হোম
নাগরিক ভাবনা

নাগরিক ভাবনা: মরণফাঁদে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবীরা: কত হাজার প্রাণহানি দেখার অপেক্ষায় সুপ্রিম কোর্টের নেতৃবৃন্দ?

অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ,ঢাকা || মুক্ত কলম সংবাদ

প্রকাশিত: ২৫ জুলাই, ২০২৬ ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ

ফাইল ছবি

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির মূল ভবনটি আজ আর শুধু একটি পুরোনো ভবন নয় – এটি যেন প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া একটি সম্ভাব্য মরণফাঁদ। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই ভয়াবহ ঝুঁকির কথা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অজানা নয়। প্রায় এক দশক আগেই গণপূর্ত অধিদপ্তর সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির মূল ভবনটি ব্যবহারের সম্পূর্ণ অনুপযোগী।

কিন্তু প্রশ্ন হলো – ব্যবহারের অনুপযোগী ঘোষিত একটি ভবন আজও কীভাবে প্রতিদিন হাজার হাজার আইনজীবী, আইনজীবী-সহকারী, বিচারপ্রার্থী ও সাধারণ মানুষকে ধারণ করছে? দশ বছর আগে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সদস্যসংখ্যা কম-বেশি পাঁচ হাজার ছিল। বর্তমানে সেই সংখ্যা ১৭ হাজার ছাড়িয়েছে। অথচ এত বিপুলসংখ্যক আইনজীবীর জন্য পর্যাপ্ত বসার জায়গা নেই, নেই প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, নেই নিরাপদ কর্মপরিবেশ। বর্তমানে মাত্র আনুমানিক দুই হাজার আইনজীবীর বসার ব্যবস্থা রয়েছে; অবশিষ্ট প্রায় ১৫ হাজার আইনজীবীর জন্য কার্যত কোনো যথাযথ বসার ব্যবস্থাই নেই। অথচ এই ভয়াবহ সংকট নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে যেন কোনো মাথাব্যথাই নেই!

আরও বিস্ময়কর ও দুঃখজনক বিষয় হলো—যে ভবনকে প্রায় এক দশক আগে ব্যবহারের অনুপযোগী ঘোষণা করা হয়েছিল, সেই পুরোনো ভবনের শোভা বর্ধনে মাত্র চার বছর আগে প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এটি শুধু অর্থের অপচয় নয়; এটি ছিল ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাহীনতা, দায়িত্বহীনতা এবং চরম অবিবেচনার এক জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত। এই বিপুল অর্থ দিয়ে নতুন ভবন নির্মাণের প্রাথমিক কাজ, নকশা, পরিকল্পনা কিংবা অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করা যেত।
এর চেয়েও ভয়াবহ হলো, ব্যবহারের অনুপযোগী ঘোষিত মূল ভবনের ওপর চারতলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। একটি দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ কাঠামোর ওপর অতিরিক্ত ভার চাপিয়ে দেওয়া কি কোনোভাবেই নিরাপদ ও দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত হতে পারে?
এটি কেবল একটি ভবন নয় – এটি একটি ভয়াবহ বিপর্যয়ের সম্ভাব্য কেন্দ্র। কোনো একদিন যদি এই ভবনে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে একসঙ্গে কয়েক হাজার আইনজীবী, আইনজীবী-সহকারী ও বিচারপ্রার্থী মানুষের জীবন বিপন্ন হতে পারে। সেই দুর্ঘটনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের ভয়াবহ ট্র্যাজেডিকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে – এমন আশঙ্কা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

তবুও কেন কারও টনক নড়ছে না?
প্রধান বিচারপতি, বিচারপতিগণ, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিষদের কর্মকর্তাগণ এবং সিনিয়র আইনজীবীদের বড় একটি অংশ – সবার চোখের সামনে এই বিপজ্জনক পরিস্থিতি বছরের পর বছর ধরে চলছে। কিন্তু কার্যকর কোনো স্থায়ী সমাধান নেই। মনে হচ্ছে, একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা না ঘটা পর্যন্ত কেউ এই সংকটকে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে প্রস্তুত নন।

প্রশ্ন হলো – কোনো দুর্ঘটনায় শত শত বা হাজার হাজার মানুষের জীবনহানি ঘটার পর তদন্ত কমিটি গঠন করে দায় নির্ধারণ করার জন্যই কি আমরা অপেক্ষা করছি? তখন কি বলা হবে, “আমরা জানতাম ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ, কিন্তু ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি”?

যদি সরকারকে বারবার অবহিত করার পরও কোনো কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হয়, তাহলে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নেতৃত্বকে কঠোর ও চূড়ান্ত অবস্থান নিতে হবে। সরকারকে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নতুন, নিরাপদ ও আধুনিক ভবন নির্মাণের কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য চূড়ান্ত আলটিমেটাম দেওয়া যেতে পারে। তাতেও যদি কাজ না হয়, তাহলে আইনজীবীদের ঐক্যবদ্ধভাবে সুপ্রিম কোর্ট বর্জনের মতো কঠোর কর্মসূচি বিবেচনা করা ছাড়া আর কোনো পথ থাকবে কি?

বাস্তবতা হলো, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নিজস্ব তহবিলে আড়াইশো কোটি টাকারও বেশি ফিক্সড ডিপোজিট থাকা সত্বেও সেই অর্থের একটি অংশ ব্যবহার করে একটি আধুনিক, নিরাপদ ও বহুতল ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া অসম্ভব নয়। বরং সঠিক পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা ও দৃঢ় নেতৃত্ব থাকলে ৩০ তলা একটি আধুনিক ভবন নির্মাণও কোনো কল্পনাতীত বিষয় নয়।

প্রথমে একটি আন্তর্জাতিক মানের স্থাপত্য পরিকল্পনা ও নকশা প্রণয়নের জন্য প্রয়োজনীয় স্থান বরাদ্দের নোটিশ দেওয়া যেতে পারে। সাধারণ আইনজীবীদের মতামত নেওয়া যেতে পারে। স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় প্রকল্প গ্রহণ করা যেতে পারে। প্রয়োজন হলে আইনজীবীদের স্বেচ্ছা অনুদান, সদস্যদের নির্দিষ্ট অবদান এবং সমিতির নিজস্ব তহবিল – সবকিছুর সমন্বয়ে একটি স্থায়ী ও যুগোপযোগী ভবন নির্মাণ করা সম্ভব।

কিন্তু দুঃখজনক সত্য হলো – সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিরা সাধারণ আইনজীবীদের প্রকৃত কল্যাণ ও দীর্ঘমেয়াদি সুযোগ-সুবিধার কথা কতটা আন্তরিকভাবে ভাবেন, সেটিই আজ বড় প্রশ্ন?

বাংলাদেশের সেনাবাহিনী, বিসিএস ক্যাডার সার্ভিস, বিভিন্ন সরকারি মন্ত্রণালয়, ব্যাংক ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মজীবনে এবং অবসরজীবনে জমি, বাড়ি, অর্থনৈতিক সুবিধা, পেনশনসহ নানা সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। কিন্তু একজন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সারাজীবন আইন পেশায় যুক্ত থাকার পর শেষ জীবনে কী পান?
সত্যি বলতে কী, যারা আর্থিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হন, তাদের সংখ্যা হয়তো মোট আইনজীবীদের দুই শতাংশেরও কম। বাকি ৯৮ শতাংশ আইনজীবী সারা জীবন সংগ্রাম করেন। তাদের অনেকেই বার্ধক্যে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় ভোগেন। অসুস্থ হলে চিকিৎসার নিশ্চয়তা থাকে না। অবসরের পর নিয়মিত আয়ের কোনো ব্যবস্থা থাকে না। পরিবারের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা অনিশ্চিত থাকে। এই ৯৮ শতাংশ আইনজীবীর কথা কি কখনো গভীরভাবে ভাবা হয়েছে?

লোক দেখানো বক্তব্যে আইনজীবীদের কল্যাণের কথা বলা হয়। সভা-সমাবেশে নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তবে সাধারণ আইনজীবীদের জীবনমান উন্নয়ন, আবাসন, চিকিৎসা, অবসরকালীন নিরাপত্তা, সন্তানের শিক্ষা এবং সামাজিক সুরক্ষার জন্য দীর্ঘমেয়াদি কোনো কার্যকর পরিকল্পনা কোথায়?
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি শুধু একটি পেশাজীবী সংগঠন নয়; এটি বাংলাদেশের আইনজীবী সমাজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। অথচ সেই প্রতিষ্ঠানের মূল ভবন আজ ব্যবহারের অনুপযো

ফেসবুক মন্তব্য

মতামত জানান :

সর্বশেষ খবর

নাগরিক ভাবনা: মরণফাঁদে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবীরা: কত হাজার প্রাণহানি
নাগরিক ভাবনা 60 minutes আগে

পঞ্চগড়ে বাবাকে হত্যা চেষ্টা ছেলে কারাগারে।
আইন-বিচার 3 hours আগে

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে এনসিপির নতুন সদস্যের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান।
রংপুর 3 hours আগে

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে লটারি জুয়া বন্ধের দাবীতে বিক্ষোভ সমাবেশ।
আইন-বিচার 3 hours আগে

ঠাকুরগাঁও শিবগঞ্জ, রাণীশংকৈল,হরিপুর ঐতিহ্যবাহী বাঁশ শিল্প বিলুপ্তির পথে।
রংপুর 21 hours আগে

সুনামগঞ্জে খেয়া পারাপার বন্ধ চরম দুর্ভোগে লাখো মানুষ ও পর্যটকদের।
জনদুর্ভোগ 1 day আগে

পঞ্চগড়ের শালবাহান বাজারে ঘরের চালের টিন কেটে মোবাইল এর দোকানে
দুর্ঘটনা 2 days আগে

দিনাজপুরের বীরগঞ্জের শতগ্রাম ইউনিয়ন বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম মুক্ত ঘোষণা।
রংপুর 2 days আগে

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে মাদক সেবনের অপরাধে তিনজনের কারান্ড ও অর্থ জরিমানা।
অপরাধ 2 days আগে

সুনামগঞ্জে অবৈধ পাড় কাটা বন্ধে মাঠে প্রশাসন, ঝুঁকিতে শিমুল বাগানসহ
সারা বাংলা 2 days আগে

পাঠকপ্রিয়

শিরোনাম :

কুড়িগ্রামে ঐতিহাসিক আসনে কঠিন চ্যালেঞ্জে জাপা,মাঠ গরম এনসিপি-বিএনপির। হাদীর ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় দিনাজপুর সীমান্ত ৪২ বিজিবির রেড অ্যালার্ট জারি। রোহিঙ্গা মেয়েরা পাচার ছাড়াও বিদেশীদের দ্বারা যৌন কাজে ব্যবহারের টার্গেট হয়ে উঠছে ঠাকুরগাঁওয়ে নানা কর্মসূচিতে হানাদার মুক্ত দিবস উদযাপিত। ঠাকুরগাঁও জেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ৪র্থ জেলা রোভার মুট-২০২৫। কুড়িগ্রামের রাজারহাটে প্রাণিসম্পদ সপ্তাহের প্রদর্শনী ও সমাপনী অনুষ্ঠিত। পার্বতীপুরে জাতীয় প্রাণি সম্পদ ও ডেইরি প্রকল্পের উদ্বোধন। রাণীশংকৈলে জাতীয় প্রাণীসম্পদ সপ্তাহ ও প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত পলাতক শেখ হাসিনার অগ্রণী ব্যাংকের লকার ভেঙে ৮৩২ ভরি স্বর্ণ জব্দ রাজশাহীতে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১০ জন ৩ ডিসেম্বর রংপুরে বিভাগীয় মহাসমাবেশ সফল করতে দিনাজপুরে ৮ ইসলামী দলের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত। দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে সব বাহিনী প্রস্তুত: সিইসি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৬ হাজার কৃষক পাচ্ছে বিনামূল্যে গম বীজ ও সার। মাত্র চার মাসের শিশু সুমাইয়া বাঁচতে চায়! পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় হেফাজতে ইসলামের নতুন কমিটি গঠন। ভূমিকম্পে সম্ভাব্য ক্ষতি কমাতে এখনই শক্তিশালী ও সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে: সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান রাজধানীতে  আজ থেকে ঘরে বসেই মেট্রোরেলের কার্ড রিচার্জ করবেন? নীলফামারীতে পাটবীজ উৎপাদনকারী চাষীদের প্রশিক্ষণ। আর কোনো পরিস্থিতি নেই যে নির্বাচন ব্যাহত হবে-ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল  ৫-বছরেও শেষ হয়নি ওয়াশব্লকের নির্মাণ কাজ-জনস্বাস্থ্য অফিস বলছেন বাদ দেন চা খাওয়ার জন্য কিছু নেন। পার্বতীপুরে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকারের দাবীতে কর্মী সভা। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় নদী বাঁচাও আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নাগরিক সমাবেশ। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ইউএনও এক গৃহহীন ভারসাম্যহীন নারীর পাশে দাঁড়ালো। ৮ দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর নার্সিং এসোসিয়েশন দিনাজপুর জেলা শাখার স্মারকলিপি ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে ইউনিয়ন সিএসওর লাইভস্টক সংলাপ সভা অনুষ্ঠিত বগুড়ায় প্রেম করে বিয়ে অতপর ভাড়া বাসায় স্ত্রীকে হত্যা করল স্বামী। দিনাজপুরে ৩ দিনব্যাপী উদ্যোক্তা মেলা ও পিঠা উৎসবের সমাপনী। দিনাজপুরের বিরলে শতাধিক নেতা-কর্মীর মামলা থেকে বাঁচতে ফ্যাসিস্ট আ,লীগ থেকে পদত্যাগ! অভিযোগ দিয়ে ও কাজ বন্ধ হচ্ছে না আদমদিঘীতে সরকারি জায়গা দখল করে করা হচ্ছে অবকাঠামো নির্মাণ! বগুড়ার কইপাড়ায় নববধূ শম্পা হত্যার অভিযোগ, যৌতুক দাবির জেরে স্বামী আটক