admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ৯:০০ পূর্বাহ্ণ
পাকিস্তানে তৈরি হচ্ছে ২০০ কেজি স্বর্ণে সর্ববৃহৎ পবিত্র কুরআন শরিফ। পাকিস্তানে প্রস্তুত হচ্ছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ কুরআন। এর প্রতিটি অক্ষর সাজানো হচ্ছে স্বর্ণ দিয়ে। পাকিস্তানের বিখ্যাত শিল্পী শহিদ রাসাম কুরআনটি প্রস্তুত করছেন। ফ্রেম ছাড়াই সাড়ে আট ফুট দৈর্ঘ্যের এবং সাড়ে ছয় ফুট প্রস্থের এ কুরআন তৈরি করতে ব্যয় হবে ২০০ কেজি স্বর্ণ। খালিদ টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়। শহিদ রাসামের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ৫৫0 পৃষ্ঠার এ কুরআনে শব্দ রয়েছে প্রায় ৮০ হাজার।
প্রতিটি পৃষ্ঠায় গড়ে ১৫০ শব্দ থাকবে। এগুলো তৈরি করতে প্রায় ২০০ কেজি স্বর্ণ এবং ২ হাজার কেজি অ্যালুমিনিয়াম ব্যবহার করা হবে। অ্যালুমিনিয়াম নির্মিত শব্দগুলো স্বর্ণদ্বারা মোড়ানো (গোল্ড প্লেটেড) থাকবে। এ বিষয়ে দুবাইয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানি এই শিল্পী বলেন, ২০২৫ সালের মধ্যে এ কুরআনটি সম্পন্ন করার ব্যাপারে তারা আশাবাদী। তবে এক্সপো ২০২০ দুবাইয়ে তিনি এ কুরআনের অংশ বিশেষ উপস্থাপন করবেন।
ছয় মাসব্যাপী অনুষ্ঠেয় এক্সপো ২০২০ দুবাই এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় আয়োজন। লক্ষ লক্ষ দর্শকের কাছে সৃজনশীল এ কাজটি তুলে ধরার জন্য তিনি এটিকে একটি খুবই উপযুক্ত ও সঠিক প্ল্যাটফর্ম বলে মনে করছেন। করাচির আর্টস কাউন্সিল ইনস্টিটিউট অফ আর্টস অ্যান্ড ক্রাফটসের অধ্যক্ষ শহিদ রাসাম বলেন, আমি এ আয়োজনে পবিত্র কুরআনের হৃদয় হিসেবে পরিচিত সূরা আর রহমানের অংশটুকু প্রদর্শন করবো।
দুবাই এক্সপোর থিম- কানেকটিং মাইন্ডস, কানেকটিং দ্য ফিউচারের (সংযোগকারী মন, ভবিষ্যতের সাথে সংযোগ সৃষ্টি করে) সাথে এ সূরার বিষয়গুলোও সামঞ্জস্যপূর্ণ। প্রতিভাবান এ শিল্পী জানান, এখন পর্যন্ত পবিত্র কুরআন কাগজ, কাপড় ও পশুর চামড়ার প্রচলিত পদ্ধতিতে লিপিবদ্ধ হয়েছে। আমি তাই ভিন্ন কিছু করার চ্যালেঞ্জ নেই এবং এখন পর্যন্ত সফলভাবে এগিয়ে যাচ্ছি। আমার এ প্রকল্পে ইসলামের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি উচ্চমানের ক্যানভাসে অ্যালুমিনিয়াম ও স্বর্ণের প্রলেপ দিয়ে পবিত্র কুরআন লিপিবদ্ধ হচ্ছে।
তিনি বলেন, পবিত্র কুরআনটির আকার হবে ফ্রেম ছাড়াই সাড়ে ছয় ফুট বাই সাড়ে আট ফুট। বর্তমানে আমার ছাত্রসহ প্রায় ২০০ প্রতিভাবান শিল্পী এই প্রকল্পে কাজ করছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইকনিক প্রকল্পটি নিজে শুরু করলেও বন্ধুরা এই প্রকল্পে সাহায্য-সহযোগিতা করছে। আসলে এটি একটি বিশেষ ধরনের প্রকল্প এবং সমাজের সকল অংশের ব্যাপক সমর্থন ছাড়া অর্জন করা সহজ চ্যালেঞ্জ নয়। দুবাই এক্সপোতে এ কুরআনটি কোথায় প্রদর্শিত হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে শহিদ রাসাম বলেন, এটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কারণ একজন পাকিস্তানি হিসেবে অবশ্যই আমি চাই, এটি পাকিস্তানি প্যাভিলিয়নে প্রদর্শিত হোক। তবে আরো কিছু অংশগ্রহণকারী দেশও এ ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তাই বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।