admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৬ মে, ২০২১ ১:৪১ অপরাহ্ণ
বকাঠামো নির্মাণ করতে গ্রাম-গঞ্জে বাসা-বাড়ি করতে লাগবে অনুমতি। দেশের গ্রাম-গঞ্জে বাসা-বাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, দোকান-পাট, মসজিদ-মাদ্রাসা, ক্লাব কিংবা অফিস-আদালতসহ অন্য যেকোনো অবকাঠামো নির্মাণ করতে একটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে। আর এক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদকে (ইউপি) দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। রাজধানীর মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবন থেকে মেয়র সংলাপ: নিরাপদ, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর শীর্ষ ভার্চুয়াল সভায় যুক্ত হয়ে আজ বুধবার এ কথা জানান মন্ত্রী। ভার্চুয়াল সভার আয়োজন করে সেভ দ্য চিলড্রেন ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, আমার গ্রাম আমার শহর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দর্শন। আর এই দর্শনের ফলে সরকারের শহর কেন্দ্রীক সকল সুযোগ-সুবিধা প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলেও পৌঁছে যাচ্ছে। তাই গ্রামকে এখন থেকেই পরিকল্পিত ভাবে গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, এখন থেকে কেউ যদি গ্রাম-গঞ্জে বাসা-বাড়ি, দোকান-পাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লাব, মসজিদ-মাদ্রাসা, কিংবা অফিস-আদালতসহ অন্য কোনো অবকাঠামো নির্মাণ করতে চায়, সেক্ষেত্রে একটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অবশ্যই অনুমতি নিতে হবে। ইউনিয়ন পরিষদকেই এক্ষেত্রে দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। মন্ত্রী আরো বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে, সেটা ভিন্ন বিষয়। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যদি নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তাহলে গ্রামে অপরিকল্পিতভাবে অবকাঠামো নির্মাণ করা ঠেকানো সম্ভব হবে না।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদকে ক্ষমতায়ন করার পর তারা যেন ক্ষমতার অপব্যবহার করতে না পারে সেজন্য এর সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে উপজেলা পরিষদকে। আর ক্ষমতার অপব্যবহার কেউ যদি করে ফেলে সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। অনুমতি ছাড়া কোনো অবস্থাতেই কৃষি জমিতে বাড়ি-ঘর কিংবা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান বা স্থাপনা নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না। এদিকে, রাজধানীতে জোনভিত্তিক বিদ্যুৎ, পানি এবং গ্যাসসহ অন্যান্য ইউটিলিটি সার্ভিসের বিল নির্ধারণের ওপর আবারো গুরুত্বারোপ করেন এলজিআরডি মন্ত্রী। তিনি বলেন, গুলশান, বনানী কিংবা বারিধারা এলাকার মতো ইউটিলিটি বিল যাত্রাবাড়ী কিংবা স্বল্প আয়ের মানুষ বসবাসরত এলাকায় হতে পারে না। সেটা নির্ধারণ করা ন্যায়সঙ্গতও হবে না।
এ সময় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সকল সিটি করপোরেশনের মেয়রদের সকল বড় বড় শহরের আওতাধীন খালগুলো (ঢাকা শহরের ৩৯টি খালসহ) অবৈধ দখলমুক্ত করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট চালু করে সৌন্দর্যবর্ধন ও নাগরিক বান্ধব করার পরামর্শ দেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সাধারণ সম্পাদক ড. আদিল মোহাম্মদ খান। ঢাকা উত্তর সিটি, খুলনা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর এবং ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের মেয়ররা সংলাপে অংশ নেন।