নিউজ ডেক্স || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৯ অক্টোবর, ২০২৫ ১০:১২ পূর্বাহ্ণ
টিকেটে মাছ ধরাটা এখন ধনাঢ্যদের।ব্যাপারটা আমাদের রাষ্ট্রের অন্যান্য চলমান অনিয়মের মতই হচ্ছে।অজান্তেই আমরা সবকিছুর সাথে নিজেকে জড়িয়ে ফেলছি।
যেমন ধরুন লংকাষ্টিং রড-যেটা সাগরের পাড় থেকে দূরের ওয়েভ কাটার পযর্ন্ত ছুড়ে নেয়ার জন্য সার্ফ কাষ্টিং রড এবং লেকের কান্ট্রি সাইডের পাড় থেকে দূরের রিভার সাইডের খাড়ির কার্পকে টার্গেট করার জন্য স্পড রড তৈরী হয়েছে।
কিন্তু আপনি ব্যাবহার করছেন বলে আমিও এটা ব্যাবহার করছি।যেখানে দরকার নেই সেখানেও।আমরা খাড়িতে বসে ভাটিতেও মারছি।সবাই মারছে তাই।
যেমন পাউরুট- ডিম থেকে আমরা ছাতুর জগতে গেলাম।দেড়শ টাকার ছাতু ক্যামিকেল ছোঁয়া পেয়ে বার’শ টাকা পযর্ন্ত হয়ে থাকে এখন।হাতে বানানো ছাতু মাছে খায়না।
মাছের মণ সাইজ ভেদে এখনো বিশ বছর আগের দামেই আছে।কিন্তু বিখ্যাত জলাশয়ের লিজ অনিয়মতান্ত্রিক প্রতিযোগিতায় গিয়ে অন্তত দশগুণ বেড়ে গেল।ওয়ানডে টিকেটের হার কিছু কিছু জায়গায় ইউরোপগামী বিমানের টিকেটের সমান হয়ে গেল।
পাঁচশ টাকার ডিম সময় সময় তিন হাজার ছেড়ে যায়।যেটা ডলারের দাম বৃদ্ধির সাথে কোন সংযোগ নেই।পাশের সীটে যদি দু’কেজি নিয়ে বসে তাহলে আমার কম হলেতো মাছই হবেনা!এখন ওয়ানডেতে পাঁচ-দশ কেজি ফ্রেশ ডিম না হলে কি যেন নেই নেই জ্বর আসে আমাদের।
ছিপের সংখ্যা? সেতো বঙ্গবন্ধুর বিখ্যাত ভাষণের মত।যার যা কিছু আছে ছাতু,সাদা,হলুদ,ভাদিয়ান,রোজ,মিক্সার,আচার, কষ্টার্ড,ঘি,পনির,নারকেল পঁচা,ডাষ্ট,হাঁড়িয়া-আর কিরে কিরে…? ওওও মধু।আরো আইটেম লিখতে গেলে কেউ পড়বেনা।লেখা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হতে থাকবে।
ইদানিং সব চোরেই আরেকজনরে কয় চোর।মানে আমরা সবাই আইডোফম থেকে ক্লোরোফম যুগে চলে গেছি।আগে যারা এটার মজা নিয়েছে লুকিয়ে;তাদেরকে ভেলুলায় ভেলকি দেখাতে দেখেছি।এখন সবাই সব তলে তলে টেম্পু চড়ে-এখন আর কাজ করেনা এই মালটা।অনেক দামী আইডোফম মাষ্টারেরও শুকনা নেট নিয়ে বাড়ি ফিরতে দেখা যায় এখন।যেটা হয় সেটা নিছক মাছের খেয়াল খুশির উপর বা ভাগ্যের উপর নির্ভর করতে হয়।
আমি বাপু প্রথম দিককার প্রাইজ খেলা পাপী।১৯৯৬ এর পর লাকসাম থেকে ফেনী এমনকি নাটোর পযর্ন্ত যাওয়া পাবলিক।কোন কম্পিটিশন বাদ পড়তো কিনা সন্দেহ।কিন্তু এখনকার মনোপলি কন্ট্রোল করা প্রতিযোগিতার খরচ এবং কৃত্রিমতার সাথে শিকারের আর্টটাকে কোনমতেই মিলাতে পারিনা।তারসাথে যোগ হয়েছে জলাশয়ের তুলনায় অধ্যধিক ঘনত্বে টিকেট বসানোর ফলে পাশের সীটের সাথে অনিবার্য ঝগড়ার ভয়।এরকম দুটি ঘটনায় আমি এখন বিব্রত বোধ করি।
হ্যাঁ,শখটি আমার এখনো মরে যায়নি।আমি এখনো ফিশিং সরন্জাম সংগ্রহ করি।মাঝে মধ্যে নদী-সাগরে যাই।কোন ভাল ভ্যানুতে ভাল লাগার মানুষ গুলোকে দেখতে যাই।
শখতো একটাই ছাড়বো কেন?
আমরা নির্দিষ্ট এলাকার শিকারীরা একমত হলে অনেক অনিয়মই পাল্টে দিতে পারি।শুধুমাত্র অন্যকে দোষ না দিয়ে
নিজেকে সংশোধনের মাধ্যমে।আমি আমার এলাকার শিকারীগণদের নিয়ে একটি নতুন পথে এগুচ্ছি।যে সুন্দর পথটি একসময় আমরা এড়িয়ে গিয়ে বিপথে গেছি।সেই পুরনো শান্তির পথেই যাচ্ছি আমরা।