নিউজ ডেক্স || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২২ আগস্ট, ২০২৬ ৭:১২ অপরাহ্ণ
ঠাকুরগাঁও নিশ্চিতপুর মৌজায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার জেলার সদর উপজেলায় ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি জরিপ কার্যক্রম সফল করণ সম্পর্কে ভূমি মালিকদের অবহিতকরণ সভাঅনুষ্ঠিত। 
উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আবুল হাছানাত হুমায়ুন কবীর, মহাপরিচালক, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর, তেজগাঁও, ঢাকা-১২০৮। শাজাহান আলি,জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার, দিনাজপুর। মোহাম্মদ রফিকুল হক,জেলা প্রশাসক, ঠাকুরগাঁও, এছাড়াও স্থানীয় ভূমি মালিকগণ ও সাংবাদ কর্মীরা। 
স্থান: আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয়, ঠাকুরগাঁও। তারিখ: ২২ আগস্ট ২০২৬ খ্রি.. রোজ: শনিবার, সকাল ১১ টায়পউক্ত আয়োজনে: জোনাল সেটেলমেন্ট অফিস, দিনাজপুর।
ভূমি মালিকের করণীয়:
১. ডিজিটাল পদ্ধতির (ইটিএস মেশিন এবং ড্রোন এর মাধ্যমে) জরিপ কাজ হবে বিধায় জরিপ কাজ শুরু হওয়ার পুর্বেই আপনার জমির আইল/সীমানা নির্ধারন করে রাখুন।
২. জরিপ এলাকায় জরিপ শুরু হওয়ার সাথে সাথে আপনার মালিকানাধীন জমির আইল/সীমানা জরিপকাজে নিয়োজিত সার্ভে টিমকে দেখিয়ে দিন। মনে রাখবেন আপনার দেখানো জমির আইল/সীমানার উপর নক্সার সঠিকতা নির্ভর করবে।
৩. জমির ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা)/নামজারি হাল নাগাদ করে রাখুন।
৪. খানাপুরি স্তরে নক্সা সম্পন্ন হওয়ার পর খতিয়ান প্রস্তুতকালে (খানাপুরি) ১৯৫০ সালের রাষ্ট্রিয় অধিগ্রহণ ও প্রাজস্বত্ব আইনের ১৪৪(৪) ধারায়, ১৯৫৫ সালের পূর্ববঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব বিধিমালা ২৬,২৭ এবং ১৯৩৫ সালের সার্ভে এন্ড সেটেলমেন্ট ম্যানুয়াল এর ২৯৪ বিধিতে এ স্তরে ভূমি মালিগকগণ তার জমির মালিকানা সম্পর্কিত কাগজপত্র অর্থাৎ পূর্ববর্তী রেকর্ড, দলিলপত্র, ভূমি উন্নয়ন কর প্রদানের দাখিলা, জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম সনদ, ওয়ারিশান সনদপত্র প্রভৃতি তথ্যসহ ভূমি মালিক অথবা তার প্রতিনিধি মাঠে হাজির থেকে সার্ভেয়ারকে দেখিয়ে সঠিক ভাবে তার নাম রেকর্ডভূক্ত করবেন।
৫. বুঝারত পর্যায়ে মাঠে প্রস্তুতকৃত খতিয়ান/মাঠ পর্চাটি সংগ্রহ করে আপনার নাম-ঠিকানা, জমির পরিমান, দাগ নম্বর, শ্রেণী এবং মালিকানা যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ হয়েছে কিনা তা মিলিয়ে নিন।
৬. আপনার মাঠ পর্চায় যে কোন সমস্যা হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত হল্কা (উপ-সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার) অফিসারের সাথে যোগাযোগ করুন। কোন অবস্থাতেই ৩য় কোন পক্ষ/টাউট/দালাল এর সাথে যোগাযোগ করবেন না।
৭. তসদিক স্তরে আপনার খতিয়ান/মাঠ পর্চাটি রাজস্ব অফিসার কর্তৃক তসদিককৃত (সত্যায়িত) করে নিন। খতিয়ান/মাঠ পর্চায় কোন ভুলভ্রান্তি পরিলক্ষিত হলে বিবাদ (dispute) দাখিল করে তসদিক অফিসার কর্তৃক তা সংশোধন করিয়ে নিন।
৮. তসদিক সমাপ্তির পর খসড়া প্রকাশনায় (ডিপি) খতিয়ান জনসাধারণের জন্য ৩০ দিন উন্মুক্ত রাখা হয়। ডিপি খতিয়ানের বিরুদ্ধে আপনার কোন আপত্তি থাকলে খসড়া প্রকশনায় (ডিপি) ৩০ দিনের মধ্যে ইবিটি রুলের ৩০ বিধি মোতাবেক খসড়া প্রকাশনা ক্যাম্পে আপত্তি দায়ের করতে পারবেন।
৯. আপত্তি অফিসারের রায়ে সংক্ষুব্ধ হলে ৩১ বিধি অনুযায়ী আপনি আপীল দায়ের করতে পারেন। তবে মনে রাখবেন আপীল স্তরই রেকর্ড প্রস্তুতের জন্য আপনাকে দেয়া সর্বশেষ সুযোগ। আপত্তি রায় প্রদানের ৩০ দিনের মধ্যে আপীল দায়ের না করলে আপনার আবেদনটি তামাদির কারণে অগ্রহণযোগ্য হবে।
১০. চূড়ান্ত প্রকাশনার সময় যদি মুদ্রিত রেকর্ডে কোন জালিয়াতি, করণিক ভুল, গাণিতিক ভুল, বা মুদ্রণজনিত ভুল থাকে তবে এস.এস. ম্যানুয়াল, ১৯৩৫ এর ৫৩৩/৫৩৪ বিধিতে এবং নক্সায় কোন ভুলের জন্য ৫৩৭ বিধিতে তা সংশোধনের জন্য চুড়ান্ত প্রকাশনা অফিসারের মাধ্যমে অথবা সরাসরি সেটেলমেন্ট অফিসারের নিকট আবেদন করা যায়। নক্সা ও পর্চাউ প্রিন্ট হয়ে চুড়ান্ত প্রকাশনা কালে সংশিষ্ট ক্যাম্প অফিস থেকে প্রতিটি পর্চা ১২০/- টাকা এবং প্রতিট নক্সার মূল্য বাবদ ৫২৫/- টাকা জমা দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পর্চা/নক্সা সংগ্রহ করতে পারেন। পরবর্তীতে পর্চা/নক্সা জেলা প্রশাসকের দপ্তরে হস্তান্তরিত হলে আপনি সেখান থেকেও সমপরিমান টাকা জমা দিয়ে পর্চা/নক্সা সংগ্রহ করতে পারবেন।
১১. গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও জেলা প্রশাসকসহ সংশিষ্ট সকলের নিকট হস্তান্তরিত চূড়ান্ত রেকর্ড এর বিরুদ্ধে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইবুনালে মামলা দায়ের করে প্রতিকার পাওয়া যাবে।
১২. জরিপ চলমান অবস্থায় খতিয়ানের ও ম্যাপের তথ্য জানার জন্য ও অনলাইন আপত্তি, আপীল কেস দায়ের করার বিষয়ে www.settlement.gov.bd ভিজিট করুন।
আয়োজন করেন: জোনাল সেটেলমেন্ট অফিস, দিনাজপুর। কিন্ত উক্ত ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি জরিপ কতটা সচ্ছতা বজায় থাকবে না নিয়ে আশাবাদী সাধারণ মানুষের। তবে আবুল হাছানাত হুমায়ুন কবীর, মহাপরিচালক, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর জানান এই জরিপে যদি কর্মকর্তা মাঠ পর্যায়ে জরিপের কাজে বিন্দু মাত্র দুর্নীতির উদ্দেশ্য প্রণোদিত করে তাহলে স্ব স্ব বিভাগে অভিযোগ দায়ের করতে সকালকে জানান।
তিনি বলেন কোন প্রকার অসৎ উদ্দেশ্য বা অনিয়ম দেখলে আপনারা জানাবেন। তিনি আরও বলেন সি এস ও এস এস এ রের্কড, ভায়া দলীল সহ জরিপ স্থানে উপস্থিত থাকার কথা জানান।
মোহাম্মদ রফিকুল হক,জেলা প্রশাসক, ঠাকুরগাঁও তিনি তার বক্তব্যে বলেন আপনাদের কোন অভিযোগ থাকলে সরাসরি আমাকে জানাবেন। তবে উপস্থিত সকলেই ভুমি সেটেল্ডম্যান্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করেছেন।