admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ৬:১৯ অপরাহ্ণ
রিদ্দু নিংদার, স্টাফ রিপোর্টার ইন্দোনেশিয়াঃ ইন্দোনেশিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী দেশটির ইস্ট ইন্দোনেশিয়া মুজাহিদিনের (এমআইটি) প্রধান নেতাকে গুলি করে হত্যা করেছে। রোববার নিরাপত্তা বাহিনী দাবি করেছে, দলটির সঙ্গে আন্তর্জাতিক সশস্ত্র গোষ্ঠী আইএসের সম্পর্ক রয়েছে। পুলিশের বিবৃতির বরাত দিয়ে দ্য স্ট্রইট টাইমস বলছে, শনিবার বিকেলে সুলাওয়েসি দ্বীপের একটি গ্রামে সামরিক ও পুলিশ সদস্যদের যৌথ অভিযানে আলী কালোরা নামে ওই নেতা গুলিতে নিহত হন। পুলিশ বলছে, একই অভিযানে আরও একজন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য গুলিতে নিহত হয়েছে। জাকা রমাদান নামে ওই ব্যক্তি ইকরিমা নামেও পরিচিত। আরও চারজন এমআইটি সদস্যকে ধরার জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। সশস্ত্র গোষ্ঠীটির সদস্যদের কাছ থেকে একটি এম-১৬ রাইফেল ও দুটি চাপাতি জব্দ করেছে পুলিশ।
২০১৬ সালে নিরাপত্তা বাহিনী এমআইটির আগের প্রধান সান্তোসোকে হত্যা করার পর আলী কালোরা এমআইটি নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কর্তৃপক্ষ বিশ্বাস করে যে, ২০২০ সালের নভেম্বরে কেন্দ্রীয় সুলাওয়েসিতে চার গ্রামবাসীর নৃশংস হত্যার পেছনে এমআইটির হাত ছিল। যদিও এই গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি।
বিশ্বের সর্বাধিক মুসলিম জনসংখ্যার দেশ ইন্দোনেশিয়ায় এক সময় মোস্ট ওয়ান্টেড সশস্ত্র নেতা ছিলেন এমআইটির সাবেক নেতা সান্তোসো। তিনি ছিলেন ইন্দোনেশিয়ার প্রথম ব্যক্তি, যিনি আইএস সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রতি আনুগত্যের অঙ্গীকার করেছিলেন।
ইন্দোনেশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাস-বিষয়ক বিশ্লেষক রিদওয়ান হাবিব বলছেন, সুলাওয়েসি-ভিত্তিক এমআইটি গোষ্ঠীর সদস্যরা মৃত্যুকে ‘শহীদ’ হিসেবে গণ্য করে। যেহেতু এখন তাদের নেতার মৃত্যু হয়েছে, এজন্য তারাও মরণপণ লড়াই চালিয়ে যাবে। প্রধানের মৃত্যুর পর নতুন প্রধান কেউ নির্বাচিত হবে কি না- সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।
পুলিশ গত মাসে ইন্দোনেশিয়ার স্বাধীনতা দিবসে হামলার পরিকল্পনার সন্দেহে ৫৩ জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করেছে। দেশটির সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা ২০০২ সালে পর্যটন দ্বীপ বালিতে হয়েছিল। ওই হামলায় নিহত হয় ২০২ জন, যাদের অধিকাংশই ছিল বিদেশি পর্যটক।