admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৩ জুলাই, ২০২৫ ৯:৩৭ পূর্বাহ্ণ
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হত্যা মামলার আসামি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে মাদক বিরোধী সমাবেশ করেছেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা প্রশাসন। সোমবার (৩০ জুন) সদর উপজেলা জগনাথপুর ইউনিয়নের বড় খোচাবাড়ি এলাকার বলাকা উদ্যানে এ দিনব্যাপী মাদক বিরোধী সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা হয়।
মাদক বিরোধী সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হত্যা মামলার আসামি ও রুহিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও রুহিয়া ইউনিয়ন পরিষদের আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম বাবু ও রুহিয়া থানা আওয়ামী লীগের তথ্য-প্রযুক্তি গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ঢোলারহাট ইউনিয়ন পরিষদের আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান অখিল চন্দ্র রায়, আউলিয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সচিন চন্দ্র, চিলারং ইউনিয়ন পরিষদের আওয়ামী সমর্থিত চেয়ারম্যান ফয়জুল রহমানসহ বেশ কয়েকজনকে দেখা যায়।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. খাইরুল ইসলামের সভাপতিত্বে মাদক বিরোধী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) ইশরাত ফারজানা, বিশেষ অতিথি পুলিশ সুপার (এসপি) শেখ জাহিদুল ইসলাম, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ারে আলম খান, ভুল্লী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম সরকার, রুহিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ. কে. এম. নাজমুল কাদের সহ ২২টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য, সচীব ও গ্রাম পুলিশের সদস্যরা। সমাবেশে তারাও বক্তব্য রাখেন।
খোকা নামে এক ব্যক্তি বলেন, আমার কাছে মনে হয়েছে এটি মাদক বিরোধী সমাবেশ নয়, এটি আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান-মেম্বারদের মিলন মেলা। এ সমাবেশটি করার আগে ইউএনওকে ভাবা উচিত ছিল। কারণ এই সমাবেশে যারা এসেছেন কয়েকজন ছাড়া বাকিরা জুলাই-আগস্টে আওয়ামী লীগের হয়ে ছাত্র-জনতা বিপক্ষে কাজ করেছে। তারমধ্যে কয়েকজন মামলার আসামিও ছিল। তারপরেও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদের নিয়ে একটি খাওয়া ও সমাবেশে কিভাবে করলেন? তিনি আরো বলেন জেলা প্রশাসক, ইউএনও হত্যা মামলার আসামিদের ব্যাপার অবগত নাও হতে পারে কিন্তু পুলিশ তো তাদের চিনেন, তারা কেন আসামিদের সাথে নিয়ে সমাবেশ করলেন আবার একই সাথে হাসি ঠাট্টা করতে করতে একই টেবিলে খাবার খেলেন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করলেন।
নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক আরেক ব্যক্তি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পার না হতেই আওয়ামী লীগের সক্রিয় নেতাদের নিয়ে এভাবে প্রকাশ্যে পুলিশ প্রশাসনের সাথে দেখা পাবো ভেবেই কস্টপাচ্ছি। আওয়ামী লীগের দোসরদের নিয়ে মাদক বিরোধী সমাবেশ করাটা কি খুবই দরকার ছিল তাদের। কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের তালিকায় নামের অনেক গরমিল দেখেছি। এরই মাঝে আওয়ামী লীগের দোসরদের নিয়ে প্রশাসনের এমন অনুষ্ঠানে আমরা হতাশাগ্রস্থ। এমনি আন্দোলনে গিয়ে পরিবারের কথা না শুনে ভুল করেছিলাম।
আহত হয়েছি দীর্ঘদিন বিছানায় ছিলাম, এবং আওয়ামী লীগের দোসরদের হুমকি ধামকিতে দিনরাত পার করেছি। আওয়ামী দোসরদের নিয়ে প্রশাসনের লোকজন এমন আয়োজন আওয়ামী লীগকে পূর্ণবাসন ছাড়া কিছুই না। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাইরুল ইসলাম বলেন, যাদের নাম বলা হচ্ছে তারা আসামি কিনা সেটা পুলিশ ও আদালত বলতে পারবে। আদালতে কোন কাগজ এখন পর্যন্ত উপজেলায় আসেনি। মানুষজন তাদের ভিন্নভাবে দেখছে, সরকার এখনো তাদের বহাল তবিয়তে রাখে তাহলে ইউএনও’র করার কিছু নাই।