admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৭ জুলাই, ২০২৫ ১:৩৮ অপরাহ্ণ
ডাঃ নুরল হক,বিরামপুর প্রতিনিধি: মরুভূমির রুটি চাষ হচ্ছে দেশেই, বলেছেন খেজুর চাষী জাকির।দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ি উপজেলার মধ্যপাড়া রোড স্বজন পুকুর গ্রামে আজুয়া, মরিয়ম, আম্বার, বারহি ও খনিজি জাতের খেজুর চাষে সফলতা অর্জন করেছেন জাকির হোসেন। তিনি ২০১৭ সালে ১৫ শতক জমিতে ১৯ টি খেজুর গাছের বীজ বপন করেন। বপনের ৪ বছর পর গাছে খেজুর আসতে শুরু করে। বর্তমান গাছ গুলির বয়স ৮ বছর।
প্রতিটি গাছে প্রায় ১০ থেকে ১২ টি কাদি এবং প্রতিটি কাদির ওজন ১৫ থেকে ২০ কেজি পর্যন্ত হয়। খেজুরের বীজ থেকে চারা এবং খেজুর গাছের কলম কেটে তিনি চারা বিক্রি করেন ১ হাজার টাকা কলম বিক্রি করেন ১৫ হাজার টাকা।
খেজুর , চারা ও কলম বিক্রি করে তিনি বছরে ২৫ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা উপার্জন করেন। তার নার্সারি নাম জাকির নার্সারি। প্রতিদিন তার নার্সারি থেকে খেজুরের চারা এবং কলম ক্রয়ের জন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লোকজন আসেন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ১৯৯৯ সালে তিনি কুয়েতে গ্যারেজে চাকরিতে যোগদান করেন। সেই সুবাদে খেজুরের বাগান দেখে অভিজ্ঞতা অর্জন এবং বাগানের বিভিন্ন গাছের বিভিন্ন রকমের খেজুর খেয়ে তাঁর দেশে (বাংলাদেশ) খেজুর গাছ লাগার আগ্রহ জাগে। ২০১৭ সালে খাবারের জন্য খেজুর এনে সেই খেজুরের বীজ বপন করেন। গাছগুলি দেখাশোনা এবং পরিচর্যা করতেন তাঁর স্ত্রী। ২০২০ সালে দেশে এসে তিনি সরাসরি খেজুর গাছের পরিচর্যা শুরু করেন।
খেজুরের বীজ থেকে চারা এবং গাছ থেকে কলম তৈরি করা শুরু করেন। ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশ হলেও, বাংলাদেশে আরবের খেজুর চাষে সফলতা অর্জন করা সম্ভব। বর্ষাকালে একটু সমস্যা হলেও গাছ বা খেজুরের উপর তেমন কোনো প্রভাব পড়ে না।
বর্তমান তার খেজুর গাছে প্রচুর পরিমাণে খেজুর ধরেছে। খেজুরের আগাম অর্ডার রয়েছে। আগামী আগস্ট/ সেপ্টেম্বর মাসে খেজুর নামানো শুরু হবে। তাঁর নার্সারিতে আরবের খেজুর গাছের খেজুর দেখে উৎসাহিত হয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন তার নার্সারি থেকে চারা এবং খেজুর গাছের কলম নিয়ে বাগান করছেন বলে তিনি জানান।
বিরামপুর উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের আসাদুজ্জামান জাকির হোসেনের আরবের খেজুর চাষের সফলতা দেখে তিনি বাগান করার জন্য জমি প্রস্তুত করেছেন। কয়েকদিনের মধ্যেই ১৫ টি চারা রোপন করবেন বলে জানান।