admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২৭ জানুয়ারি, ২০২৩ ৬:০৬ অপরাহ্ণ
মিরু হাসান,স্টাফ রিপোর্টারঃ চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যাবেনা, যে কয়েকটি ইটভাটায় এলাকার পরিবেশ ফসলি জমি ও রাস্তাঘাট মারাত্বক হুমকিতে পরেছে। আর এই ইটভাটাগুলো দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা বগুড়ার সান্তাহার শহরের বশিপুর এলাকায় অবৈধভাবে চলছে। এর পরও সান্তাহার পৌরসভা কর্তপক্ষ কৃষি বিভাগ উপজেলা প্রশাসন এমন কি পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকজন চপচাপ নিরব ভুমিকা পালন করে আসছে।
জানাযায়, দেশে প্রচলিত আইন মোতাবেক তিন ফসলি জমিতে এবং শহর এলাকার মধ্যে ইটভাঁটি নির্মানের কোন সুযুগ নেই। কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, পৌর কর্তৃপক্ষ, কৃষি বিভাগ ও পরিবেশ অধিদপ্তরসহ প্রশাসনের নাকের ডগায় স্থানীয় প্রভাবশালী আলহাজ বাবলু সরদার অবৈধভাবে বগুড়ার সান্তাহার পৌর শহরের বশিপুর এলাকায় তিন ফসলি জমিতে একাধিক ইটভাটা নির্মান করেছেন। ফলে একই এলাকায় একাধিক ইটভার গ্যাস, বিষাক্ত ধোঁয়া ও জ্বলন্ত কয়লা ও কাঠের কুচি উড়ে পরে এলকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।
সেই সাথে ফসলি জমি,রাস্তাঘট, গাছপালা,শাকসবজিসহ সবধরনের ফসল মারাত্বক ভাবে ক্ষতি হচ্ছে। এ ছাড়াও জমির উপরিভাগের মাটি কেটে ইট ভাটায় নেওয়ায় জমির উরবোরতা শক্তি কমে ফসলের ফলন বিপর্যয় ঘটছে বলে স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন। প্রভাবশালী বাবলুর বিরুদ্ধে ইটভাটার কাজের জন্য জোর পূর্বক ফসলের জমি লিখে নিয়ে আবার জমির মালিকের নামে উল্টো মামলার করার ও অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে জানাযায়, সান্তাহার পৌর এলাকার বশিপুর হিন্দু পাড়ার মৃত শশির ছেলে সুনীল (৭০) বেশ কয়েক বছর আগে খয়রাবদ এলাকার আহম্মাদ আলীর নিকট কিছু পৈতিক জমি বিক্রি করে। এক পর্যায়ে ভাটার মালিক প্রভাবশলী বাবলু ভাটার পাশের জমির মালিক সুনীলকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক তার নিকট থেকে ২৯ শতক জমি দলিল করে নেয়। এর পর প্রভাবশালী বাবলু জমির মালিক সুনীলের নিকট জমির টাকা ফেরৎ চেয়ে না পেয়ে তার বিরুদ্ধে নওগাাঁর আদালতে মামলা দায়ের করেন।
ভুক্তভুগি সুনীল জানান, ভাটার কাজের লোকজন নিয়ে আমার বারিতে এসে ভয়ভীতি দেখিয়ে আমার কাছ থেকে জোর করে জমি দলিল করে নেওয়ার পর আবার টাকা ফেরত চায়। আমি টাকা ফেরত দিতে না পারায় ৪ বছর আগে আমার বিরুদ্ধে নওগাঁয় আদালতে মামলা করেন। আমি গরীব মানুষ ৪ বছরে মামলায় টাকা পয়সা খরচ করে নিশ্বঃ হয়েছি। নাম না জানানোর শর্তে এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি জানান গ্যাস ও বিষাক্ত ধোঁয়াতে এলাকার পরিবেশ মারাত্বকভাবে দুষিত হচ্ছে। পাশাপশি গাছ-পালা ও ধান, শাক-সবজিসহ সবধরনের ফসলের ব্যপক ক্ষতি হচ্ছে।
এর পরও সান্তাহার পৌরসভা কর্তপক্ষ কৃষি বিভাগ উপজেলা প্রশাসন এমন কি পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকজন চপচাপ নিরব ভুমিকা পালন করে আসছে। সরেজমিনে দেখা যায় ওই একই এলাকায় পাশাপাশি রয়েছে বাবলু নামের দুটিসহ কেএমবি নামে একটি ও আরোওয়াসহ ৪টি ইটভাঁটা দেদারছে চলছে। এর একটি থেকে অপরটি দুরত্ব খুববেশী নয়। এতে প্রতীনিয়ত ভাটার কাজে ফসলি জমি ব্যবহার করায় এলাকার অনেক কৃষক বেকার হয়ে পরছে।
দেশের অন্যান্য জায়গার অবৈধ ভাবে গড়ে তোলা ইটভাঁটা গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং উচ্ছেদ করা হলেও এই এলাকায় তা করা হচ্ছেনা। এলাকার সচেতন ব্যাক্তিরা অবিলম্বে অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করে এলাকায় সুষ্ট পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন ।এবিষয়ে ইটভাটার মালিক বাবলুর সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোন রিছিভ না করায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।
এব্যাপারে সান্তাহার পৌরসভার মেয়র তোফাজ্জল হোসেন ভুট্টু, বলেন পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া হয়নি ভাটা বন্ধ করতে একাধিকবার নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহি অফিসার টুকটুক তালুকদার বলেন অবৈধ ইটভাটা হলে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।