admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ
নাগরিক ভাবনা: অ্যাডভোকেট আবু মহী উদ্দীনঃ বাংলাদেশ রেলওয়েকে একসময় ডোবানো হয়েছিল। সেই রেলকে জাতে তুলতে সরকারের চেষ্টার কোন ত্রুটি নেই। রেলের জন্য অনেক কিছু করা হচ্ছে,আরো করতে হবে। রেলওয়ে দেশের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য কাজ করেছে। তবে চাটার দল, চোর বাটপার সবই তো আমাদের সম্পদ। চুরি চামারী করা এটাও একটা শিল্পে পরিণত হয়েছে। কোন শিল্প কারখানা যেমন একজনে চলেনা তেমনি, চুরি চামারী যেহেতেু শিল্পে পরিণত হয়েছে সে কারণে এটাও একক ভাবে চলেনা। এটা একটা টিম গেম। যারা প্রজেক্ট করে, এষ্টিমেট করে,অনুমোদন করে, টেন্ডার দেয় ,টেন্ডার অনুমোদন করে, ওয়ার্ক অর্ডার দেয়, টেন্ডার বিশ্লেষন করে, মাপ জোঁক করে, কাজের সময় বাড়ায়, কাজের মান নির্ধারণ করে,বিল করে, বিল পাশ করে, চেক লেখে , খরচ করে, তাদের মধ্যে একটা চেন অব কমান্ড এবং ফ্রেন্ডলি রিলেশন কাজ করে। এদের সঙ্গে সাংবাদিক নামে ভিন্নজগতের কিছু কুশীলব কখনো সখোনো যোগহয়। ফলে এদের কোন সংবাদ প্রকাশ হয়না। সাংবাদিকরা এবং তদন্তকারীরা সবাই নৈতিকভাবে শক্ত হলে অনেক দুর্দশাই লাঘব হতো। আমরা যারা যাত্রী তারাও অনেক কষ্টের কারন হচ্ছি। আমরা সীট কাটি, হাতলে বসি, বিনা টিকিটে জার্নি করি, টিকিট কেটে ট্রেনে উঠলে কেন টিটিই একবারও আমাকে জিজ্ঞাসা করলোনা টিকিটের কথা মর্মে অভিযোগ করি, পার্টস খুলে নেওয়ার চেষ্টা করি। টিকিট কেটে না উঠলে টিটি একটু শক্ত ভুমিকা নিলে টিকিট কাটি। এতে সামগ্রিকভাবে সবাই ক্ষতিগ্রস্থ হই। তখন রেলের কর্মচারিরা যাত্রীদের উপর দোষ চাপিয়ে নিজেরা অপকর্ম চালিয়ে যায়।
রেলের অত্যাধুনিক বগিগুলো উচ্চ মুল্যে দেশের সাধারণ মানুষের কষ্টে অর্জিত টাকায় বিদেশ থেকে উচ্চ সুদে বাঁকীতে আনা হয়। এসব রক্ষণাবেক্ষনে আমরা যতটা যত্নশীল হবো তত বেশী টিকবে। আর যত্ন না নিলে আমাদেরই ক্ষতি। ভাড়া বাড়বে, লোন চাপবে সকলের উপর। অকাম করবে কয়েকজন আর তার দায় বহণ করতে হবে সকল যাত্রীকে। সম্পদ রক্ষায় সবাইকে দ্বায়িত্ববান হওয়ার বিকল্প কি আছে? কাজগুলো যে একেবারে গোপনে হয় তা নয়। কেউ না কেউ দেখে কিন্তু কেউ কিছু বলেনা। আপনার পক্ষে যতটা সম্ভব ততটাই প্রতিবাদ করুন, প্রতিরোধ গড়–ন। সবাই উপকার পাবো।
ভাবুনতো আপনার বাড়ীতে যে টয়লেট আছে সে দরজা লাগানোও যায়না আবার সিটকানীও নাই। আত্মীয় স্বজন বেড়াতে এলে আপনার সম্পর্কে কি ধারণা নিয়ে যাবে? যেহেতু দেশে রেলগাড়ী আছে সেটাকে প্রোটেকশন দেওয়ার দ্বায়িত্ব রেলওয়েকে বিবেচনা করতে হবে আর তা যৌথভাবে রেল কর্মচারী সহ যাত্রীদেরও। রেলওয়ের কোচগুলোতে কি চমৎকার টয়লেট ব্যবস্থা আছে। এসব যাত্রীদের জন্য। এই টয়লেটের দরজার সিটকানিগুলোর অবস্থা যদি বিবেচনা করা যায়, তাহলে বিদেশীরা আমাদেরকে টয়লেটের সিটকানী চোর জাতি হিসাবে বিবেচিত করতে দ্বিধা করবেনা। রেলের উচিত বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে বিদেশে থেকে রেল কোচ অর্ডার দেওয়ার সময় বিশেষ করে বাথরুমের দরজাগুলো একেবারে সলিড ষ্টিলের অর্ডার দেওয়া। বিরোধী দলও শুধু দূর্ণীতি হয়েছে বলে চিৎকার না করে তাদেরও এই ক্ষতি ঠেকানোর জন্য এগিয়ে আসা দরকার। তাদের জন্য সুসময় হলে তাদেরকেও তো রেল চালাতে হবে। সে সময়ও কিন্তু এই সমস্যা থাকতে পারে।
