admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১০ এপ্রিল, ২০২১ ৯:৩৮ অপরাহ্ণ
মার্কিন নৌবহর নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারত, সম্পর্কে ছন্দপতন। ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্র এখন যুগপৎ একই পথে হাঁটছে। একটাই পথ- চীনকে দমিয়ে রাখা। দৃশ্যত, দুই দেশেরই প্রধান শত্রু এখন চীন। এ লক্ষ্যে কোয়াডকে সক্রিয় করা হয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী দিল্লি ঘুরে গেছেন। সামরিক সম্প্রীতির বন্ধন নিয়ে বেশ খবরও চাওর হয়েছে। এককথায়, দুই দেশের সম্পর্কে এখন দহরম-মহরম। এ সময়টাতে দিল্লি-ওয়াশিংটনের সম্পর্কে ‘ফাটল’ ধরবে কে জানত! ভারতের সমুদ্রসীমার বিশেষ অর্থনৈতিক জোনে অনুমতি না নিয়েই প্রবেশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সপ্তম নৌবহর। পরিচালনা করেছে ‘ফ্রিডম অব নেভিগেশন’ শীর্ষক অভিযান। এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি। ভারত সরকার বলেছে, এ ঘটনা তাদের সমুদ্র সুরক্ষা নীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক চ্যানেলে নয়াদিল্লির উদ্বেগের বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে মার্কিন প্রশাসনে। শুক্রবার এক বিবৃতিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
গত বুধবার ভারতের লাক্ষাদ্বীপ থেকে আনুমানিক ১৩০ নটিক্যাল মাইল পশ্চিমে ভারতীয় সমুদ্রসীমায় বিশেষ অর্থনৈতিক জোনের ভেতরে অবস্থান করছিল যুক্তরাষ্ট্রের সপ্তম নৌবহর জন পল জোনস। এ সময় ফ্রিডম অব নেভিগেশন নামে অভিযান পরিচালনা করেছে এ বহর। আন্তর্জাতিক আইন মেনে এমন কার্যক্রম পরিচালনায় ভারতের অনুমতি নেওয়া প্রয়োজন ছিল।বিবৃতিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সপ্তম নৌবহরের অধীনে ইউএসএস জন পল জোনস পারস্য উপসাগর থেকে মালাক্কা প্রণালির দিকে যাত্রা করেছে। যাত্রাপথে এ নৌবহর লাক্ষাদ্বীপের কাছে ভারতীয় সমুদ্রসীমায় বিশেষ অর্থনৈতিক জোনের ভেতর অনুমতি ছাড়া অবস্থান করেছে। এ ঘটনায় ভারতের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক চ্যানেলে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে উদ্বেগ জানানো হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়েছে, জাতিসংঘ প্রণীত কনভেনশন অন দ্য ল অব সি মেনে চলতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ভারত সরকার। এ নীতিমালা কোনো দেশের সমুদ্রসীমার বিশেষ অর্থনৈতিক জোন, মহীসোপানে অন্য কোনো দেশের সামরিক উপস্থিতি, মহড়া পরিচালনা এবং অস্ত্র ও বিস্ফোরক ব্যবহারের অনুমোদন দেয় না। এসব সামরিক কর্মকাণ্ড চালাতে হলে অবশ্যই আগে থেকে উপকূলীয় দেশটির অনুমতি নিতে হবে। তবে এক বিবৃতিতে মার্কিন নৌবাহিনীর মুখপাত্র বলেছেন, ফ্রিডম অব নেভিগেশন অভিযান একটি রুটিন কাজ। আগেও এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও হবে। সংশ্লিষ্ট সব ধরনের আন্তর্জাতিক আইন মেনেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।