admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৬ মে, ২০২১ ২:১২ অপরাহ্ণ
ভারতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা করোনাকালীন জরুরি ত্রাণসামগ্রী এসে উধাও। বিগত এক মাস ধরে করোনা সংক্রমণে বিপর্যস্ত ভারত। রোগীর চাপে ভেঙে পড়েছে দেশটির স্বাস্থ্যসেবা। অক্সিজেনের অভাবে মারা যাচ্ছেন রোগী। এমন পরিস্থিতিতে ভারতের প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। তারা জরুরি ত্রাণসামগ্রী দিল্লিতে পাঠায়। ভারতে এসে গায়েব করোনার ত্রাণ
সিএনএন বলছে, ভারতকে সহায়তায় ইতোমধ্যে ৪০টির বেশি দেশ এগিয়ে এসেছে। গত সপ্তাহ থেকে মালবাহী বিমানে ভেন্টিলেটর, অক্সিজেন সাপ্লাই ও অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ আসতে শুরু করেছে। দিল্লির বিমানবন্দরে ওই পার্সেলগুলো নামানো হচ্ছে এমন ছবিও দেখা গেছে সংবাদমাধ্যমে। কিন্তু এত ত্রাণ সহায়তার পরও প্রতিদিনই দেশটিতে অক্সিজেনের অভাবে মানুষ মারা যাচ্ছে। এমন অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, বিদেশিদের পাঠানো এত ত্রাণ গেল কোথায়? সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক জিজ্ঞাসা করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার জনগণের আয়করের টাকায় এত যে ত্রাণ পাঠাচ্ছে, সেগুলো কোথায়? ত্রাণগুলো কীভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে, সে বিষয়ে কোনো নজরদারি আছে কি না এমন প্রশ্নও করা হয়।

ভারত সরকার এক বিবৃতি দিয়ে ত্রাণসামগ্রীর বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে। সরকার বলছে, ত্রাণ বিতরণের ক্ষেত্রে সুগঠিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে তারা। ২৪ ক্যাটাগরিতে ৪০ লাখ উপাদান এসেছে ত্রাণ হিসেবে। এগুলো ইতোমধ্যেই সারা দেশের ৩৮টি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে বলে দাবি ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, অনেক রাজ্য এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে ত্রাণ দেওয়া প্রসঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হচ্ছে না।
রাজস্থানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রঘু শর্মা সিএনএনকে বলেন, আমরা অক্সিজেন, ওষুধ এবং টিকার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে প্রতিনিধি পাঠিয়েছি। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে কিছুই বলা হয়নি। বিদেশি সহায়তা ও আমদানি নিয়ে আমরা কিছুই জানি না, কিছুই বলা হচ্ছে না। মহামারির মাঝে রাজ্য সরকারকে অন্ধকারে রাখা হয়েছে। এ খাতে স্বচ্ছতা না এলে সংকট মোকাবেলা সম্ভব হবে না। অথচ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা রাজস্থানের জোধপুর ও জয়পুরের দুটি হাসপাতালে ত্রাণ পাঠিয়েছে। গত মঙ্গলবার ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) গাইডলাইন অনুসারে তারা ২ মে থেকে ত্রাণ দেওয়া শুরু করেছে। কিন্তু ওই বিবৃতিতে কোথাও বলা হয়নি, কোথায় এবং কী ত্রাণ সরবরাহ করা হচ্ছে?

দিল্লির হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেন সংকটে প্রত্যেক দিনই রোগী মারা যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের দিকে তাকিয়ে থেকে এ সংকট আরও বেড়েছে। দিল্লির বার্তা হাসপাতালের পরিচালক ডা. এসসিএল গুপ্তা বলেন, ‘আমাদের অক্সিজেন সরবরাহ করা সরকারের দায়িত্ব। রোগীরা চোখের সামনে মারা যাচ্ছেন। আমরা তাদের জন্য কিছুই করতে পারছি না। সবকিছুতে আমলাতান্ত্রিকতা ভালো নয়।
ত্রাণ সরবরাহের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং সময়সাপেক্ষ প্রটোকলকে দায়ী করা হচ্ছে। কিন্তু করোনার এই প্রাণঘাতী পরিস্থিতিতে এসব ব্যাখ্যা অজুহাত হিসেবে দেখা দিয়েছে। ত্রাণ পাঠানোর পর রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে তা গ্রহণ করার মতো কোনো প্রটোকল নেই। রাজ্যগুলোতে ত্রাণ সরবরাহ ঠিক করতে সাত দিন সময় লেগে যায়।