admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ৫:৪৮ অপরাহ্ণ
জেলা প্রতিনিধিঃ ১২ সেপ্টেম্বর রবিবার সকালে ঠাকুরগাঁও জেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলেছেন শিক্ষার্থীরা দোলে দোলে স্কুল প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ক্লাস করেছেন আনন্দ সঙ্গে। ১৮০ দানারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঠাকুরগাঁও সদর, সইয়দপুর, দানারহাট, বেগুনবাড়ি ইউনিয়ন। মোট দুই শত পঞ্চাশ ছাত্র, ছাত্রী ও শিক্ষক ছয়জন অনেক এবং তিনি আরও জানান করোনাকালিন তার স্কুলের ছাত্র , ছাত্রীদের অনলাইনের মাধ্যমে ক্লাশ করিয়েছেন। প্রধান শিক্ষিকা মোছাঃ ফারহানা তানজিয়া মান্নান জানান তার স্কুলের ছাত্র, ছাত্রীরা আনন্দিত স্কুলে আসতে পেরে।

১৮০ দানারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঠাকুরগাঁও
এছাড়া জেলার বিভিন্ন থানার স্কুল গুলোর ছাত্র – ছাত্রীরা দীর্ঘ দিন আগের বানানো স্কুল ড্রেস আর জুতা ছোট হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। করোনাকালে দেড় বছর বন্ধ থাকার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলেছেন । প্রকৃতির নিয়ম অনুসারে এই দীর্ঘ সময়ে শিক্ষার্থীরা বড় হয়ে গেছে। দেড় বছর আগে বানানো স্কুল ড্রেস আর জুতা অনেক ছোট হয়ে গেছে। ফলে বছরের শেষের দিকে এসে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা বিপাকে পড়েছেন। করোনা মহামারির কারণে দেড় বছর দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছিল সরকার। এতে শিক্ষার্থীরা বাড়িতে বসে অনলাইনে ক্লাস করা ছাড়া সরাসরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার সুযোগ ছিল না, যার ফলে দেড় বছর আগে অর্থাৎ ২০২০ সালের প্রথম দিকে বানানো স্কুল ড্রেস ও জুতা আর পরা হয়নি। এত দিন পর সেগুলোও ছোট হয়ে গেছে।
ঠাকুরগাঁও জেলার পাঁচটি উপজেলা রয়েছে । বালিয়াডাঙ্গী, পীরগঞ্জ, হরিপুর, ঠাকুরগাঁও সদর,সহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলেছেন । রাণীশংকৈল সানফ্লাওয়ার কিন্ডারগার্টেন এন্ড প্রি ক্যাডেট স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারজানা খানম জানায়, গত বছর স্কুলে নতুন ড্রেস আর জুতা পরে যাওয়া হয়নি। এখন স্কুল খুলবে বলে আমি খুব খুশি। স্কুল ড্রেস, জুতা এগুলো সবই নতুন কিন্তু অনেকটা ছোট হয়ে গেছে। ফলে বাবাকে বলেছি নতুন ড্রেস বানিয়ে দিতে। নেকমরদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তাসমিনুল হাসান তাসিন তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ত। তবে এখন সে কোনো ক্লাসে পড়বে তা স্কুলে গিয়ে দেখতে চায়। মা বলেছেন, সে এখন তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে।
কিন্তু তার কথা হলো, তার ক্লাসে বন্ধুরা কই। সে বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে চায়। নতুন ড্রেস আর জুতাও চায় স্কুলে যাওয়ার জন্য শিক্ষার্থীরা । একই অবস্থার কথা জানালো রাণীশংকৈলে কেন্দ্রীয় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী খোরশেদ আলম। তার কথা হলো, স্কুলে যাওয়ার জন্য জুতা, ড্রেস, ব্যাগ সবই বেমানান হয়ে গেছে। এমনকি বেশ কিছু বন্ধুর কথা সামান্য স্মৃতিপটে মনে আছে। অনেক কিছুই পরিবর্তন হয়েছে, যা সময়ের সঙ্গে ফিরে পাওয়া সম্ভব নয় বলে এই শিক্ষার্থী মনে করে।
অভিভাবক ও শিক্ষক শারমিন আক্তার জানান, এত দিন পর স্কুল খুলছে, তা শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য বেশি আনন্দের। কারণ তারা এই দীর্ঘ সময়ে বাড়িতে থেকেছে। এখন তাদের স্কুল খুলছে বলে নতুন স্কুল ড্রেস ও জুতা পরতে চায়। আগের স্কুল ইউনিফর্ম ও জুতা নতুন, তবে তা দেড় বছর আগের হওয়ায় আর পরা যাচ্ছে না। এখন বায়না ধরেছে এসব নতুন কিনে দিতে হবে। কী আর করার, বছর শেষের দিকে নতুন পোশাক বানিয়ে দিতে হবে।

সাইফুল ইসলাম নামে এক অভিভাবক বলেন, ছেলে এবার সপ্তম শ্রেণিতে পড়বে। নতুন ড্রেস বানিয়ে দিয়েছিলাম, কিন্তু করোনার কারণে ক্লাস তো আর শুরু হলো না। সব ড্রেস, জুতা ছোট হয়ে গেছে। এখন নতুন করে সব বানাতে হবে। এদিকে কাপড়ের দোকানেও ড্রেস মিলছে না। রাণীশংকৈল কেন্দ্রীয় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু শাহানশাহ্ বলেন, স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জ্বর মাপার জন্য থার্মোমিটার, হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ প্রয়োজনীয় উপকরণও রাখা হয়েছে।
অনেক শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেস ও জুতা ছোট হয়ে গেছে তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে নতুন ড্রেস আর জুতা নেওয়ার জন্য। রানীশংকৈল উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মুঞ্জর আলম জানান, প্রাথমিক শিক্ষা পর্যায়ে সরকার কিডস অ্যালাউন্স নামে প্রতি বছর ১ হাজার টাকা করে দেয় স্কুলের ড্রেস, জুতাসহ ব্যাগ কেনার জন্য। এটি শুধু সরকারি প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য। এ বছর এই টাকা এখনো অনেক স্কুলে দেওয়া হয়নি।
রাণীশংকৈল মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলী শাহরিয়ার বলেন, অনেক দিন পর শিক্ষার্থীরা প্রিয় বিদ্যালয়ে এসেছে ও ক্লাস রুমে ঢুকে ক্লাস করেছে এতে আমরাও আনন্দিত। অনেকদিন পর শিক্ষার্থীরা ক্লাস করতে পেরেছে বলে আনন্দে অভিভূত হয়েছে ।