admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ
শাহজাহান আলী,বগুড়া জেলা প্রতিনিধিঃ হিরো আলমের নিউজ করায় মাতাল অবস্থায় এক যুবলীগ নেতা দুই সাংবাদিকের উপর হামলা করে মারধর করেছেন। এর আগে আরো এক সাংবাদিককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন, হিরো আলমকে নিয়ে টেলিভিশনে লাইভ করায়। এছাড়াও হিরো আলমের সঙ্গে ছবি ফেসবুকে পোস্ট করায় এক চিকিৎসক নেতাকে মারধরের হুমকি দেন এবং আরো এক সাংবাদিককে মারধর করার জন্য খুঁজেছেন ওই যুবগীলের ওই নেতা। যুবলীগের ওই নেতার নাম শফিকুল ইসলাম শিপুল। তিনি বগুড়া জেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি।
১ ফেব্রুয়ারি(বুধবার) রাত সাড়ে ১১টার বগুড়া শহরের টেম্পল রোডে জেলা আওয়ামী লীগ অফিস সংলগ্ন টাউন ক্লাবে এই হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার দুই সাংবাদিক হলেন- বগুড়া সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও কালের কন্ঠের বগুড়া প্রতিনিধি জে এম রউফ এবং দৈনিক বগুড়ার সিনিয়র রিপোর্টার জহুরুল ইসলাম। হামলার শিকার বগুড়া সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জে এম রউফ জানান,তিনি টাউন ক্লাবের অফিস(ক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের কক্ষে) বসে উপনির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী আশরাফুল হোসেন আলম ওরফ হিরো আলমের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে সংবাদ সম্মেলনের নিউজ লিখছিলেন।
সে সময় ওই কক্ষে ছিলেন দৈনিক কালবেলার বগুড়া ব্যুরো প্রধান প্রদীপ মোহন্ত ও দৈনিক বগুড়ার জহুরুল ইসলাম ছাড়াও তার আরো দুই বন্ধু। রাত সাড়ে ১১ টার দিকে যুবলীগ নেতা শিপুল মদ্যপ অবস্থায় সেখানে প্রবেশ করেন।তিনি ( রউফ) সে সময় হিরো আলমের সংবাদ সম্মেলনের ভিডিও তাড পত্রিকার মেইল দিয়েছেন মর্মে মোবাইলে অফিসকে অবহিত করছিলেন।এটা শুনেই ক্ষিপ্ত হয়ে অশালীন ভাষায় গালাগালি শুরু করেন শিপুল। ‘সাংবাদিকরা হিরো আলমকে রাজনীতিক বানাচ্ছে’ এমন অভিযোগ তুলে শিপুল সাংবাদিক রউফের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করেন। সেখানে অন্যরা রউফকে উদ্ধার এবং শিপুলকে ওই অফিস থেকে বের করে দেন। তার ৫ মিনিটের ব্যবধানে শিপুল আবারো সেখানে প্রবেশ করে সাংবাদিক জহুরুলের ওপর চড়াও হয়। তিনি( শিপুল) জহুরুলের ওপর গলায় ফাঁস লাগিয়ে হত্যার চেষ্টা চালান।
সে সময় তাদের চিৎকারে টাউন ক্লাবের কর্মচারিরাসহ বাইরের কয়েকজন লোক গিয়ে শিপুলকে নিবৃত্ত করে। যমুনা টেলিভিশনের বগুড়া ব্যুরো প্রধান মেহেরুল সুজন বলেন,বুধবার রাত ১১টার দিকে সাতমাথায় উপনির্বাচনের ফলাফল নিয়ে লাইভ করছিলেন। এ সময় শিপুল তাকে উদ্দেশ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। সুজন বলেন,শিপুল ও তার কয়েকজন সহকর্মী সেখানে অবস্থান করছিলেন। তারা সকলেই মদ্যপ থাকায় আমার নিজের সম্মান রক্ষার্থে দ্রুত স্হান ত্যাগ করি।
বগুড়া প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি ও নিউজ টোয়েন্টিফোর এর বগুড়া প্রতিনিধি আব্দুস সালাম বাবু বলেন,দুই দিন আগে তাকেও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন শিপুল। কারণ হিসাবে তিনি বলেন,হিরো আলমকে নিয়ে টেলিভিশনে সংবাদ প্রচার করায় শিপুল ক্ষুব্ধ হয়ে এমন আচারণ করেন। স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি ডা,সামির হোসেন শিশু জানান,বুধবার রাত ১১টার দিকে শিপুল শহরের সাতমাথায় আমার পরিচিত জনদের সামনে আমাকে উদ্দেশ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং সাতমাথায় পেলে মারধর করবে বলে বলে বেড়ায়। বগুড়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা বলেন,শিপুল আরো একজন সাংবাদিককে খঁজে বেড়াচ্ছেন মারধর করার জন্য। এদিকে গতকাল রাতে ঘটনার পর থেকে শিপুল আত্মগোপন করেন। পুলিশ রাতেই বিভিন্ন স্হানে অভিযান চালিয়ে তাকে ধরতে পারেনি। বগুড়া জেলা যুবলীগের সভাপতি শুভাশিষ পোদ্দার লিটন বলেন, এটি একটি দুঃখজনক ঘটনা, এ ঘটনার জন্য আমরা লজ্জিত। শিপুলের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্হা গ্রহণ করা হচ্ছে। এদিকে বগুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি,সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দসহ বৃহস্পতিবার দুপুরে বগুড়ার পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করে এ ঘটনাগুলো জানান। পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করে বলেন,শিপুলকে ধরতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।