সোহরাব আলী,তেঁতুলিয়া পঞ্চগড় প্রতিনিধি || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৩০ জুন, ২০২৬ ৩:০০ পূর্বাহ্ণ
পঞ্চগড়-১ আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য নাঈমুজ্জামান ভূঁইয়া মুক্তার স্ত্রী কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য অব. মেজর কাজী মৌসুমী ও জেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি এবং সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান নিলুফার ইয়াসমিনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পঞ্চগড়ে নাশকতা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য নাঈমুজ্জামান ভূঁইয়া মুক্তার স্ত্রীকে কারাগারে নেয়া হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত পঞ্চগড়ে নাশকতা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য নাঈমুজ্জামান ভূঁইয়া মুক্তার স্ত্রীকে কারাগারে নেয়া হচ্ছে। জানা গেছে পঞ্চগড়ে আওয়ামী লীগের ৭৬ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন, নাশকতা চেষ্টা ও সরকার উৎখাতের চেষ্টার মামলায় সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন তিনি। এ সময় বিচারক মাহবুব আলী মুয়াদ তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এ সময় শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অংশগ্রহণ করেন। এর আগে, সরকার কর্তৃক দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণার পরও গোপনে সংগঠিত হয়ে পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমের অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ২০২৫ সালের ২৬ জুন ৪৭ জনের নাম দিয়ে অজ্ঞাত ১১০-১২০ জনকে বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন পঞ্চগড় সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মানিক মিয়া।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ১২ মে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনসমূহের সব ধরনের দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এরপরও ২৬ জুন পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের মিলন বাজার এলাকায় দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন, সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নাইমুজ্জামান ভূঁইয়া মুক্তার ধাক্কামারা ইউনিয়নের কাজীপাড়ার খামারবাড়িতে দলীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন চলছে।
পুলিশের তথ্যমতে, ওই বাসায় যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কাজী মৌসুমীর নেতৃত্বে প্রায় ১১০-১২০ জন নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। সেখানে ৭৬ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটা, ‘জয় বাংলা’ ও ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ শ্লোগান, খাবার বিতরণ এবং নগদ টাকা প্রদান করা হয়। নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন বক্তব্যের মাধ্যমে দলীয় কর্মীদের উস্কে দেন ও উৎসাহ দেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা দলীয় কার্যক্রমের পাশাপাশি সরকার উৎখাত, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা, সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছিলেন। এমনকি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানটি ভিডিও ধারণ করে ‘আওয়ামীলীগ নিউজ বিডি’ নামক একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পেইজে প্রচার করা হয়, যা জনমনে বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে।
তবে মামলার কোনো প্রমাণ না থাকলেও জামিন যোগ্য আসামিকে জামিন দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ আসামি পক্ষের আইনজীবী মির্জা সারোয়ার হোসেনের। তবে আদালত ন্যায় বিচার করেছেন বলে দাবি করেছেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি মির্জা নাজমুল ইসলাম কাজল।