admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১০:৪৯ অপরাহ্ণ
জাতিসংঘে চিঠি, বাংলাদেশের ভেতরে ভারতীয় বেসলাইন। সমুদ্র সীমানা নির্ধারণে ভারতের ব্যবহার করা কোস্টাল বেসলাইনের অংশবিশেষ বাংলাদেশের সীমানার ভেতরে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা হলেও কোনো সমাধান আসেনি। ফলে বাধ্য হয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব বরাবর গত ১৩ সেপ্টেম্বর চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালের মে মাসে সমুদ্রসীমা নির্ধারণে বেসলাইন ব্যবহার করে ভারত। এর একটি অংশ বাংলাদেশের ভেতরে পড়ায় প্রতিবাদ জানিয়ে ওই বছরের অক্টোবরে নয়াদিল্লিকে চিঠি দেয় ঢাকা। উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত সংশোধনের অনুরোধ জানায় ঢাকা।
বিষয়টি আমলে নেয়নি দিল্লি। উল্টো চলতি বছরের এপ্রিলে বাংলাদেশের নির্ধারিত বেসলাইনের বিরোধিতা করে জাতিসংঘ মহাসচিব বরাবর চিঠি দেয় ভারত। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে একইভাবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও চিঠি দেয়া হলো। এতে ঢাকার অবস্থান ব্যক্ত করে বলা হয়, বিষয়টি দীর্ঘদিন জাতিসংঘকে না জানালেও এখন এর বিরোধিতা করছে ঢাকা এবং যতদিন পর্যন্ত দিল্লি বিষয়টি ঠিক করে জাতিসংঘকে না জানাচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত বিরোধিতা অব্যাহত থাকবে। চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, ১৯৭৬ সালে টেরিটোরিয়াল ওয়াটার এবং মেরিটাইম জোন সংক্রান্ত আইন করে ভারত। ২০০৯ সালে বেসলাইন নির্ধারণে সেই আইনে সংশোধনী আনে দেশটি। এতে নিম্ন পানি থেকে বেসলাইন ধরার বিধান বদলে স্ট্রেইটলাইন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে।
সে অনুযায়ী, সমুদ্র তীরের পরিবর্তে ৮৭ নম্বর বেস পয়েন্টটি প্রায় ১১ নটিক্যাল মাইল দূর থেকে এবং ৮৯ নম্বর বেস পয়েন্ট বাংলাদেশের জলসীমার প্রায় ২ দশমিক ৩ মাইল ভেতরে নির্ধারণ করা হয়েছে। যা আনক্লসের ৭ নং ধারার পরিপন্থী, জানান মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের সচিব মো. খোরশেদ আলম।
এ ছাড়া জাতিসংঘকে পাঠানো ভারতের চিঠিতে বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের মহীসোপানের মালিকানা নিয়েও বিরোধিতা করা হয়েছে। পাল্টা অবস্থান নিয়ে চিঠিতে ঢাকা বলেছে, আন্তর্জাতিক আরবিট্রেশন কোর্টের রায়ের আলোকে মহীসোপানের মালিকা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০১৪ সালে। উভয় দেশ সমুদ্রসীমা নির্ধারণ করে গেজেট আকারে তা সরকারিভাবে প্রকাশও করে। এর পরেও বিষয়টি নিয়ে আর কোনো বিরোধ থাকতে পারে না।