admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৪ নভেম্বর, ২০২১ ৯:১৫ পূর্বাহ্ণ
বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে অসন্তোষ মতৈক্যে শেষ হলো। কপ- ২৬ শেষ পর্যন্ত মতৈক্য হয়েছে। প্রায় ২০০টি দেশ জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই চালানো ও ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের পরে হওয়া এ মতৈক্যে যে সবাই সন্তুষ্ট হয়েছে, তা নয়। বরং অনেক দেশের মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে গভীর অসন্তোষ রয়ে গেছে। নিউইয়র্ক টাইমস। দুই সপ্তাহব্যাপী জলবায়ু সম্মেলনের নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে গিয়েছিল আগেই। পরে অতিরিক্ত সময় নিয়ে গতকাল শনিবার রাতে চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়। চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার আগে সম্মেলনের সভাপতি অলোক শর্মা একটি ভারসাম্যপূর্ণ ঘোষণা প্রকাশ করেছিলেন।
তবে এতে ধনী ও উন্নয়নশীল দেশগুলির মধ্যকার দূরত্ব ঘোচায়নি বলে দাবি করেন হতাশ ও ক্ষুব্ধ পরিবেশবাদীরা। শনিবার রাতে স্কটল্যান্ডের গ্ল্যাসগোতে প্রায় ২০০টি দেশের কূটনীতিকরা যে মতৈক্যে পৌঁছান, তাতে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলিকে সহায়তা করার জন্য আরো পদক্ষেপ নেয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু পরিবেশবাদীরা বলছেন, শেষ মুহূর্তে এসেও তড়িঘড়ি করে এ চুক্তি পাস হলেও এতে অনেক কিছুই অস্পষ্ট রয়ে গেছে।
চুক্তিতে বিশ্বেনেতাদের কার্বন নির্গমন রোধে শক্তিশালী পরিকল্পনা নিয়ে আগামী বছর ফিরে আসতে বলার পাশাপাশি ২০২৫ সালের মধ্যে ধনী দেশগুলোকে অন্তত দ্বিগুণ তহবিল দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে জলবায়ু সম্মেলনে জড়ো হওয়া হাজারো রাজনীতিবিদ ও পরিবেশ কর্মীদের জরুরি দাবি সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত যে চুক্তি হয়েছে তাতে বৈশ্বিক উষ্ণতা সমস্যা সমাধান করা যায়নি।
এছাড়া পরবর্তী দশকে কী কী পদক্ষেপ নিতে হবে এবং কিভাবে নিতে হবে গুরুত্বপূর্ণ সেই বিষয়টিই অমীমাংসিত রেখে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও এতে অনেক উন্নয়নশীল দেশের পরিবেশবান্ধব জ্বালানি তৈরি এবং ক্রমবর্ধমান চরম আবহাওয়ার বিপর্যয় মোকাবেলা করার জন্য প্রয়োজনীয় তহবিলের ঘাটতি রয়ে গেছে। শেষ মূহূর্তে এসে কয়লার ব্যাপারে ছাড়ও দেয়া হয়েছে। আগে বলা হয়েছিল, বিশ্ব থেকে কয়লাকে একবারেই বাতিল করে দেয়ার পর্যায়ে যেতে হবে। কিন্তু একেবারে শেষ মূহূর্তে এসে চুক্তিতে ভাষা পাল্টে ফেলা হয়। চুক্তিতে এখন বিশ্বজুড়ে কয়লার ব্যবহার বাতিলের পরিবর্তে কমানোর কথা বলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি দেশ তাদের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।
তারা বলছে, এটি একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে করা হয়েছে। এ পরিবর্তন বিষয়ে মতামত দেয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। আমরা প্রক্রিয়া এবং শেষ মুহূর্তের পরিবর্তন উভয় বিষয়েই হতাশ। এর আগে জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ ও বিপজ্জনক প্রভাব এড়াতে সম্মেলনে অংশ নেয়া প্রায় দুই শ দেশের প্রতিনিধিরা চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে একমত হতে না পারায় আলোচনার সময় এক দিন বাড়িয়ে শনিবার পর্যন্ত করা হয়। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলার লক্ষ্য সামনে রেখে গত বুধবার জলবায়ু সম্মেলনের এ বছরের চুক্তির খসড়া প্রকাশ করা হয়েছিল।