admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২৬ জুন, ২০২৫ ৫:২১ অপরাহ্ণ
মিরু হাসান,স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসে পরিবার কল্যাণ সহকারীদের (এফডাব্লিউএ) কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদাবাজি ও ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে এখন সরব হচ্ছেন ভুক্তভোগীরা। তারা আদায় করা টাকা ফেরতের পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসের দুইজন অফিস সহকারী টানা ১৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে একই পদে থেকে নানা অজুহাতে পরিবার কল্যাণ সহকারীদের কাছ থেকে ঘুষ আদায় করছেন। চাকরি হারানোর ভয় থাকায় অধিকাংশ সহকারী এতদিন মুখ খুলতে সাহস পাননি।
সম্প্রতি টিএডিএ বিলের নামে প্রতিজনের কাছ থেকে ২,৪০০ থেকে ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে বলে জানা গেছে। উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন এবং বিলুপ্ত সুলতানগঞ্জ ইউনিয়নের প্রায় সব সহকারীর কাছ থেকেই এ অর্থ আদায় করা হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, “আমাদের টিএডিএ বিল কত হবে, সেটা আগে জানানো হয় না। বরং শতকরা ৩০ ভাগ টাকা আগেভাগেই ঘুষ হিসেবে দিয়ে দিতে হয়। কেউ যদি ৩ হাজার টাকা পায়, তাকে আগেই ৯০০ টাকা দিয়ে দিতে বাধ্য করা হয়। এটা প্রকাশ্য চাঁদাবাজি। প্রতিবাদ করলে হয়রানির শিকার হতে হয়।”
তাদের দাবি, অফিস সহকারীদের অনুমতি ছাড়া কোনো কাজ হয় না। ট্রেনিংয়ের টাকা, এরিয়া বিলসহ অন্যান্য খরচেও নিয়মিত অনিয়ম হচ্ছে।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আনিছুর রহমান বলেন, “টাকা নেওয়ার বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।”অন্যদিকে, চোপিনগর ও মাদলা ইউনিয়নের পরিবার কল্যাণ পরিদর্শকরা বলেন, “আমরা কারও কাছ থেকে কোনো টাকা নিইনি।
বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ তাইফুর রহমান জানান, “উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে সতর্ক করা হয়েছে। কেউ টাকা নিয়ে থাকলে তা ফেরত দিতে বলা হয়েছে।”ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে টাকা ফেরত দেওয়া এবং দীর্ঘদিন একই পদে কর্মরত ব্যক্তিদের বদলির দাবি জানিয়েছেন।