admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৫ জুলাই, ২০২১ ১:১৮ অপরাহ্ণ
ঈদুল আজহা উপলক্ষে চলমান বিধিনিষেধ শিথিলে উদ্বেগ, হাট বন্ধসহ ১৪ দিন লকডাউনের সুপারিশ। দেশে যখন করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার ঊর্ধ্বমুখী তখন ঈদুল আজহা উপলক্ষে চলমান বিধিনিষেধ শিথিল করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। একই সঙ্গে ভাইরাসটির সংক্রমণ প্রতিরোধের অংশ হিসেবে কোরবানির পশুর হাট বন্ধের পাশাপাশি আরো ১৪ দিন কঠোর লকডাউনের সুপারিশ করেছে কমিটি। জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বুধবার এ তথ্য জানিয়ে বলা হয়, আবারো দেশে করোনার সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে শুরু করেছে। এ অবস্থায় সরকার লকডাউন শিথিল করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা গভীর উদ্বেগের।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির ৪১তম অনলাইন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। আলোচনা শেষে কমিটির পক্ষ থেকে ৬ দফা সুপারিশ করা হয়। সুপারিশগুলো হল।
ক. বর্তমানে সারাদেশে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। অথচ এ অবস্থায় সরকার লকডাউন শিথিল করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে কমিটি। চলমান পরিস্থিতিতে কঠোর লকডাউন আরো ১৪ দিন বাড়ানোর সুপারিশ করছে জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি।
খ. লকডাউনের অংশ হিসেবে কোরবানির পশুর হাট বন্ধ রাখার প্রস্তাব করছে কমিটি। তবে প্রয়োজনে ডিজিটাল হাট পরিচালনার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। অবশ্য সরকার যদি লকডাউন শিথিল করে কোরবানির হাট সীমিত পরিসরে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়, সেক্ষেত্রে কমিটির পক্ষ থেকে দেওয়া বিধিনিষেধসমূহ প্রয়োগের বিষয়ে সুপারিশ করা হলো।
গ. কমিটির ৪১তম বৈঠকে সরকারের পক্ষ থেকে সারাদেশে করোনা পরীক্ষার সংখ্যা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি করায় সন্তোষ প্রকাশ করা হয়। এ ছাড়া পূর্ববর্তী সভায় জাতীয় পরামর্শক কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে বেসরকারি পর্যায়ে আরটি-পিসিআর পরীক্ষার মূল্য পুনঃনির্ধারণ করায় সরকারকে ধন্যবাদ জানানো হয় সর্বশেষ সভায়। দৈনিক করোনা পরীক্ষার সংখ্যা আরো বৃদ্ধির লক্ষ্যে বেসরকারি পর্যায়েও টেস্ট বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কিটের দাম আরো হ্রাস পাওয়ায় আরটি-পিসিআর পরীক্ষার মূল্য কমিয়ে ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকার মধ্যে নির্ধারণের পরামর্শ দেয় কমিটি।
ঘ. দেশের অনেক কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে বর্তমানে বিদ্যমান শয্যা সংখ্যার অতিরিক্ত রোগী ভর্তি আছে। এ অবস্থায় মানুষের চিকিৎসা নিশ্চিতকরণের জন্য ফিল্ড হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা অতি জরুরি হয়ে পড়েছে। অবশ্য বিভিন্ন পর্যায়ে ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপনের জন্য ইতোমধ্যেই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সভায় কমিটি এ উদ্যোগকে স্বাগত জানায় এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে তা বাস্তবায়নের অনুরোধ জানায়।
ঙ. আমাদের দেশে সরকারের অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকার পর ফাইজার, মডার্না এবং সিনোফার্ম থেকেও করোনার টিকাপ্রাপ্তি নিশ্চিত হয়েছে। একই সঙ্গে আবারো সারাদেশে একযোগে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এ জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানায় কমিটি। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে আরো বেশি মানুষকে টিকা কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্যে বয়সসীমা ১৮ বছরে নামিয়ে আনা, যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নেই তাদের টিকার আওতায় আনা এবং নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) প্রক্রিয়া আরো সহজ করার পাশাপাশি অন্যান্য বিষয়ে সরকারকে অতি দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের অনুরোধ জানায় কমিটি।
চ. চলমান করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, সেগুলো সাফল্যের সঙ্গে বাস্তবায়ন করার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় অংশ গ্রহণ নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয় সভায়।