admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৪ আগস্ট, ২০২১ ১২:০২ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশে বেশির ভাগ রুগী উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু আক্রান্তের দ্বিগুণেরও বেশি। দেশে যত মানুষ প্রাণঘাতী করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছেন তারচেয়ে দ্বিগুণ মারা যাচ্ছেন ভাইরাসটির উপসর্গ নিয়ে। এটা শুধু হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর যারা মারা যাচ্ছেন তাদের হিসেব। এর বাইরে উপসর্গ নিয়ে বাড়িতেও মারা যাচ্ছেন অনেকে। সবমিলিয়ে করোনায় আক্রান্তের চেয়ে উপসর্গ নিয়ে দ্বিগুণেরও বেশি মানুষ মারা যাচ্ছেন। ৫ জেলার বড় ৫টি হাসপাতালের গত এক সপ্তাহে করোনায় আক্রান্ত এবং উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা বিশ্লেষণ করে এমনটা জানা গেছে।
জেলাগুলো হলো- চট্টগ্রাম, রাজশাহী, ফেনী, বরিশাল ও ময়মনসিংহ। চিকিৎসকরা বলছেন, জ্বর সর্দি ও কাশির মতো উপসর্গ গুলো কয়েকদিন ধরে থাকলেও হাসপাতালে আসতে চান না রোগীরা। পরে যখন তীব্র শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়, তখনই তাদের টনক নড়ে। ওই সময় হাসপাতালে আনা হলেও নমুনা পরীক্ষার আগেই অনেক রোগী মারা যান। স্বাভাবিকভাবেই তারা চলে যান উপসর্গে মৃত্যুর তালিকায়। এদের মধ্যে অধিকাংশই হয়তো পজিটিভ।
বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২৮ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ১৩ জন। একই সময়ের মধ্যে হাসপাতালটিতে উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ৫২ জন। এই এক সপ্তাহের মধ্যে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে করোনায় মৃত্যু ৯ জনের এবং উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ২৮ জন।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে এই সময়ের (২৮ জুলাই-৩ আগস্ট) মধ্যে শনাক্ত রোগীর মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৩৭, উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ৬২ জন। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আক্রান্ত হিসেবে মারা গেছেন ৪৬ জন, উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু ৭৭। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু ১৫, উপসর্গ নিয়ে ১৯ জনের।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য এবং করোনাবিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, উপসর্গ নিয়ে যারা মারা যান তাদের প্রত্যেকের নমুনা পরীক্ষা করার কথা ছিল। কিন্তু নানা সীমাবদ্ধতার কারণে সেটা সম্ভব হচ্ছে না। সরকারকে এ বিষয়ে মনোযোগ দিতে হবে।