admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১২ নভেম্বর, ২০২১ ৯:৩৯ পূর্বাহ্ণ
আফগানিস্তানে মূর্তির স্থলে কুরআন আনল তালেবান। আফগানিস্তানের বামিয়ান প্রদেশে পূর্ববর্তী আশরাফ ঘানি সরকারের জাতীয় শহীদ ঘোষিত একজন হাজরা নেতার মূর্তি সরিয়ে সেখানে কুরআনের ভাস্কর্য প্রতিস্থাপন করেছে তালেবান সরকার। এ ঘটনায় বামিয়ানের বাসিন্দারা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। মূর্তি সরানোর পদক্ষেপে সহিংসতা শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন তারা। ফ্রান্স টোয়েন্টিফোরের খবরে বলা হচ্ছে, মূল মূর্তিটি ছিল আব্দুল আলি মাজারির। তিনি একজন শিয়া নেতা, যাকে প্রথম ক্ষমতায় আসার পর তালেবানরা হত্যা করেছিল।
গত আগস্টে তালেবানরা ক্ষমতায় ফিরে আসার পরপরই রকেট চালিত গ্রেনেড দ্বারা মূর্তিটির মাথা ভেঙ্গে ফেলা হয়। এ ঘটনায় মধ্য আফগানিস্তানের শহরের বাসিন্দারা কট্টর ইসলামপন্থীদের দোষারোপ করে। মাজারির নামে স্কয়ারটির নাম পরিবর্তন করে ‘মিলিটারি স্ট্রিট’ রাখা হয়েছে। বামিয়ানের একজন সুশীল সমাজ কর্মী আব্দুল দানিশিয়ার এএফপিকে বলছেন, গত আগস্টে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর আফগানিস্তানের অনেক ব্যবসা বিলবোর্ড এবং পোস্টার সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ৯ নভেম্বর তালেবান মাজারির মূর্তিটি সম্পূর্ণভাবে অপসারণ করে এবং এটিকে কুরআনের প্রতিরূপ দিয়ে প্রতিস্থাপিত করেছে।
দানিশিয়ারের ভাষায়, তালেবান বামিয়ান থেকে ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা করছে। জনগণ এতে হিংসাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখাবে। মাজারির মূর্তিটি বামিয়ানের কেন্দ্রীয় চত্বরেও দাঁড়িয়ে ছিল। যেখানে তালেবানরা ২০০১ সালে বুদ্ধের দুটি বিশাল ১৫০০ বছরের পুরনো মূর্তি উড়িয়ে দিয়েছিল। খবরে বলা হচ্ছে, বামিয়ানের মানুষ মাজারিকে ভালোবাসে, তারা আংশিকভাবে ধ্বংস হওয়া মূর্তিটি প্রতিস্থাপন করতে একটি নতুন মূর্তি তৈরি করছে।
মাজারি একজন উগ্র তালেবান-বিরোধী মিলিশিয়া নেতা। তিনি ১৯৯৫ সালে তালেবানদের হাতে বন্দী হওয়ার পর নিহত হন।২০১৬ সালে তৎকালীন ঘানি সরকার মাজারিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আফগানিস্তানের জাতীয় ঐক্যের জন্য শহীদ হিসেবে মনোনীত করে। হাজারা সম্প্রদায় প্রধানত শিয়া গোষ্ঠীর মানুষ।