হোম
নাগরিক ভাবনা

নাগরিক ভাবনাঃ হরতাল অবরোধ এখন হাইবারনেশনে

admin || মুক্ত কলম সংবাদ

প্রকাশিত: ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৩ ২:৪৫ অপরাহ্ণ

ফাইল ছবি

নাগরিক ভাবনাঃ অ্যাডভোকেট আবু মহীউদ্দিনঃ মানবসভ্যতা দ্রæত অগ্রসরমান। বরফ যুগ, পুরাতন পাথরের যুগ, নুতন পাথরের যুগ, সামন্ত যুগ ইত্যাদি পার হয়ে এসেছে। যুগের পরিবর্তন মানে সভ্যতার ক্রম বিকাশ। মানব সভ্যতার এই সব ক্রমবিকাশ অনুভব করলে সত্যিই অবাক লাগে। মানুষ জীবন জীবিকার তাগিদে প্রথমে শিকার , পরে পশুপালন , কৃষিকাজ করেছে। এ সবই করেছে তাদের অস্তিত্বের প্রয়োজনে। এর পর এসেছে নগর জীবন, নগর সভ্যতা সংহত করার জন্য এসেছে রাজনীতি। রাজনীতির পর্যায়ক্রমিক আধুনিকায়ন হয়েছে।

রাজনীতিতে সব কিছুই সাধারণ মানুষের কল্যানে আবিস্কার হলেও সব সময়ই ২টি শ্রেনী রয়েছে , শাসক এবং শাসিত। সাধারণ মানুষের কল্যাণের কথাা বললেও অধিকাংশ সময়ই রাজনীতিতে সুবিধা ভোগ করেছেন শাসক শ্রেনী। এর পর এসেছে ভিন্নমত। ভিন্নমতকে একোমোডেট করার জন্য চালু হয়েছে গণতন্ত্র। এসেছে মত প্রকাশের স্বাধীনতা। মত প্রকাশের এই স্বাধীনতা সব সময়ই সুবিধা পেয়েছে এমন নয়। গণতন্ত্র মানে সবার মতের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া বা কার্যকর করার কথা বলা হলেও মোটেও তা ঠিক নয়। গনতন্ত্র অধিকাংশের মতামত কখনো কখনো। তবে বর্তমান ব্যবস্থায় গণতন্ত্র কখনো কখনো সংখ্যা লঘুর মতামত চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে সংখ্যাগরিষ্ঠের উপরে। গনতান্ত্রিক ব্যবস্থার সর্বশেষ অনুশীলন নির্বাচন। নির্বাচনে নির্বাচকরা তাদের মতামতের প্রতিফলন ঘটাতে পারে।

গণতান্ত্রিক পন্থায় নির্বাচনে সব সময়ই যে জনমতের প্রতিফলন ঘটতে পারে এমন নয়। পাকিস্তান আমলের স্থানীয় নির্বাচন দেখেছি। সে সময় প্রার্থীদের আলাদা আলাদা বাক্স ছিল। ভোটাররা পছন্দের প্রার্থীর বাক্সে কাগজ ফেলে ভোট দিত। যার বাক্সে যত বেশী কাগজ পড়বে তিনি জয়ী হবেন। এই পদ্ধতির বিশেষ সমালোচনা শুনেছি। তবে প্রত্যক্ষভাবে অনুভব করেছি যখন কিনা হাঁ না ভোট হয়েছিল তখন। সে ভোটে না ভোট ফেলার বাক্সই ছিলনা। এসব করেছে কর্মীরা। তবে কর্মীরাতো নিজেরা বিষয়টি আবিস্কার করেনি। ওটাতো উর্ধতন নের্তৃত্বের সিদ্ধান্তের প্রতিফলন। এর পর পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে সিল মারার ভোট দেখেছি। রাজনৈতিক কর্মীরা বাড়ী বাড়ী ঘুরে সে সময় ভোটারদের সিল মারার পদ্ধতির প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। পদ্ধতির সাথে পরিচিত করাতে এই কাজটা বেশী করেছেন আওয়ামী লীগের কর্মীরা। শাসক গোষ্ঠীর সকল অনুমান মিথ্যা করে দিয়ে সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলেই তো আমাদের স্বাধীনতা। এর পর সীলমারার নুতন সংস্করণ আবিস্কার হয়েছে। কেউ কেউ অনেক সিল মারেন। কখনো আবার ব্যালট বাক্সই ছিনতাই চর্চা শুরু হয়েছিল। তারও পরের সংস্করণ ভোটারদের কেন্দ্রে না গেলেও চলে। ভোটের সর্বশেষ সংস্করণ ইভিএম। এই ইভিএম টেকনোলজিতে ভোট চুরি , ছিনতাই , গণনা, কারচুপি এসবের উপায় নাই। তারপরেও এই ইভিএম পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক প্রচুর। আপাত:দৃষ্টিতে অত্যাধুনিক এবং নির্ভরযোগ্য ইভিএম। কিন্তু ইভিএম নিয়েও বিতর্ক কম হচ্ছেনা। ইভিএমের মাধ্যমে ফলাফল নিজেদের অনুকুলে নেওয়ার অভিযোগ প্রবল। ছবি সহ ভোটার তালিকা রয়েছে ফলে কারো ভোট অন্য কারো দেওয়া সম্ভব নয়।

বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করেছে ভোট যেখানেই দেওয়া হোক , একই মার্কায় পড়বে। যদি এরকম করা যেতো ‘ যিনি প্রকৃত ভোটার , এভিএম এ তার ছবি ভেসে উঠবে এবং তার আঙ্গুল ছাড়া আর কোন আঙ্গুলের ছাপ প্রিন্ট হবেনা’ । টেকনোলজিতে আমরা যতদুর এসেছি , এটা করা অসম্ভব তাতো নয়। হয়তো এমন সময় আসবে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে হবেনা। এমনতো হতে পারে অনলাইন ভোট হবে। এসব নির্ভর করবে, নির্বাচন পরিচালনা পদ্ধতি নিয়ে যারা গবেষণা করেন তাদেরর ইনোভেশনের উপর। বাংলাদেশ এখন ডিজিটালতো বটেই, এখন স্মার্ট হওয়ার রোডে। বাংলাদেশ যে স্মার্ট হবেই সে বিষয়ে আগাম নিশ্চিত ধারণা করা যায়। সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ করতে গিয়ে যে সমস্ত যুগান্তকারী কাজ করেছে , যার ফলে বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা উন্নত বিশে^র সাথে তাল মেলানোর মতো।

সমাজে সবাই একই দলের রাজনীতি করবে বা সমর্থন করবে তাতো কখনোই হয়নি এবং হবেনা। এভাবেই সৃষ্টি হয়েছে বহুদলীয় গণতন্ত্রের। তবে গণতন্ত্রই যে শ্রেষ্ঠ পদ্ধতি তা দাবী করা যাবেনা। কেননা যে তন্ত্রই হোক জনসাধারণের ভালো চাইলে স্বৈরতন্ত্রও খারাপ না। তবে আপাতত: প্রমান হয়েছে গণতন্ত্রই এখনকার সেরা তন্ত্র। গণতন্ত্রে সবাই তাদের মতামত দেয়ার সুযোগ থাকে। শাসক দলের ভুল পদক্ষেপের সমালোচনা করা যায়। মতামতের পক্ষে জনমত সংগ্রহ করা যায়। শাসক দলও তাদের সংশোধনের সুযোগ পায়। এতে জনগণ উপকৃত হয়। জনমতের প্রতিফলনের একমাত্র উপায় হলো নির্বাচন। নিবাচনে অধিকাংশ যে মত দিবে সেটাই পরবর্তী নির্ধারিত সময় ধরে এই মতামতের প্রতিফলনের চেষ্টা করে শাসক দল। বিরোধী দলের নেতা সমর্থকরা শাসক দলের ভুলভ্রান্তি ধরে ,এসবের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করে। পরবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত জনমত তৈরি করতেই থাকে। নির্বাচনে নিজেদের মতামতের পক্ষে জনগণকে টানতে চেষ্টা করে।

তার মানে এই নয় যে শাসক দল সব মেনে নেবে। দলের কর্মসুচির পক্ষে জনমত সংগঠিত করতে হলে , শাসক দলকে বিরোধী দলের মতামত মেনে নেওয়ার জন্য বাধ্য করতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মিটিং , মিছিল , জনসভা . পথসভা , উঠান বৈঠক , লিফলেট বিতরণ . পোষ্টারিং , দেওয়াল লিখন, মশাল মিছিল , ধর্মঘট , হরতাল , অসহযোগ , মানববন্ধন, ঘেরাও , অবরোধ এর চর্চা হয়েছে। তবে যেভাবেই বলিনা কেন , জনগণের দাবী দাওয়া বা জনস্বার্থ কোন দলের কর্মসুচির অন্তর্ভুক্ত করতে ব্যর্থ হলে সে আন্দোলন সফল হয়না। আমাদের দেশে বর্তমান সময়ে চলমান আন্দোলনে মানুষের কোন বিষয় নাই। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি , তারেক রহমানের মিথ্যা (?) মামলা প্রত্যাহার এই দুই দাবী বাংলাদেশের মানুষের জীবনে কোন আবেদন সৃষ্টি করতে পারেনি , কোন সম্ভবনাও নাই। তার চেয়ে জমিজমার সার্ভে বা খাজনা দেওয়ার অনিয়ম দুর করার জন্য আন্দোলন , পেঁয়াজের বা ডিমের সিন্ডিকেট ভাঙ্গার জন্য আন্দোলন ঘেরাও বেশী কাজ দিত।

এই বিষয়গুলিতে মানুষ টানা যেতো। বিরতি দিয়ে শখের হরতাল আর অবরোধ এই ২টি অস্ত্র ভোঁতা হয়ে গেল। রাজনৈতিক আন্দোলনের এই ২টি অস্ত্রকে অকার্যকর করে ফেলার জন্য বিএনপিকে দায় বহন করতে হবে। এখন বিএনপির উচিত আন্দোলনের নুতন কোন কর্মপদ্ধতি আবিস্কার করা। তবে সেটা আবিস্কার করতে দেশে ইনোভেটিভ নেতা তৈরি করতে হবে। শুধু কর্মী দিয়ে তো দল চলবেনা , নেতাও প্রয়োজন।

ফেসবুক মন্তব্য

মতামত জানান :

সর্বশেষ খবর

ঠাকুরগাঁও রানীশংকৈলে স্বর্ণের মূর্তি দেখিয়ে প্রতারণায় আটক।
রংপুর 1 hour আগে

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে পিতার আঘাতে পুত্র নিহত।
অপরাধ 13 hours আগে

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে-১০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ আটক-১।
অপরাধ 18 hours আগে

রাজশাহীতে পিআইবির ৩ দিনব্যাপী এআই ও ফ্যাক্ট চেকিং প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত। 
তথ্য ও প্রযুক্তি 19 hours আগে

দিনাজপুরের কান্তজীউ মন্দিরে ২০০টি গাছের চারা রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন।
সারা বাংলা 20 hours আগে

সুনামগঞ্জে ভারতীয় কাতান শাড়ির বিশাল চালান জব্দ করেছে শহর পুলিশ।
আইন-বিচার 1 day আগে

দিনাজপুরে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন, দোষীদের গ্রেপ্তার ও শান্তি প্রতিষ্ঠার
আইন-বিচার 1 day আগে

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে জমি বিরোধে বোনকে পিটিয়ে আহতের অভিযোগ,মাথায় গুরুতর জখম।
অপরাধ 1 day আগে

দিনাজপুরে বৃক্ষরোপন অভিযান ও বৃক্ষমেলার শুভ উদ্বোধন।
রংপুর 1 day আগে

বগুড়ায় গাঁজা ও চোলাইমদসহ ২ জন আটক, ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা।
অপরাধ 2 days আগে

পাঠকপ্রিয়

শিরোনাম :

কুড়িগ্রামে ঐতিহাসিক আসনে কঠিন চ্যালেঞ্জে জাপা,মাঠ গরম এনসিপি-বিএনপির। হাদীর ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় দিনাজপুর সীমান্ত ৪২ বিজিবির রেড অ্যালার্ট জারি। রোহিঙ্গা মেয়েরা পাচার ছাড়াও বিদেশীদের দ্বারা যৌন কাজে ব্যবহারের টার্গেট হয়ে উঠছে ঠাকুরগাঁওয়ে নানা কর্মসূচিতে হানাদার মুক্ত দিবস উদযাপিত। ঠাকুরগাঁও জেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ৪র্থ জেলা রোভার মুট-২০২৫। কুড়িগ্রামের রাজারহাটে প্রাণিসম্পদ সপ্তাহের প্রদর্শনী ও সমাপনী অনুষ্ঠিত। পার্বতীপুরে জাতীয় প্রাণি সম্পদ ও ডেইরি প্রকল্পের উদ্বোধন। রাণীশংকৈলে জাতীয় প্রাণীসম্পদ সপ্তাহ ও প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত পলাতক শেখ হাসিনার অগ্রণী ব্যাংকের লকার ভেঙে ৮৩২ ভরি স্বর্ণ জব্দ রাজশাহীতে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১০ জন ৩ ডিসেম্বর রংপুরে বিভাগীয় মহাসমাবেশ সফল করতে দিনাজপুরে ৮ ইসলামী দলের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত। দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে সব বাহিনী প্রস্তুত: সিইসি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৬ হাজার কৃষক পাচ্ছে বিনামূল্যে গম বীজ ও সার। মাত্র চার মাসের শিশু সুমাইয়া বাঁচতে চায়! পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় হেফাজতে ইসলামের নতুন কমিটি গঠন। ভূমিকম্পে সম্ভাব্য ক্ষতি কমাতে এখনই শক্তিশালী ও সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে: সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান রাজধানীতে  আজ থেকে ঘরে বসেই মেট্রোরেলের কার্ড রিচার্জ করবেন? নীলফামারীতে পাটবীজ উৎপাদনকারী চাষীদের প্রশিক্ষণ। আর কোনো পরিস্থিতি নেই যে নির্বাচন ব্যাহত হবে-ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল  ৫-বছরেও শেষ হয়নি ওয়াশব্লকের নির্মাণ কাজ-জনস্বাস্থ্য অফিস বলছেন বাদ দেন চা খাওয়ার জন্য কিছু নেন। পার্বতীপুরে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকারের দাবীতে কর্মী সভা। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় নদী বাঁচাও আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নাগরিক সমাবেশ। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ইউএনও এক গৃহহীন ভারসাম্যহীন নারীর পাশে দাঁড়ালো। ৮ দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর নার্সিং এসোসিয়েশন দিনাজপুর জেলা শাখার স্মারকলিপি ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে ইউনিয়ন সিএসওর লাইভস্টক সংলাপ সভা অনুষ্ঠিত বগুড়ায় প্রেম করে বিয়ে অতপর ভাড়া বাসায় স্ত্রীকে হত্যা করল স্বামী। দিনাজপুরে ৩ দিনব্যাপী উদ্যোক্তা মেলা ও পিঠা উৎসবের সমাপনী। দিনাজপুরের বিরলে শতাধিক নেতা-কর্মীর মামলা থেকে বাঁচতে ফ্যাসিস্ট আ,লীগ থেকে পদত্যাগ! অভিযোগ দিয়ে ও কাজ বন্ধ হচ্ছে না আদমদিঘীতে সরকারি জায়গা দখল করে করা হচ্ছে অবকাঠামো নির্মাণ! বগুড়ার কইপাড়ায় নববধূ শম্পা হত্যার অভিযোগ, যৌতুক দাবির জেরে স্বামী আটক