admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২৩ নভেম্বর, ২০২১ ১০:২১ অপরাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্রের পাত্তা পাচ্ছে না সামিট ফর ডেমোক্রেসি! প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের উদ্যোগে আগামী ডিসেম্বরে ‘গণতন্ত্র সম্মেলন’র আয়োজন করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। যাকে বলা হচ্ছে ‘সামিট ফর ডেমোক্রেসি’। অর্থাৎ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর সম্মেলন’। এতে অংশ নেওয়ার জন্য শতাধিক দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তার মানে ওই সব দেশগুলোকে গণতান্ত্রিক দেশর তালিকায় রাখা হয়েছে। আবার বহু দেশকেই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। খবর এএফপি ও পলিটিকো। বিশ্লেষকরা বলছেন, গণতন্ত্র নিয়ে এমন বিশাল আয়োজন করতে যাওয়া সেই যুক্তরাষ্ট্রের ঘরেই হেলাফেলায় দুর্বল হয়ে আসছে গণতন্ত্র। অন্য দেশে ভোটাধিকার সুরক্ষার কথা বললেও নিজেদের দেশেই সবার ভোটাধিকার নেই।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের মতো নানা অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে লাখ লাখ মানুষ, বিশেষ করে সংখ্যালঘুরা। দেশটির সরকার ও প্রশাসনের উদ্দেশে জাতিসংঘ বলেছে, শক্তিশালী ও কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও বেশি কাজ করতে হবে। অধিকারবঞ্চিত সংখ্যালঘুদের ভোটাধিকার ও ন্যায়বিচারসহ অন্যান্য অধিকার ফিরিয়ে দিতে সবকিছুই ঢেলে সাজাতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রকে ‘গণতন্ত্রের আঁতুড়ঘর’ বলা হয়ে থাকে। কিন্তু বর্তমানে দেশটির গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ক্রমেই অবনতি হচ্ছে। ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেক্টোরাল অ্যাসিসট্যান্স’র (আইআইডিইএ) এক রিপোর্টে প্রথমবারের মতো ‘ক্ষয়িষ্ণু গণতন্ত্র’র দেশগুলোর তালিকায় উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের নাম।
গণতন্ত্রের অন্যতম মৌলিক ভিত্তি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। সবশেষ ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর সেই নির্বাচন নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। যা মার্কিন ইতিহাসে বিরল। এ ছাড়া জনগণের, বিশেষ করে কৃষ্ণাঙ্গ ও অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর মতপ্রকাশ তথা বাকস্বাধীনতা, ন্যায়বিচার প্রাপ্তির অধিকার রক্ষায় চরমভাবে ব্যর্থ হচ্ছে দেশটির সরকার ও প্রশাসন।
সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এই উদাসীনতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির সংখ্যালঘু অধিকারবিষয়ক স্পেশাল র্যাপোর্টিয়ার ফারনান্দ ডা ভ্যারেনেস সোমবার এক বিবৃতিতে বলেন, সংখ্যালঘুদের অধিকার নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই তার আইনি কাঠামো ঢেলে সাজাতে হবে।