কূটনীতিকদের দেশটির জনগণের সাথে মেলামেশাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পিয়ংইয়ংয়ে নানা নিষেধাজ্ঞা এবং সরকারি নিয়ন্ত্রণে দমবন্ধ অতিষ্ঠ জীবন অতিবাহিত করছেন বিদেশি দূতরা। এ নিয়ে তারা ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। ফরেন পলিসির খবর।
উত্তর কোরিয়ায় রাশিয়ার তৎকালীন রাষ্ট্রদূত ভ্যালেরি সুখিনিন ২০১১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পিয়ংইয়ংয়ের ওপর নানামুখী নিষেধাজ্ঞা এবং কূটনৈতিক জীবনের চ্যালেঞ্জ জানাতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের দূতদের নিয়ে একটি সমাবেশের আয়োজন করেছিলেন। সে সময় তিনি প্রতিবাদী কণ্ঠে জানিয়েছিলেন, মস্কো এবং বেইজিং থেকে নগদ টাকার বস্তা নিয়ে আসতে হয়েছিল এখানকার খরচ মেটাতে এবং কর্মীদের বেতন দিতে।
কারণ দেশটিতে পশ্চিমা ব্যাংকগুলো তাদের সঙ্গে লেনদেন করবে না নিষেধাজ্ঞার কারণেই। টয়োটা এবং মিতসুবিশিসহ জাপানি গাড়ি নির্মাতারা একই কারণে দূতাবাসের বহরে পরিষেবা দিতে অপারগতা জানিয়েছে। এমনকি তারা গাড়ির খুচরা যন্ত্রাংশও বিক্রি করতে নারাজ। রাশিয়ান কনস্যুলেটের চলাচলের জন্য জিপ কেনার অনুমতিও দেয়নি উত্তর কোরীয় কর্তৃপক্ষ। কারণ তাদের দৃষ্টিতে এটি ছিল একটি নিষিদ্ধ বিলাসবহুল আইটেম।
প্রথম পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার পরপরই উত্তর কোরিয়া ২০০৬ সাল থেকে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। পরমাণু ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে উত্তর কোরিয়ার বাণিজ্য রোধ করার লক্ষ্যে পদক্ষেপগুলো বছরের পর বছর ধরে সম্প্রসারিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে উত্তর কোরিয়া জ্বালানি ও কাঠ-কয়লার বাণিজ্য সীমিত করেছে এবং বিলাসবহুল পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করেছে।
উত্তর কোরিয়ানদের জীবনে নিষেধাজ্ঞার প্রভাব নিয়ে বচসা চলতে থাকে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে, বিশেষ করে দেশটির মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে। কোভিড-১৯ মহামারি পিয়ংইয়ংয়ের কূটনৈতিক জীবনকে ক্ষুণ্ন করেছে, কারণ অধিকাংশ প্রতিনিধি দল তাদের দূতাবাসে সীমাবদ্ধ ছিল। দেশটি ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। তবে সীমান্ত বন্ধ এবং ভ্রমণ বিধিনিষেধ থাকায় সে প্রচেষ্টা জটিল হয়ে যায়।