admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৪ নভেম্বর, ২০২২ ১০:৫৪ অপরাহ্ণ
বিশ্বজিৎ সরকার রনি, স্টাফ রিপোর্টারঃ ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় ব্যক্তিগত কৃষি ফার্মের জমি জবর দখল করে গীর্জা নির্মাণ, অভিযোগে জানায়ায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর শাকওয়াতের কৃষি ফার্মের জমি জবরদখল করে গীর্জা নিমার্ণ করেছে এলাকার কিছু হিন্দু ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের লোকজন গত ১১ নভেম্বর শুক্রবার রাতের অন্ধকারে গির্জা নিমার্ণ করলে শুরু হয় ওই এলাকায় নানা রকমের গুঞ্জন।
এ নিয়ে জমির মালিক সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর মৃত শাকওয়াতের ছোট ছেলে নাবিদ বিন শাকওয়াত ওই দিন বালিয়াডাঙ্গী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পেয়ে থানা পুলিশ কৃষি ফার্মের ঘটনার সত্যতা তদন্ত করেন। অভিযোগে জানা যায়, শ্রী ফাদার বিদ্যা (৪০), শ্রী সুরেশ (৪৫), নরেশ (২৮),শ্রী উলেন (৩৫), শ্রী প্রফুল্ল (৪০) সকলের পিতা মৃত মতোং সিংহ। সাং দোগাছি টলী পাড়া, সকলের থানা বালিয়াডাঙ্গী, ও নজরুল ইসলাম (৪৫) পিতা হাফিজ, সাং চতুরা খোর পাঠানপাড়া,থানা রুহিয়া, অভিযুক্তরা সকলের বাসা অত্রএলাকায়।
এ দের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে বলেন,আমার মরহুম বাবা মেজর অবসর প্রাপ্ত শাকওয়াত আলী গত ১৯৯৮ সালে বালিয়াডাঙ্গী থানার দোগাছি মৌজার সাবেক ফুড কন্টোলার আব্দুর সাত্তার ও সাবেক হাউজ বিল্ডিং ফিন্যান্স কর্পোরেশনের মহা-ব্যবস্থাপক আফরুজা নাহার গুল এবং এলাকার অন্যান্য লোকজনদের থেকে জমি কিনে কৃষি ফার্ম প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে ফাদার বিদ্যা বর্মন (গং) আমাদের কৃষি ফার্মের দাগ নং-৭৬২৯,৭৬৩১,৭৬৬০,এবং ৭৬৬৭ দখল করে নেয়। পরবর্তীতে তারা বালিয়াডাঙ্গী সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন।

মোকদ্দমা নং-৩১৭/২০২১ এ গত ২৫ সেপ্টেম্বর ২২ খ্রি. আদালত কর্তৃক খারিজ হয়ে যায়। যাহা প্রমাণ করেন যে, তাদের জমিতে কোন প্রকার মালিকানা অধিকার নাই। বিবাদীগন মামলায় হেরে যাওয়ার পর নতুন কৌশল হিসেবে তারা আমাদের জমিতে গির্জা ঘর নির্মাণ করে, যাহা জমি দখল করার জন্য ধর্মকে ব্যবহার করে একটি নেককার জনক কুট-কৌশল। এর ফলে এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা বিনষ্ট হতে পারে।
এ ছাড়াও বিবাদীগন বিভিন্ন সময় বর্ণিত জমি লইয়া আমার ম্যানেজারকে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি হুমকি প্রদান করছেন। স্থানীয় বিবাদীগন দাঙ্গাবাজ ও পর সম্পত্তি লোভী। বিবাদীগনের সহিত দীর্ঘদিন হইতে নিম্নে বর্ণিত তফশীল ভুক্ত সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলছে। উক্ত বিবাদীগন আমার ও আমার ভাইয়ের নিন্মে তফশীল ভুক্ত সম্পত্তি জোর পূর্বক দখল করার পয়তারা করছিলেন। গত ১১ নভেম্বর ২২ খ্রি. তারিখ সময় অনুমান রাত্রি ৩ ঘটিকার সময় উক্ত বিবাদীগন হাতে লাঠি শোঠা, দা, কুড়াল ইত্যাদি নিয়ে আমার ও আমার ভাইয়ের নিন্মে তফশীল বর্ণিত সম্পত্তিতে আসিয়া জোর পূর্বক অবৈধ ভাবে ঘর নির্মাণ করিতেছে। উক্ত ঘর নির্মাণ করিতে আমার ম্যানেজার আতিকুর রহমান, তোফাজ্জুল হক বাধা নিষেধ করিতে গেলে উক্ত বিবাদীগন আমার ম্যানেজারকে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। আমার ম্যানেজার যদি নিম্নে তফশীল বর্ণিত সম্পত্তিতে যায়, তাহলে উক্ত বিবাদীগন আমার ম্যানেজারকে প্রাণে মারিয়া ফেলিবে বলিয়া বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মিথ্যা মামলায় ফাসাইয়া দিবে বলিয়া বিভিন্ন প্রকার হুমকি দিচ্ছে।
দখলদার ও গির্জা নিমার্ণকারী শ্রী বিদ্যা বর্মন (ফাদার) জানান, পরিবারের লোকজন আমাদের বংশানুক্রমে টিকা বর্মনের রেকর্ড ভুক্ত জমিতে চাষাবাদ ও গির্জা ঘরটি নির্মাণ করেছি। নজরুল ইসলাম নামে আরএক দখলদার জানান, আমাদের বিরুদ্ধে বালিয়াডাঙ্গী থানায় মিথ্যা অভিযোগ করেছে। উপর উল্লেখিত তফশীল বর্ণিত জমি আমার দাদা কেরামত আলীর নামে রেকর্ড ও দলিল সূত্রে মালিকানা প্রাপ্ত হয়ে উক্ত জমির খাজনাদি পরিষদ করে চাষাবাদ ও ভোগদখল করছি।
এ ব্যাপারে বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি খায়রুল আনাম জানান, উপজেলা চাড়োল ইউনিয়নে দোগাছি এলাকায় অবস্থিত কৃষি ফার্মের মালিক সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর মৃত শাকওয়াত আলীর ছোট ছেলে নাবিদ বিন শাকওয়াত এর পক্ষে ম্যানেজার আতিকুর রহমান, জমি দখল করে গির্জা নিমার্ণ বিষয়ক একটি অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ পেয়ে আমার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনার সত্যতা তদন্ত করেছেন।