admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১১ আগস্ট, ২০২০ ৭:০২ পূর্বাহ্ণ
পদ্মা সেতু বাংলাদেশের পদ্মা নদীর উপর নির্মাণাধীন একটি বহুমুখী সড়ক ও রেল সেতু। এর মাধ্যমে লৌহজং, মুন্সিগঞ্জের সাথে শরিয়তপুর ও মাদারীপুর যুক্ত হবে, ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের সাথে উত্তর-পূর্ব অংশের সংযোগ ঘটবে। বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশের জন্য পদ্মা সেতু হতে যাচ্ছে এর ইতিহাসের একটি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জিং নির্মাণ প্রকল্প। দুই স্তর বিশিষ্ট ষ্টিল ও কংক্রিট নির্মিত ট্রাস ব্রিজটির (truss bridge) ওপরের স্তরে থাকবে চার লেনের সড়ক পথ এবং নিচের স্তরটিতে থাকবে একটি একক রেলপথ। পদ্মা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা নদীর আববাহিকায় ১৫০মিটার দৈর্ঘ্যর ৪১টি স্পান বসবে, ৬.১৫০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এবং ১৮.১০ মিটার প্রস্থ পরিকল্পনায় নির্মিত হচ্ছে দেশটির সবচেয়ে বড় সেতু।সরকারের পরিকল্পনামাফিক ২০২০ সালের শেষের দিকে এটি যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার কথা ।
প্রকল্পটি তিনটি জেলাকে অন্তর্ভুক্ত করবে- মুন্সীগঞ্জ (মাওয়া পয়েন্ট/উত্তর পাড়), শরীয়তপুর এবং মাদারীপুর (জঞ্জিরা/দক্ষিণ পাড়)। এটির জন্য প্রয়োজনীয় এবং অধিগ্রহণ কৃত মোট জমির পরিমাণ ৯১৮ হেক্টর। নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি ভাড়ার ভিত্তিতে আগামী ছয় বছরে অধিযাচন করা হবে। পদ্মা সেতুর দুপাশে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। নদী গতিপথ পরিবর্তন করে ভিতরে ঢুকে পড়ছে। সেতুর ১ কি.মি. পূর্বে কুমারভোগে কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড এবং পশ্চিমে পুরাতন ফেরীঘাট এলাকায় গত কয়েক বছরে দুদফা ব্যাপক ভাঙন দেখা দেয়। মূল সেতুর দুই পাশে এ ভাঙন পদ্মা সেতুর জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে
২০১৫ সালে ভাঙনে তিনটি জেটিসহ কোটি টাকার সম্পদ নদীগর্ভে বিলীন হয়। নদী তার গতিপথ পরিবর্তন করে প্রায় ৫০ মিটার ভিতরে ঢুকে পড়ে। এ বছর আবারো সেখানে তীব্র ভাঙন দেখা দেয়। এতে পদ্মা সেতুর এবং রেল পথের রোড স্ল্যাব, গার্ডার ক্রেনসহ বিপুল অঙ্কের সম্পদ নদীগর্ভে বিলীন হয়। একি অবস্থা মাওয়ায় পুরাতন ফেরী ঘাট এলাকাতেও।
ইতোপূর্বে হঠাৎ তীব্র ভাঙনে ফেরীঘাট, দোকানসহ বিস্তৃর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়। সম্প্রতি নদী শাসন করতে গভীরতা ৭০ ফুট বৃদ্ধি করার পর চলতি বর্ষা মৌসুমে সেখানে আবারো ব্যাপক ভাঙন দেখা দেয়। এতে কান্দিপাড়ার পশ্চিমে নদী কয়েকশত ফুট ভিতরে ঢুকে পড়েছে। যে কোন সময় নদীর সোজা পথে প্রবাহিত হয়ে পুরাতন ফেরীঘাটসহ বিস্তৃত এলাকা গ্রাস করতে পারে। হুমকির মধ্যে পরতে পারে মূল সেতু এলাকা।
পদ্মার ভাঙনের চরিত্র বোঝা দায়। ফলে মাওয়া এলাকায় সেতুর পাইলিংয়ের নকশায় পরিবর্তন আনতে হয়। কোন এক স্থানে হঠাৎ ঘূর্ণিপাকে ১৫/২০ ফুট নিচের মাটি সরে গিয়ে কয়েক কি. মি. এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ইতোপূর্বে পদ্মার করাল থাবায় কয়েকদিনে লৌহজেং দিঘলীবাজার থেকে ঘোড় দৌড় বাজার পর্যন্ত কয়েক কি. মি. এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়।