admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ৮:২৮ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশে মহামারি করোনাভাইরাসে মৃত্যুর হার বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ। বর্তমানে বাংলাদেশে মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণের হার একটা স্থিতিশীল পর্যায়ে রয়েছে। এই হার বাড়ছে না আবার কমছেও না। গত কয়েকদিন ধরে গড়ে ১৫ হাজারের নিচে নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং শনাক্তের হার ১২-২০ শতাংশের মধ্যে উঠানামা করছে। তবে মৃত্যুর হার আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
মৃত্যুর হার আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। তারা বলছেন, এখন যারা মারা যাচ্ছেন তাদের অধিকাংশই বয়স্ক এবং সবার বয়সই পঞ্চাশের বেশি। আবার এদের অধিকাংশই করোনার পাশাপাশি আগে থেকেই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। তারপরও এই লোকগুলো একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসছেন। মৃত্যুর হার বাড়ার পেছনে এটা অন্যতম কারণ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, গত একদিনের ব্যবধানে দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ৩২ জনেরই বয়স পঞ্চাশের বেশি। আর এখন পর্যন্ত মারা গেছেন মোট ৪ হাজার ৬৬৮ জন। যার মধ্যে সাড়ে ৩ হাজারের বেশি মানুষের বয়স ৫০ এর ওপরে।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, মৃত্যুর হার বেড়ে যাওয়াটা উদ্বেগের। এর কারণগুলো পর্যালোচনা করে দেখা গেছে যে, যারা মারা যাচ্ছেন তারা নানা জটিল রোগে আক্রান্ত বয়স্ক মানুষ। বিশেষ করে ক্যান্সার, ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ, হাঁপানি এ সমস্ত রোগ রয়েছে তাদের। আবার এই লোকগুলো একেবারে শেষ মুহূর্ত না হলে হাসপাতালে আসছেন না। তাদের ক্ষেত্রেই মৃত্যুর হারটা বেশি। কারণ তখন আর চিকিৎসকদের কিছুই করার থাকে না। তখন রোগীদের সব অঙ্গ ফেল করে বসে, যোগ করেন তিনি।
সমস্যাটি থেকে উত্তরণের উপায় হিসেবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি বলছেন, করোনা শনাক্ত হলেই বয়স্করা যেন হাসপাতালে যান, তা নিয়ে মানুষকে সচেতন করার বিষয়ে জোর দিতে হবে। এক্ষেত্রে তাদের উপসর্গ থাকুক বা না থাকুক, অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। তখন চিকিৎসক মনে করলে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে অথবা বাসায় রেখেই সেবা দিতে পারবেন। পুরোটাই যেন চিকিৎসকের সিদ্ধান্তে হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেছেন সংক্রমণের হার স্থিতিশীল পর্যায়ে রয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মাহফুজা রিফাত বলেন, দুটি কারণে দেশের মানুষ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিতে চায়। একটি হলো- মানুষের মধ্যে করোনা নিয়ে ভয় কমে গেছে এবং অন্যটি হলো- চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে আস্থার অভাব। এক্ষেত্রে অধিকাংশ মানুষই ভাবছে, করোনা তাদের কিছু করতে পারবে না। আর এ অবস্থার জন্য দায়ী কর্তৃপক্ষ। কারণ তারা মানুষের কাছে সঠিক বার্তা দিতে পারেনি। ফলে জনগণ আসলে বুঝতে পারছে না যে, করোনা ঝুঁকিটা কোথায় এবং কখন হাসপাতালে সেবা নিতে যেতে হবে, যোগ করেন তিনি।